ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত আইনজীবীর কার্যালয় থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক উদ্ধার এক শিক্ষকেই চলছে পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সামছুল হুদার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মাদারগঞ্জে সাপে কাটা নারীর মৃত্যু, স্বাস্থ্যকর্মীর উপর হামলা জামালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত জামালপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান খোকা স্মরণে দোয়া মাহফিল গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে ইউপি সদস্যসহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড বকশীগঞ্জে অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে মৃত দুই গ্রাহকের নমিনির হাতে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

মেলান্দহে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ৭, বাড়িঘর, আসবাবপত্র ভাংচুর

মোকছেদ আলীর বাড়িতে আসবাবপত্র ভাংচুর ও অন্যান্য মালামাল তছনছ করে হামলাকারীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

হামলায় আহত মোকছেদ আলী, তার স্ত্রী রুবি বেগম ও ছেলে রবিন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে একটি নিরীহ পরিবারের স্বজনদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা জামালপুর ও ময়মনসিংহের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

১৩ এপ্রিল মেলান্দহ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারইপাড়া গ্রামে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় নেতৃত্বদানকারী স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বর ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবরকে প্রধান আসামিসহ ১৭ জনকে আসামি করে মেলান্দহ থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোকছেদ আলীর মেয়ে মৌসমী আক্তার।

অভিযোগে জানা গেছে, মেলান্দহ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারইপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক মোকছেদ আলী ও তার স্বজনদের সাথে প্রতিপক্ষ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর ও তার স্বজনদের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। ১৩ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে মোকছেদ আলীর ছেলে অটোরিকশাচালক রবিন মিয়া তাদের বাড়ির সামনে রাস্তায় অটোরিকশা রেখে অন্য অটোরিকশাচালকের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রভাবশালী আলী আকবর রাস্তায় অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখার অজুহাত তুলে রবিন মিয়াকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আলী আকবর সেখান থেকে চলে যান। এর ঠিক ১০ মিনিট পর আলী আকবরের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক মোকছেদ আলী ও তার মেয়ে মৌসমী আক্তারের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে টিনের বেড়া ও ঘরে থাকা যাবতীয় আসবাবপত্র ভাংচুর ও অন্যান্য মালামাল তছনছ করে অন্ততপক্ষে এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।

মোকছেদ আলীর বাড়িতে আসবাবপত্র ভাংচুর ও অন্যান্য মালামাল তছনছ করে হামলাকারীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

এ সময় প্রভাবশালী আলী আকবরের নেতৃত্বে অন্তত ২০/২৫ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোকছেদ আলী ও তার পরিবারের স্বজনদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় মোকছেদ আলী, তার স্ত্রী রুবি বেগম, ছেলে রবিউল ইসলাম, রবিন মিয়া, মোকছেদ আলীর ভাই মোজাম্মেল শেখ, মোকছেদ আলীর মেয়ে মৌসুমী আক্তারের স্বামী ছানোয়ার ইসলাম এবং মোকছেদ আলীর ভাতিজা বিল্লাল শেখ গুরুতর আহত হন। ঘটনার রাতেই তাদের সবাইকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলাম ও ছানোয়ার হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গুরুতর আহতরা সবাই দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোকছেদ আলীর মেয়ে মৌসমী আক্তার বাদী হয়ে ১৪ এপ্রিল সকালে মেলান্দহ থানায় মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওই অভিযোগে হামলার নেতৃত্বদানকারী বারইপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী আলী আকবরকে প্রধান বিবাদী করা হয়েছে। এতে অন্যান্য বিবাদীরা হলেন একই গ্রামের সুজন মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মো. শফিক, মো. কাইকুবাদ, মো. রিফাত, বক্কর, আরিফ মিয়া, আতিক, আল আমিন, রিমন, মো. শাখাওয়াত, হেলাল উদ্দিন, মিহাদ, মাসুদ, সৌরভ ও মোছা. আখি।

