ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

র‌্যাবের অভিযান : শেরপুরে ধর্ষণের দায়ে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেল পলাতক কয়েদি শামীম গ্রেপ্তার

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার জেল পলাতক কয়েদি শামীম মিয়া। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার জেল পলাতক কয়েদি শামীম মিয়া। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুর জেলা কারাগার থেকে পলাতক ধর্ষণ মামলার ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত কয়েদি শামীম মিয়া র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বয়স ২২ বছর। শেরপুর জেলার নকল উপজেলার ভুরদী গ্রামের নয়াপাড়া গ্রামের নওশেদ আলীর ছেলে তিনি। র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুরের একটি আভিযানিক দল ১২ সেপ্টেম্বর রাতে এ অভিযান পরিচালনা করেন। র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে কয়েক হাজার দুষ্কৃতিকারী শেরপুর জেলা কারাগারে আক্রমণ করে। এ সময় আক্রমণকারীরা বিবিধ স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি সাধনসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বিভিন্ন মামলার প্রায় পাঁচ শতাধিক কয়েদিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

জেল থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর কোম্পানি, শেরপুর জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এবং শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা পলাতক কয়েদিদের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে আসছে র‌্যাব-১৪। ইতিমধ্যে পলাতক আসামিদের কয়েকজন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

র‌্যাব সূত্র জানায়, জেল পলাতক কয়েদি (নং-৭০৪২/এ) শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১) ধারায় শেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মামলার (নং ১৯৯/১৯) রায়ে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। ৫ আগস্ট শেরপুর জেলা কারাগারে দুষ্কৃতিকারীদের আক্রমণের সময় অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে তিনিও পালিয়ে এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন।

এদিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেল পলাতক কয়েদি শামীম মিয়ার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল। অভিযানের সময় রাত পৌনে ২টার দিকে কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এবং স্কোয়াড কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ টি এম আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে র‌্যাবের দলটি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ভুরদী নয়াপাড়া গ্রাম থেকে কয়েদি শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য তাকে শেরপুর জেলার নকলা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শামীম মিয়া ৫ আগস্ট শেরপুর জেলা কারাগারে দুষ্কৃতিকারীদের আক্রমণের ঘটনার দিন অন্যান্য কয়েদিদের সাথে কৌশলে কারাগার থেকে পালিয়ে শেরপুর জেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। জেল পলাতক এসব হাজতি ও কয়েদিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র‌্যাবের জোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, র‌্যাব তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, হত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। র‌্যাব-১৪ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় হত্যার মত জঘন্য অপরাধ কর্মকাণ্ড দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব ফোর্সেস অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সমাজ ও দেশকে বাঁচাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের অভিযান : শেরপুরে ধর্ষণের দায়ে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেল পলাতক কয়েদি শামীম গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১১:৪৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার জেল পলাতক কয়েদি শামীম মিয়া। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুর জেলা কারাগার থেকে পলাতক ধর্ষণ মামলার ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত কয়েদি শামীম মিয়া র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বয়স ২২ বছর। শেরপুর জেলার নকল উপজেলার ভুরদী গ্রামের নয়াপাড়া গ্রামের নওশেদ আলীর ছেলে তিনি। র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুরের একটি আভিযানিক দল ১২ সেপ্টেম্বর রাতে এ অভিযান পরিচালনা করেন। র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে কয়েক হাজার দুষ্কৃতিকারী শেরপুর জেলা কারাগারে আক্রমণ করে। এ সময় আক্রমণকারীরা বিবিধ স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি সাধনসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বিভিন্ন মামলার প্রায় পাঁচ শতাধিক কয়েদিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

জেল থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর কোম্পানি, শেরপুর জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এবং শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা পলাতক কয়েদিদের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে আসছে র‌্যাব-১৪। ইতিমধ্যে পলাতক আসামিদের কয়েকজন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

র‌্যাব সূত্র জানায়, জেল পলাতক কয়েদি (নং-৭০৪২/এ) শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১) ধারায় শেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মামলার (নং ১৯৯/১৯) রায়ে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। ৫ আগস্ট শেরপুর জেলা কারাগারে দুষ্কৃতিকারীদের আক্রমণের সময় অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে তিনিও পালিয়ে এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন।

এদিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেল পলাতক কয়েদি শামীম মিয়ার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল। অভিযানের সময় রাত পৌনে ২টার দিকে কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে এবং স্কোয়াড কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ টি এম আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে র‌্যাবের দলটি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ভুরদী নয়াপাড়া গ্রাম থেকে কয়েদি শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য তাকে শেরপুর জেলার নকলা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শামীম মিয়া ৫ আগস্ট শেরপুর জেলা কারাগারে দুষ্কৃতিকারীদের আক্রমণের ঘটনার দিন অন্যান্য কয়েদিদের সাথে কৌশলে কারাগার থেকে পালিয়ে শেরপুর জেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। জেল পলাতক এসব হাজতি ও কয়েদিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র‌্যাবের জোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, র‌্যাব তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, হত্যা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। র‌্যাব-১৪ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় হত্যার মত জঘন্য অপরাধ কর্মকাণ্ড দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব ফোর্সেস অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সমাজ ও দেশকে বাঁচাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।