ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামপুরে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা, চলছে তুলির আঁচড়

দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে চলছে তুলির আঁচড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে চলছে তুলির আঁচড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরা। এবারেও প্রতিমাকে অপরুপ, সুন্দর করে তুলতে ব্যস্ত তারা।

উপজেলার ২০টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজা মন্ডপ ও মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পিদের এখন দম ফেলারও সময় নেই্। মাস দুয়েক আগ হতেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন প্রতিমা শিল্পীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হরিসভা পূজা মন্ডপে, নাওয়া খাওয়া ভুলে কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। নিপূণ আঁচড়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। নিজের সন্তানের মতো অতি ভালবাসায় মাটি দিয়ে তৈরি করছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, মহিষ, সিংহ ও শিবের মূর্তি। প্রতিবারের তুলনায় এবারেও বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় নতুনত্ব। এবারে প্রতিমা তৈরিতে রয়েছে বৈচিত্রের ছোঁয়া।

লক্ষণ মালাকার বলেন, বাশঁ ও খড় দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরির পর এখন চলছে রঙ তুলির কাজ। কঠোর পরিশ্রম করেও সঠিক পারিশ্রমিক না পাওয়ায় সারাটি বছর কষ্টে জীবন ধারণ করতে হয়। বাপ দাদার পেশা ধরে অন্যকোন কাজ না জানায় আমাদের সংসার চালাতে অনেক কাঠ খড় পুড়তে হয়। এবার ৫টি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। কারিগর নিয়ে নিজে খেটে পুষায় না।

লিটন মালাকার বলেন, প্রতিমা তৈরিতে তেমন রোজগার না থাকায় আমাদের বাপ, দাদার এ পেশা ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশা যেতে বাধ্য হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় গোবিন্দবাড়ী পূজা মন্ডপ, পুদ্দারবাড়ী পূজা মন্ডপ, সেনবাড়ী পূজা মন্ডপ, হরিসভা পূজা মন্ডপ, কাসারী পাড়া পূজা মন্ডপ, কামার পাড়া পূজা মন্ডপ, ইংলিশ পট্টি পূজা মন্ডপসহ পৌর শহর ও উপজেলায় ২০টি পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২১ অক্টোবর বেল পুজার মধ্যে দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসব পালন শুরু হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ইসলামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অমূল্য রতন পাল জানান, ইতিমধ্যে প্রতিটি মন্ডপের কাজ প্রায় সমাপ্ত। চলছে রং তুলির কাজ। নিরাপত্তার জন্য পুজা মন্ডপে প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। তবে উদযাপন পরিষদ যথেষ্ঠ তৎপর রয়েছে।

ইসলামপুর সার্কেলের এএসপি সুমন মিয়া জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরির স্থানে পুলিশের টহল চলছে। পূজা শুরু হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সকল প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনজীবী এস এম জামাল আব্দুন নাছের বাবুল জানান, পূজা উদযাপনে ইতিমধ্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মিটিং হয়েছে। প্রত্যেক পূজা মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই উল্লাস, উদ্দীপনার মধ্যে দিয়েই এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সমাপ্ত হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

ইসলামপুরে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা, চলছে তুলির আঁচড়

আপডেট সময় ০৫:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০
দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে চলছে তুলির আঁচড়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা শিল্পীরা। এবারেও প্রতিমাকে অপরুপ, সুন্দর করে তুলতে ব্যস্ত তারা।

উপজেলার ২০টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজা মন্ডপ ও মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পিদের এখন দম ফেলারও সময় নেই্। মাস দুয়েক আগ হতেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন প্রতিমা শিল্পীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হরিসভা পূজা মন্ডপে, নাওয়া খাওয়া ভুলে কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। নিপূণ আঁচড়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। নিজের সন্তানের মতো অতি ভালবাসায় মাটি দিয়ে তৈরি করছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, মহিষ, সিংহ ও শিবের মূর্তি। প্রতিবারের তুলনায় এবারেও বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় নতুনত্ব। এবারে প্রতিমা তৈরিতে রয়েছে বৈচিত্রের ছোঁয়া।

লক্ষণ মালাকার বলেন, বাশঁ ও খড় দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরির পর এখন চলছে রঙ তুলির কাজ। কঠোর পরিশ্রম করেও সঠিক পারিশ্রমিক না পাওয়ায় সারাটি বছর কষ্টে জীবন ধারণ করতে হয়। বাপ দাদার পেশা ধরে অন্যকোন কাজ না জানায় আমাদের সংসার চালাতে অনেক কাঠ খড় পুড়তে হয়। এবার ৫টি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। কারিগর নিয়ে নিজে খেটে পুষায় না।

লিটন মালাকার বলেন, প্রতিমা তৈরিতে তেমন রোজগার না থাকায় আমাদের বাপ, দাদার এ পেশা ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশা যেতে বাধ্য হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় গোবিন্দবাড়ী পূজা মন্ডপ, পুদ্দারবাড়ী পূজা মন্ডপ, সেনবাড়ী পূজা মন্ডপ, হরিসভা পূজা মন্ডপ, কাসারী পাড়া পূজা মন্ডপ, কামার পাড়া পূজা মন্ডপ, ইংলিশ পট্টি পূজা মন্ডপসহ পৌর শহর ও উপজেলায় ২০টি পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২১ অক্টোবর বেল পুজার মধ্যে দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসব পালন শুরু হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ইসলামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অমূল্য রতন পাল জানান, ইতিমধ্যে প্রতিটি মন্ডপের কাজ প্রায় সমাপ্ত। চলছে রং তুলির কাজ। নিরাপত্তার জন্য পুজা মন্ডপে প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। তবে উদযাপন পরিষদ যথেষ্ঠ তৎপর রয়েছে।

ইসলামপুর সার্কেলের এএসপি সুমন মিয়া জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরির স্থানে পুলিশের টহল চলছে। পূজা শুরু হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সকল প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনজীবী এস এম জামাল আব্দুন নাছের বাবুল জানান, পূজা উদযাপনে ইতিমধ্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মিটিং হয়েছে। প্রত্যেক পূজা মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই উল্লাস, উদ্দীপনার মধ্যে দিয়েই এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সমাপ্ত হবে।