ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি জামালপুরে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু জামালপুরে মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী সোহেল রানা খানের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জমজমাট আয়োজনে ‘জামালপুর জেলা সমিতি অব নর্থ আমেরিকা ইনক’র অভিষেক অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে চরাঞ্চলের ২৩০ পরিবার পেল হাঁস-মুরগি জামালপুরে জেসমিন প্রকল্পের সেরা চর্চা বিষয়ক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত যমুনায় নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জানালো দেওয়ানগঞ্জবাসী

চোরাই গরুর মাংস দিয়েছে কসাই বজলু, দাবি বিএনপিনেতার ভাইয়ের, মুক্তা বহিষ্কার

জামালপুর : সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আলমগীর চৌধুরী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কৃষকের গরু চুরি করে মহিলাদলের কর্মীসমাবেশে ভূরিভোজের ঘটনা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপিনেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তার জ্যেষ্ঠ সহোদর আলমগীর চৌধুরী দাবি করেছেন, আমার ভাইয়ের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে চোরাই গরুর মাংস দিয়েছেন কসাই বজলু। ১২ জানুয়ারি রবিবার বিকালে জামালপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এই দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আলমগীর চৌধুরী বলেন, ১১ জানুয়ারি শনিবার সকালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কর্মীসভার নেতা-কর্মীদের খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল। এজন্য আমার ভাই মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা ৯ জানুয়ারি বিকালে স্থানীয় কসাই বজলুকে ডেকে ৭৬ কেজি গরুর মাংস দিতে বলেন। প্রতি কেজি ৬০০ টাকা করে মূল্য ধরে তাকে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ১০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি ষাড় গরু নিয়ে আসে কসাই বজলু। জবাই করে ৭৬ কেজি মাংস দেন। ২০ কেজি মাংস, মাথা ও চামড়া নিয়ে যান কসাই বজলু। তাকে আরও ৩০ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি যে কসাই বজলু গরুটি চুরি করে নিয়ে এসেছে। কসাই বজলু রাস্তায় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে এখন আমার ভাইয়ের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আলমগীর চৌধুরী আরও বলেন, আমার ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসন আমলের আওয়ামী লীগের লুটপাটকারীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। আমার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে গরু চুরির অপবাদ ও গরু চুরির অভিযোগে থানায় মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমার পরিবারের সম্মানহানির সুষ্ঠু বিচার ও মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা এবং তার স্ত্রী জেলা মহিলা দলের অর্থ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক লায়লা খাতুন ইতির বিরুদ্ধে মহিলাদলের কর্মীসভায় ভূরিভোজের জন্য কৃষকের গরু চুরির অভিযোগ উঠে। সেই ঘটনায় মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তাসহ ১২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার আসামি কসাই বজলু ও তার সহযোগী সুমনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলা দায়েরের পর বিএনপিনেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা ও কৃষকের গরু চুরির ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। কৃষকের গরু চুরি করে দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য ভূরিভোজের ঘটনাটি জানাজানি হলে এ নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়।

এদিকে কৃষকের গরু চুরি করে দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য ভূরিভোজ আয়োজনের ঘটনাটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও বেশ নাড়া দিয়েছে। ১২ জানুয়ারি রবিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি বিএনপিনেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করেছে।

বহুল আলোচিত বিএনপিনেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তাকে দেওয়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়েছে, আপনার (মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা) বিরুদ্ধে দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আপনাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিষ্কার করা হল। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

চোরাই গরুর মাংস দিয়েছে কসাই বজলু, দাবি বিএনপিনেতার ভাইয়ের, মুক্তা বহিষ্কার

আপডেট সময় ০৯:২৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৫

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কৃষকের গরু চুরি করে মহিলাদলের কর্মীসমাবেশে ভূরিভোজের ঘটনা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপিনেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তার জ্যেষ্ঠ সহোদর আলমগীর চৌধুরী দাবি করেছেন, আমার ভাইয়ের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে চোরাই গরুর মাংস দিয়েছেন কসাই বজলু। ১২ জানুয়ারি রবিবার বিকালে জামালপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এই দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আলমগীর চৌধুরী বলেন, ১১ জানুয়ারি শনিবার সকালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কর্মীসভার নেতা-কর্মীদের খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল। এজন্য আমার ভাই মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা ৯ জানুয়ারি বিকালে স্থানীয় কসাই বজলুকে ডেকে ৭৬ কেজি গরুর মাংস দিতে বলেন। প্রতি কেজি ৬০০ টাকা করে মূল্য ধরে তাকে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ১০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি ষাড় গরু নিয়ে আসে কসাই বজলু। জবাই করে ৭৬ কেজি মাংস দেন। ২০ কেজি মাংস, মাথা ও চামড়া নিয়ে যান কসাই বজলু। তাকে আরও ৩০ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি যে কসাই বজলু গরুটি চুরি করে নিয়ে এসেছে। কসাই বজলু রাস্তায় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে এখন আমার ভাইয়ের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আলমগীর চৌধুরী আরও বলেন, আমার ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসন আমলের আওয়ামী লীগের লুটপাটকারীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। আমার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে গরু চুরির অপবাদ ও গরু চুরির অভিযোগে থানায় মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমার পরিবারের সম্মানহানির সুষ্ঠু বিচার ও মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা এবং তার স্ত্রী জেলা মহিলা দলের অর্থ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক লায়লা খাতুন ইতির বিরুদ্ধে মহিলাদলের কর্মীসভায় ভূরিভোজের জন্য কৃষকের গরু চুরির অভিযোগ উঠে। সেই ঘটনায় মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তাসহ ১২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার আসামি কসাই বজলু ও তার সহযোগী সুমনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলা দায়েরের পর বিএনপিনেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা ও কৃষকের গরু চুরির ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। কৃষকের গরু চুরি করে দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য ভূরিভোজের ঘটনাটি জানাজানি হলে এ নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়।

এদিকে কৃষকের গরু চুরি করে দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য ভূরিভোজ আয়োজনের ঘটনাটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতেও বেশ নাড়া দিয়েছে। ১২ জানুয়ারি রবিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি বিএনপিনেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করেছে।

বহুল আলোচিত বিএনপিনেতা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তাকে দেওয়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়েছে, আপনার (মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা) বিরুদ্ধে দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আপনাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিষ্কার করা হল। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।