ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ আগামী ১ জুন শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু : আইনমন্ত্রী ঘুষি মেরে অটোচালকের নাক ফাটিয়ে দিলেন ট্রাফিক পুলিশ বিধবা ইয়াসমিনকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে মাদারগঞ্জ উপজেলা যুবদল আইন সহায়তা ফাউন্ডেশনের বগারচর ইউনিয়ন শাখার কমিটি অনুমোদন বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার বিচার ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদরাসাশিক্ষার্থী কন্যাশিশু নিখোঁজ ঈদযাত্রায় রেলে বাড়তি চাপের মধ্যেও শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই : রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কৃষক গ্রেপ্তার

ওয়াশিংটনকে ডব্লিউএইচও থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের কারণগুলো খণ্ডন করে ওয়াশিংটনকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচও-এর সবচেয়ে বড় দাতা দেশ, এবং তাদের প্রস্থান সংস্থাটির বাজেট ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার সক্ষমতায় বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে উত্থাপিত যুক্তিগুলো একে একে পর্যালোচনা করেন। ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প এই আদেশটি স্বাক্ষর করেন। টেড্রোস প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

পুনর্বিবেচনার আহ্বান

ডব্লিউএইচও-এর নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে টেড্রোস বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্র এটি পুনর্বিবেচনা করবে।’

সংস্কার ও অর্থায়ন ইস্যু

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল যে, ডব্লিউএইচও জরুরি প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে টেড্রোস এই দাবির সঙ্গে একমত নন।

তিনি বলেন, গত সাত বছরে সংস্থাটি ‘এর ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর ও বিস্তৃত সংস্কার’ বাস্তবায়ন করেছে।

ট্রাম্পের আরেকটি অভিযোগ ছিল যে, ডব্লিউএইচও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘অযৌক্তিকভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে’। এর জবাবে টেড্রোস বলেন, সংস্থাটি তার দাতা ভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ডব্লিউএইচও-এর বাজেটের বড় অংশ স্বেচ্ছা অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। তবে সংস্থাটি চায়, এটি সাধারণ সদস্য ফি’য়ের মাধ্যমে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ হোক, যাতে বড় দাতাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো যায়।

কোভিড-১৯ সংকট ব্যবস্থাপনা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ছিল যে, ডব্লিউএইচও কোভিড-১৯ মহামারির ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে। তবে টেড্রোস জোর দিয়ে বলেন, সংস্থাটি শুরু থেকেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, চীনে ‘ভাইরাল নিউমোনিয়া’ ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক সংকেত পাওয়ার পরপরই ডব্লিউএইচও বিশ্বকে সতর্ক করেছে, গাইডলাইন প্রকাশ করেছে এবং জনগণকে সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।

টেড্রোস বলেন, ‘অবশ্যই পথচলায় চ্যালেঞ্জ ও দুর্বলতা ছিল।’ তবে তিনি জানান, এসব সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানডেমিক ফান্ড, এমআরএনএ প্রযুক্তি স্থানান্তর হাব এবং নতুন বৈশ্বিক মহামারি চুক্তি, যা ডব্লিউএইচও-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন

ট্রাম্পের আদেশে আরও অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ডব্লিউএইচও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ‘অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাব থেকে স্বাধীনতা প্রদর্শনে ব্যর্থ’ হয়েছে।

টেড্রোস বলেন, ডব্লিউএইচও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এবং সব দেশের সেবা দিতে চায়। তবে যখন কোনো দেশ এমন কিছু দাবি করে যা ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়, আমরা তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ওয়াশিংটনকে ডব্লিউএইচও থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান

আপডেট সময় ০৮:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের কারণগুলো খণ্ডন করে ওয়াশিংটনকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচও-এর সবচেয়ে বড় দাতা দেশ, এবং তাদের প্রস্থান সংস্থাটির বাজেট ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার সক্ষমতায় বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে উত্থাপিত যুক্তিগুলো একে একে পর্যালোচনা করেন। ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প এই আদেশটি স্বাক্ষর করেন। টেড্রোস প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

পুনর্বিবেচনার আহ্বান

ডব্লিউএইচও-এর নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে টেড্রোস বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্র এটি পুনর্বিবেচনা করবে।’

সংস্কার ও অর্থায়ন ইস্যু

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল যে, ডব্লিউএইচও জরুরি প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে টেড্রোস এই দাবির সঙ্গে একমত নন।

তিনি বলেন, গত সাত বছরে সংস্থাটি ‘এর ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর ও বিস্তৃত সংস্কার’ বাস্তবায়ন করেছে।

ট্রাম্পের আরেকটি অভিযোগ ছিল যে, ডব্লিউএইচও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘অযৌক্তিকভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে’। এর জবাবে টেড্রোস বলেন, সংস্থাটি তার দাতা ভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ডব্লিউএইচও-এর বাজেটের বড় অংশ স্বেচ্ছা অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। তবে সংস্থাটি চায়, এটি সাধারণ সদস্য ফি’য়ের মাধ্যমে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ হোক, যাতে বড় দাতাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো যায়।

কোভিড-১৯ সংকট ব্যবস্থাপনা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ছিল যে, ডব্লিউএইচও কোভিড-১৯ মহামারির ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে। তবে টেড্রোস জোর দিয়ে বলেন, সংস্থাটি শুরু থেকেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, চীনে ‘ভাইরাল নিউমোনিয়া’ ছড়িয়ে পড়ার প্রাথমিক সংকেত পাওয়ার পরপরই ডব্লিউএইচও বিশ্বকে সতর্ক করেছে, গাইডলাইন প্রকাশ করেছে এবং জনগণকে সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।

টেড্রোস বলেন, ‘অবশ্যই পথচলায় চ্যালেঞ্জ ও দুর্বলতা ছিল।’ তবে তিনি জানান, এসব সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানডেমিক ফান্ড, এমআরএনএ প্রযুক্তি স্থানান্তর হাব এবং নতুন বৈশ্বিক মহামারি চুক্তি, যা ডব্লিউএইচও-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন

ট্রাম্পের আদেশে আরও অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ডব্লিউএইচও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ‘অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাব থেকে স্বাধীনতা প্রদর্শনে ব্যর্থ’ হয়েছে।

টেড্রোস বলেন, ডব্লিউএইচও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এবং সব দেশের সেবা দিতে চায়। তবে যখন কোনো দেশ এমন কিছু দাবি করে যা ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়, আমরা তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করি।’