জামালপুরে সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ভোরে অফিসের সামনে বকুল গাছের নিচে দালাল চক্রের মাধ্যমে দলিল জমা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৫ জুন, বুধবার সকালে সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সাধারণ দলিল লেখকেরা এবং জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা একাধিক ব্যক্তি এ অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সাধারণ দলিল লেখক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত আছি। সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে আসছি। ইদানিং লক্ষ্য করছি কিছু অসাধু দলিল লেখকের সহকারীরা সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিস নিয়ন্ত্রণ করছেন। এদের হাত থেকে সাধারণ দলিল লেখকেরা রেহাই পেতে চায়। সাধারণ দলিল লেখকেরা সকাল ৮টার দিকে এসে কোন দলিল জমা দিতে পারে না। এতে করে সাধারণ মানুষের দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয় না।
সকালে দলিল জমা নেয়ার কারণে সাধারণ মানুষ জমি বিক্রি করতে বা জমি ক্রয় করতে এসে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দিনের দলিল দিনে করা সম্ভব হয় না। এতে করে সাধারণ মানুষের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। সকাল ৮টা বা ৯টার দিকে জমির দলিল জমা দিতে গেলে সাব রেজিস্ট্রার অফিস সহকারীরা দলিল জমা নেন না। তারা বলেন আজকের মত দলিল জমা নেয়া শেষ। সাব রেজিস্ট্রার সপ্তাহে চারদিন জামালপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বসেন। এই চারদিনে সব দলিল করা সম্ভব হয় না। এতে করে সরকার অনেক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানান তারা।
জমি বিক্রি করতে আসা একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, আমরা অনেক দূরদূরান্ত থেকে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে আসি জমি বিক্রি করার জন্য। এসে শুনি আজকে দলিল করা সম্ভব না। টাকার জন্য জমি বিক্রি করতে এসে যদি সময়মতো জমি বিক্রি করতে না পারি তাহলে জমি বিক্রি করে লাভ কি? আমরা কাজের মানুষ প্রতিদিন তো আর আসা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। সব কাজকর্ম ফেলে রেখে আমাদের আসতে হয়। আমরা যাতে দিনের দলিল দিনে করতে পারি সে-বিষয়ে সাব রেজিস্ট্রার মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
জামালপুর সদর সাব রেজিস্ট্রার মহসিন উদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, এই সরকারি অফিস সকাল ৯টার দিকে খোলা হয়। অফিসের কর্মচারীরা সকাল পৌনে ৯টা থেকে ৯টার মধ্যে অফিসে আসেন। দলিলগুলো সকাল ১০টার দিকে সাবমিট করে। আমি সকাল ১০টার দিকে এজলাসে বসি। বসার পর যে দলিলগুলো সাবমিট হয় আমি ধারাবাহিকতার সাথে সেই দলিলগুলোর কাজ করি।
সকালবেলা বা ভোরবেলা যে দলিল অফিসের বাইরে জমা নেয়া হয় সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমার জানা মতে এই অফিসের কোন কর্মচারী সেটা করার কথা নয়। যদি করে থাকে বা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকে তবে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া সকালে যদি দলিল লেখক বা কোন পক্ষ এসে অফিস কমপ্লেক্সের বাইরে দলিল জমা করে থাকে সেটার সাথে আমাদের অফিসের কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। অফিসের যে সময় আছে সেই সময়ের মধ্যে যে দলিলগুলো দাখিল হয় আমরা সেই সিরিয়াল অনুযায়ী কাজ করে শেষ করি।
মো. আলমগীর : নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর, বাংলারচিঠিডটকম 



