মেলান্দহ থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহাম্মদ এ প্রতিবেদককে বলেন, মেলান্দহ পৌরসভার বারইপাড়া গ্রামের মোকছেদ আলীর বাড়িতে হামলা ও তার স্বজনদের মারধরের ঘটনায় তার মেয়ে মৌসমী আক্তার থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তার অভিযোগ তদন্ত করে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মেলান্দহে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ৭, বাড়িঘর, আসবাবপত্র ভাংচুর

আপডেট সময় ১১:২২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪
হামলায় আহত মোকছেদ আলী, তার স্ত্রী রুবি বেগম ও ছেলে রবিন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে একটি নিরীহ পরিবারের স্বজনদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা জামালপুর ও ময়মনসিংহের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

১৩ এপ্রিল মেলান্দহ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারইপাড়া গ্রামে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় নেতৃত্বদানকারী স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বর ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবরকে প্রধান আসামিসহ ১৭ জনকে আসামি করে মেলান্দহ থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোকছেদ আলীর মেয়ে মৌসমী আক্তার।

অভিযোগে জানা গেছে, মেলান্দহ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারইপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক মোকছেদ আলী ও তার স্বজনদের সাথে প্রতিপক্ষ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর ও তার স্বজনদের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। ১৩ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে মোকছেদ আলীর ছেলে অটোরিকশাচালক রবিন মিয়া তাদের বাড়ির সামনে রাস্তায় অটোরিকশা রেখে অন্য অটোরিকশাচালকের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রভাবশালী আলী আকবর রাস্তায় অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখার অজুহাত তুলে রবিন মিয়াকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আলী আকবর সেখান থেকে চলে যান। এর ঠিক ১০ মিনিট পর আলী আকবরের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক মোকছেদ আলী ও তার মেয়ে মৌসমী আক্তারের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে টিনের বেড়া ও ঘরে থাকা যাবতীয় আসবাবপত্র ভাংচুর ও অন্যান্য মালামাল তছনছ করে অন্ততপক্ষে এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।

মোকছেদ আলীর বাড়িতে আসবাবপত্র ভাংচুর ও অন্যান্য মালামাল তছনছ করে হামলাকারীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

এ সময় প্রভাবশালী আলী আকবরের নেতৃত্বে অন্তত ২০/২৫ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোকছেদ আলী ও তার পরিবারের স্বজনদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় মোকছেদ আলী, তার স্ত্রী রুবি বেগম, ছেলে রবিউল ইসলাম, রবিন মিয়া, মোকছেদ আলীর ভাই মোজাম্মেল শেখ, মোকছেদ আলীর মেয়ে মৌসুমী আক্তারের স্বামী ছানোয়ার ইসলাম এবং মোকছেদ আলীর ভাতিজা বিল্লাল শেখ গুরুতর আহত হন। ঘটনার রাতেই তাদের সবাইকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলাম ও ছানোয়ার হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গুরুতর আহতরা সবাই দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোকছেদ আলীর মেয়ে মৌসমী আক্তার বাদী হয়ে ১৪ এপ্রিল সকালে মেলান্দহ থানায় মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওই অভিযোগে হামলার নেতৃত্বদানকারী বারইপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী আলী আকবরকে প্রধান বিবাদী করা হয়েছে। এতে অন্যান্য বিবাদীরা হলেন একই গ্রামের সুজন মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মো. শফিক, মো. কাইকুবাদ, মো. রিফাত, বক্কর, আরিফ মিয়া, আতিক, আল আমিন, রিমন, মো. শাখাওয়াত, হেলাল উদ্দিন, মিহাদ, মাসুদ, সৌরভ ও মোছা. আখি।

মেলান্দহ থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহাম্মদ এ প্রতিবেদককে বলেন, মেলান্দহ পৌরসভার বারইপাড়া গ্রামের মোকছেদ আলীর বাড়িতে হামলা ও তার স্বজনদের মারধরের ঘটনায় তার মেয়ে মৌসমী আক্তার থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তার অভিযোগ তদন্ত করে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।