ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিজিবি’র অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে ভারতীয় মদসহ প্রাইভেট কার জব্দ, আটক ২ মাদারগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে মরে যাচ্ছে মরিচগাছ, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়ন ভারত সয়েল ফিভারে থাইল্যান্ডে ৫৭০ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৫ দীর্ঘ ৫ বছর পর ছেলের সাথে ফোনে কথা বললেন অং সান সু চি

৬৭ বছর বয়সে পরীক্ষা দিয়ে বিজয়ের হাসি আবুল কালামের

আবুল কালাম আজাদ

আবুল কালাম আজাদ

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: ৬৭ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন আবুল কালাম আজাদ। কিশোর-কিশোরীদের সাথে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিয়ে ২.৯৪ পেয়ে পাশ করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন তিনি। আবুল কালাম শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়নের লংগড়পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদ মন্ডলের ছেলে। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোশারফ হোসেন বলেন, আবুল কালাম আজাদ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার কোনো বয়স নেই। তার এই পথ চলা এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৯৭৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক কারণে পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি নিয়ে সৌদি আরব যান। সেখানে থাকেন দীর্ঘদিন। বাড়ি এসে সাংসারিক কাজের ফাঁকে শুরু করেন লেখালেখি। তার দাম্পত্য জীবনে তিন ছেলে। বড় ছেলে প্রফেসর। মেজো ছেলে কামিল পাশ ও ছোট ছেলে প্রকৌশলী। পুত্র বধূরাও শিক্ষিত।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, যেখানে যেতাম সেখানেই অনেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পরিচয় দিতো। তখন নিজেকে খুব ছোট মনে হতো। সেই থেকে ইচ্ছা তিনিও পড়ালেখা করবেন। শিক্ষিত হবেন। এ কারণে ছেলেদের সহযোগিতায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। শুরু করেন পড়ালেখা। এবার তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন।

খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া বলেন, তার এসএসসি পাশের খবর শুনে আমরাও খুশি। কারণ এ বয়সে তিনি পড়ালেখা করে পাশ করেছেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।

চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া আরো বলেন, আবুল কালাম আজাদ অসংখ্য কবিতা, ছড়া, উপন্যাস ও গান লিখেছেন। ইতোমধ্যে দেহদাহ ও দেশরত্ন নামে দুইটি কবিতার বই প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে তার লেখা কবিতার বই এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

৬৭ বছর বয়সে পরীক্ষা দিয়ে বিজয়ের হাসি আবুল কালামের

আপডেট সময় ০৯:২৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২
আবুল কালাম আজাদ

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: ৬৭ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন আবুল কালাম আজাদ। কিশোর-কিশোরীদের সাথে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিয়ে ২.৯৪ পেয়ে পাশ করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন তিনি। আবুল কালাম শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়নের লংগড়পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদ মন্ডলের ছেলে। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোশারফ হোসেন বলেন, আবুল কালাম আজাদ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার কোনো বয়স নেই। তার এই পথ চলা এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৯৭৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক কারণে পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি নিয়ে সৌদি আরব যান। সেখানে থাকেন দীর্ঘদিন। বাড়ি এসে সাংসারিক কাজের ফাঁকে শুরু করেন লেখালেখি। তার দাম্পত্য জীবনে তিন ছেলে। বড় ছেলে প্রফেসর। মেজো ছেলে কামিল পাশ ও ছোট ছেলে প্রকৌশলী। পুত্র বধূরাও শিক্ষিত।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, যেখানে যেতাম সেখানেই অনেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পরিচয় দিতো। তখন নিজেকে খুব ছোট মনে হতো। সেই থেকে ইচ্ছা তিনিও পড়ালেখা করবেন। শিক্ষিত হবেন। এ কারণে ছেলেদের সহযোগিতায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। শুরু করেন পড়ালেখা। এবার তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন।

খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া বলেন, তার এসএসসি পাশের খবর শুনে আমরাও খুশি। কারণ এ বয়সে তিনি পড়ালেখা করে পাশ করেছেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।

চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া আরো বলেন, আবুল কালাম আজাদ অসংখ্য কবিতা, ছড়া, উপন্যাস ও গান লিখেছেন। ইতোমধ্যে দেহদাহ ও দেশরত্ন নামে দুইটি কবিতার বই প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে তার লেখা কবিতার বই এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।