ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে মারধর, চিকিৎসক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি

কর্মবিরতি দিয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চিকিৎসকের অবহেলায় রজব আলী (৪৫) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যুর অভিযোগে এক চিকিৎসককে মারধর করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভর্তিরত রোগীরা। এছাড়াও আগত রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে অন্যত্র ফিরে যাচ্ছেন।

জানা যায়, সোমবার ২৮ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে বুকে ব্যাথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন রিকশাচালক পৌর এলাকার চরকাউরিয়া সীমারপাড় গ্রামের বাসু মিয়ার ছেলে রজব আলী।

এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে রজব আলীর স্বজন ও স্থানীয় এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠে।

এসময় রজব আলীর স্বজন ও তাদের লোকজন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসমা লাবনীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকে মারধর করেন।

মৃত রজব আলীর ছেলে নূর আলম বলেন, আমার বাবার অবস্থা খারাপের দিকে গেলে কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসমা লাবনীকে ডাকা হলে তিনি আসেন নি। এক পর্যায়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এ ব্যাপারে আরএমও ডা. আসমা লাবনী বলেন, রোগীর অবস্থা আগে থেকে খারাপ থাকায় তাকে রেফার্ড করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনরা আর্থিক সংকটের কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখানে রোগীর চিকিৎসায় কোন অবহেলা হয় নি।

এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সকাল থেকে অর্নিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মরত সকল চিকিৎসক ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স এবং কর্মচারীবৃন্দ। হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীরা জানান, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। চিকিৎসক কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তা না পেলে তারা কিভাবে কাজ করবেন। তাই দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, একজন নারী চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় আমরা বসে থাকতে পারি না। আমাদের দাবি মানা না হলে কর্মবিরতি চলতেই থাকবে। আমরা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করব।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, সোমবার হাসপাতালের চিকিৎসকের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে মারধর, চিকিৎসক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি

আপডেট সময় ০৬:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চিকিৎসকের অবহেলায় রজব আলী (৪৫) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যুর অভিযোগে এক চিকিৎসককে মারধর করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভর্তিরত রোগীরা। এছাড়াও আগত রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে অন্যত্র ফিরে যাচ্ছেন।

জানা যায়, সোমবার ২৮ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে বুকে ব্যাথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন রিকশাচালক পৌর এলাকার চরকাউরিয়া সীমারপাড় গ্রামের বাসু মিয়ার ছেলে রজব আলী।

এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে রজব আলীর স্বজন ও স্থানীয় এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠে।

এসময় রজব আলীর স্বজন ও তাদের লোকজন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসমা লাবনীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকে মারধর করেন।

মৃত রজব আলীর ছেলে নূর আলম বলেন, আমার বাবার অবস্থা খারাপের দিকে গেলে কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসমা লাবনীকে ডাকা হলে তিনি আসেন নি। এক পর্যায়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এ ব্যাপারে আরএমও ডা. আসমা লাবনী বলেন, রোগীর অবস্থা আগে থেকে খারাপ থাকায় তাকে রেফার্ড করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনরা আর্থিক সংকটের কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখানে রোগীর চিকিৎসায় কোন অবহেলা হয় নি।

এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সকাল থেকে অর্নিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মরত সকল চিকিৎসক ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স এবং কর্মচারীবৃন্দ। হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীরা জানান, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। চিকিৎসক কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তা না পেলে তারা কিভাবে কাজ করবেন। তাই দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, একজন নারী চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় আমরা বসে থাকতে পারি না। আমাদের দাবি মানা না হলে কর্মবিরতি চলতেই থাকবে। আমরা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করব।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, সোমবার হাসপাতালের চিকিৎসকের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।