ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিক নন, সমাজ ও সভ্যতার গভীর পর্যবেক্ষক ছিলেন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মির্জা ফখরুলসহ ১৫ জন পাচ্ছেন ‘আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’ মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকে তামাদি হতে দেবে না সরকার : তথ্যমন্ত্রী বিবাহের আগে ছেলে-মেয়ে থ্যালাসিমিয়ার বাহক কিনা তা জানা জরুরি : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো : নজরুল ইসলাম খান গাঁজা সেবনের দায়ে বাবা-ছেলেকে কারাদণ্ড জামালপুরে রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপিত হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে : আসাদুল হাবিব দুলু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

হাটচন্দ্রায় ছেলের হাতে মা খুন

জামালপুর : নিহত মনজিলা বেগম জিরার মরদেহ দেখতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বাড়ির উঠানে থাকা গাছ বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাকু ও বটি দা দিয়ে সবার সামনেই মা মনজিলা বেগম জিরাকে (৬৫) খুন করেছেন ছেলে মো. মনজু। ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামালপুর পৌরসভার হাটচন্দ্রা রেলঘুন্টি এলাকায় এই খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত মনজিলা বেগম স্থানীয় মো. কামরুল ইসলাম কামুর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী।

হামলাকারী মো. মনজুর হামলায় গুরুতর আহত গাছবেপারি শেখ ফরিদকে (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মো. মনজু (৪০) পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ছেলে মো. মনজু হলেন মনজিলা বেগম জিরার প্রথম স্বামী ইসলামপুর উপজেলার তোতা মিয়ার ঔরশজাত সন্তান। ৩০ বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এছাড়া ওই ছেলের হামলায় আহত গাছবেপারির নাম শেখ ফরিদ । তার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঝিনাই সেতু এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাকার অভাবে বাড়ির উঠানে থাকা লম্বু নামের একটি গাছ বিক্রি করেন মনজিলা বেগম। ১৫ এপ্রিল সকালে গাছক্রেতা শেখ ফরিদ ওই গাছটি কেটে নিতে আসেন। এ সময় মনজু গাছ কাটতে বাঁধা দিলে গাছবেপারির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো চাকু দিয়ে ওই গাছ বেপারির পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন মনজু। গাছবেপারিকে উদ্ধার করতে তার মা মনজিলা বেগম জিরা এগিয়ে এলে তাকেও চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে এবং বটি দা দিয়ে গলায় জবাইয়ের মতো আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই খুন হন তিনি।

এ সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে হামলাকারী মনজু পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় গাছবেপারি শেখ ফরিদকে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া খান মামুন এ প্রতিবেদককে বলেন, নিহত মনজিলা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে নিজের মাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছেলে মো. মনজুকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিক নন, সমাজ ও সভ্যতার গভীর পর্যবেক্ষক ছিলেন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

হাটচন্দ্রায় ছেলের হাতে মা খুন

আপডেট সময় ০৬:১৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

বাড়ির উঠানে থাকা গাছ বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাকু ও বটি দা দিয়ে সবার সামনেই মা মনজিলা বেগম জিরাকে (৬৫) খুন করেছেন ছেলে মো. মনজু। ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামালপুর পৌরসভার হাটচন্দ্রা রেলঘুন্টি এলাকায় এই খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত মনজিলা বেগম স্থানীয় মো. কামরুল ইসলাম কামুর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী।

হামলাকারী মো. মনজুর হামলায় গুরুতর আহত গাছবেপারি শেখ ফরিদকে (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মো. মনজু (৪০) পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ছেলে মো. মনজু হলেন মনজিলা বেগম জিরার প্রথম স্বামী ইসলামপুর উপজেলার তোতা মিয়ার ঔরশজাত সন্তান। ৩০ বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এছাড়া ওই ছেলের হামলায় আহত গাছবেপারির নাম শেখ ফরিদ । তার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঝিনাই সেতু এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাকার অভাবে বাড়ির উঠানে থাকা লম্বু নামের একটি গাছ বিক্রি করেন মনজিলা বেগম। ১৫ এপ্রিল সকালে গাছক্রেতা শেখ ফরিদ ওই গাছটি কেটে নিতে আসেন। এ সময় মনজু গাছ কাটতে বাঁধা দিলে গাছবেপারির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো চাকু দিয়ে ওই গাছ বেপারির পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন মনজু। গাছবেপারিকে উদ্ধার করতে তার মা মনজিলা বেগম জিরা এগিয়ে এলে তাকেও চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে এবং বটি দা দিয়ে গলায় জবাইয়ের মতো আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই খুন হন তিনি।

এ সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে হামলাকারী মনজু পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় গাছবেপারি শেখ ফরিদকে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া খান মামুন এ প্রতিবেদককে বলেন, নিহত মনজিলা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে নিজের মাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছেলে মো. মনজুকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।