ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত আইনজীবীর কার্যালয় থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক উদ্ধার এক শিক্ষকেই চলছে পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সামছুল হুদার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মাদারগঞ্জে সাপে কাটা নারীর মৃত্যু, স্বাস্থ্যকর্মীর উপর হামলা জামালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত জামালপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান খোকা স্মরণে দোয়া মাহফিল গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে ইউপি সদস্যসহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড বকশীগঞ্জে অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে মৃত দুই গ্রাহকের নমিনির হাতে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

৬৭ বছর বয়সে পরীক্ষা দিয়ে বিজয়ের হাসি আবুল কালামের

আবুল কালাম আজাদ

আবুল কালাম আজাদ

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: ৬৭ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন আবুল কালাম আজাদ। কিশোর-কিশোরীদের সাথে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিয়ে ২.৯৪ পেয়ে পাশ করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন তিনি। আবুল কালাম শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়নের লংগড়পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদ মন্ডলের ছেলে। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোশারফ হোসেন বলেন, আবুল কালাম আজাদ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার কোনো বয়স নেই। তার এই পথ চলা এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৯৭৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক কারণে পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি নিয়ে সৌদি আরব যান। সেখানে থাকেন দীর্ঘদিন। বাড়ি এসে সাংসারিক কাজের ফাঁকে শুরু করেন লেখালেখি। তার দাম্পত্য জীবনে তিন ছেলে। বড় ছেলে প্রফেসর। মেজো ছেলে কামিল পাশ ও ছোট ছেলে প্রকৌশলী। পুত্র বধূরাও শিক্ষিত।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, যেখানে যেতাম সেখানেই অনেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পরিচয় দিতো। তখন নিজেকে খুব ছোট মনে হতো। সেই থেকে ইচ্ছা তিনিও পড়ালেখা করবেন। শিক্ষিত হবেন। এ কারণে ছেলেদের সহযোগিতায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। শুরু করেন পড়ালেখা। এবার তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন।

খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া বলেন, তার এসএসসি পাশের খবর শুনে আমরাও খুশি। কারণ এ বয়সে তিনি পড়ালেখা করে পাশ করেছেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।

চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া আরো বলেন, আবুল কালাম আজাদ অসংখ্য কবিতা, ছড়া, উপন্যাস ও গান লিখেছেন। ইতোমধ্যে দেহদাহ ও দেশরত্ন নামে দুইটি কবিতার বই প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে তার লেখা কবিতার বই এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

৬৭ বছর বয়সে পরীক্ষা দিয়ে বিজয়ের হাসি আবুল কালামের

আপডেট সময় ০৯:২৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২
আবুল কালাম আজাদ

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: ৬৭ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন আবুল কালাম আজাদ। কিশোর-কিশোরীদের সাথে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিয়ে ২.৯৪ পেয়ে পাশ করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন তিনি। আবুল কালাম শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়নের লংগড়পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদ মন্ডলের ছেলে। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোশারফ হোসেন বলেন, আবুল কালাম আজাদ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার কোনো বয়স নেই। তার এই পথ চলা এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৯৭৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক কারণে পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি নিয়ে সৌদি আরব যান। সেখানে থাকেন দীর্ঘদিন। বাড়ি এসে সাংসারিক কাজের ফাঁকে শুরু করেন লেখালেখি। তার দাম্পত্য জীবনে তিন ছেলে। বড় ছেলে প্রফেসর। মেজো ছেলে কামিল পাশ ও ছোট ছেলে প্রকৌশলী। পুত্র বধূরাও শিক্ষিত।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, যেখানে যেতাম সেখানেই অনেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পরিচয় দিতো। তখন নিজেকে খুব ছোট মনে হতো। সেই থেকে ইচ্ছা তিনিও পড়ালেখা করবেন। শিক্ষিত হবেন। এ কারণে ছেলেদের সহযোগিতায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। শুরু করেন পড়ালেখা। এবার তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন।

খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া বলেন, তার এসএসসি পাশের খবর শুনে আমরাও খুশি। কারণ এ বয়সে তিনি পড়ালেখা করে পাশ করেছেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।

চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া আরো বলেন, আবুল কালাম আজাদ অসংখ্য কবিতা, ছড়া, উপন্যাস ও গান লিখেছেন। ইতোমধ্যে দেহদাহ ও দেশরত্ন নামে দুইটি কবিতার বই প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে তার লেখা কবিতার বই এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।