ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরিষাবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো শত বছরের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতা। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ১৭টি দৌড়ের ঘোড়া নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় প্রতিযোগীরা। ঘোড়দৌড় উপলক্ষে মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

২০ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকালে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের মাজালিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠে ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে মাজালিয়া গ্রামবাসী।

ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় দেখতে নানা শ্রেণি ও পেশার বয়সের হাজার হাজার নারী-পুরুষ মাঠের দুই পাশে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন।

এ উপলক্ষে উৎসবের সাজে সাজিয়ে তোলা হয় ঘোড় দৌড়ের মাঠ ও আশপাশের এলাকাকে। এ উপলক্ষে এলাকায় বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় হরেক রকম পসরা সাজিয়ে বসে দোকানীরা।

ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতায় চার ক্যাটাগরিতে ১৭টি দৌড়ের ঘোড়া অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার ঘোড়াগুলোর নাম ছিল— কদম ফুল, যুবরাজ, লালচান, হানিফ, বঙ্গবীর, সাত ভাই, বনফুল, দুই ভাই, অগ্রদূত, বাহাদুর, সাদামাটি, টর্নেডো, গোলাম মস্তুফা, লাল গোলাপ, মামা ভাগ্না, রঞ্জিত, জালালী, ইমু, সোনার ময়না পাখি ও পবন। প্রথম রাউন্ডের বাছাই শেষে সেরা চারটি ঘোড়া নিয়ে ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়।

ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শক।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

ফাইনালে চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে কবির হোসেনের ঘোড়াটি। বিজয়ী ঘোড়ার মালিককে একটি ফ্রিজ উপহার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে পুরস্কার হিসেবে ৩৬ ইঞ্চি একটি টেলিভিশন দেওয়া হয়।

ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শকরা জানান, দীর্ঘদিন পরে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে পেয়ে খুশি তারা। প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজনের দাবি তাদের।

প্রতিযোগিতারা বলেন, আয়োজন অনেক সুন্দর ছিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আগত মানুষদের বিনোদন দিতে পেয়ে খুশি তারাও।

আয়োজক কমিটির সভাপতি দুলাল মিয়া বলেন, যুব সমাজকে মাদকমুক্ত ও ঘোড়দৌড় নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন। তিনি আরও বলেন, ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের মনে ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়ার প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ তৈরি করবে বলে মনে করেন আয়োজকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১০:১২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো শত বছরের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতা। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ১৭টি দৌড়ের ঘোড়া নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় প্রতিযোগীরা। ঘোড়দৌড় উপলক্ষে মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

২০ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকালে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের মাজালিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠে ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে মাজালিয়া গ্রামবাসী।

ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় দেখতে নানা শ্রেণি ও পেশার বয়সের হাজার হাজার নারী-পুরুষ মাঠের দুই পাশে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন।

এ উপলক্ষে উৎসবের সাজে সাজিয়ে তোলা হয় ঘোড় দৌড়ের মাঠ ও আশপাশের এলাকাকে। এ উপলক্ষে এলাকায় বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় হরেক রকম পসরা সাজিয়ে বসে দোকানীরা।

ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতায় চার ক্যাটাগরিতে ১৭টি দৌড়ের ঘোড়া অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার ঘোড়াগুলোর নাম ছিল— কদম ফুল, যুবরাজ, লালচান, হানিফ, বঙ্গবীর, সাত ভাই, বনফুল, দুই ভাই, অগ্রদূত, বাহাদুর, সাদামাটি, টর্নেডো, গোলাম মস্তুফা, লাল গোলাপ, মামা ভাগ্না, রঞ্জিত, জালালী, ইমু, সোনার ময়না পাখি ও পবন। প্রথম রাউন্ডের বাছাই শেষে সেরা চারটি ঘোড়া নিয়ে ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়।

ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শক।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

ফাইনালে চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে কবির হোসেনের ঘোড়াটি। বিজয়ী ঘোড়ার মালিককে একটি ফ্রিজ উপহার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে পুরস্কার হিসেবে ৩৬ ইঞ্চি একটি টেলিভিশন দেওয়া হয়।

ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শকরা জানান, দীর্ঘদিন পরে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে পেয়ে খুশি তারা। প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজনের দাবি তাদের।

প্রতিযোগিতারা বলেন, আয়োজন অনেক সুন্দর ছিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আগত মানুষদের বিনোদন দিতে পেয়ে খুশি তারাও।

আয়োজক কমিটির সভাপতি দুলাল মিয়া বলেন, যুব সমাজকে মাদকমুক্ত ও ঘোড়দৌড় নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন। তিনি আরও বলেন, ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের মনে ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়ার প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ তৈরি করবে বলে মনে করেন আয়োজকেরা।