ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জামানত ছাড়াই ৫ কোটি টাকা ঋণ পাবে তরুণ উদ্যোক্তারা : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হেফাজ উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ যুবদলনেতা সোহেল রানা খানের উদ্যােগে খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু পলাশতলায় পানিবন্দি ২০০ পরিবার পেল বিএনপির খাদ্য সহায়তা দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হলেন জেলায় শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর : প্রধানমন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি থাকলে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়া হয় : পিবিআই

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে পরিকল্পনাকারী শাহাদাৎ হোসেন শামীম (২০), নূর উদ্দিন (২০), কাউন্সিলর মাকসুদ আলম (৪৫), জোবায়ের আহমেদ (২০), জাবেদ হোসেন (১৯) ও আফসার উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই ঘটনায় আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার সিরাজ উদ দৌলাকে নুসরাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর আসামী হাফেজ আব্দুল কাদের পলাতক রয়েছে।

মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৩ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে ঘটেছে।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার নগরীর ধানমন্ডিতে ১৩ এপ্রিল দুপুরে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে। মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৪ এপ্রিল আসামি নুর উদ্দীন ও শাহাদাৎসহ কয়েকজন কারাগারে গিয়ে সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করেন। তখন সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে কিছু একটা করার নির্দেশনা দেন। এরপর ৫ এপ্রিল সকালে নূর উদ্দিনসহ কয়েকজন মিলিত হয়ে পরিকল্পনা করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হবে।

পিবিআই জানিয়েছে, পরিকল্পনা মতো ৩টি বোরকা ও কেরোসিন আনার দায়িত্ব পড়ে শম্পা নামে এক ছাত্রীর ওপর। ওই ছাত্রী কথা মতো সকাল ৯টায় শাহাদাতের কাছে কেরোসিন ও বোরকা হস্তান্তর করে। সকাল ৯টার পর ওই মাদরাসার ভবনের ছাদে চারজন অবস্থান নেয়। পরিকল্পনায় অংশ নেয়া শম্পা ওরফে চম্পা নামে ওই ছাত্রী নুসরাতকে জানায়, তার সহপাঠী নিশাতকে ভবনের ছাদে মারধর করা হচ্ছে। ওই খবরে নুসরাত ছাদে গেলে তাকে আটকে দেওয়া হয়। প্রথমে ওড়না দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। মাদরাসার বাইরে নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে ৪ বা ৫ জন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ও গেট পাহারা দেয়। আগুন দেওয়ার পর সরাসরি অংশ নেয়ারা বোরকা পড়ে বের হয়ে যায়।

গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফি মাদরাসায় পরীক্ষা দিতে গেলে এক দল দৃর্বৃত্ত তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দগ্ধ অবস্থায় ওই দিন রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। সূত্র : বাসস

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়া হয় : পিবিআই

আপডেট সময় ০৭:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এজাহারভুক্ত আট আসামির মধ্যে পরিকল্পনাকারী শাহাদাৎ হোসেন শামীম (২০), নূর উদ্দিন (২০), কাউন্সিলর মাকসুদ আলম (৪৫), জোবায়ের আহমেদ (২০), জাবেদ হোসেন (১৯) ও আফসার উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই ঘটনায় আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার সিরাজ উদ দৌলাকে নুসরাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর আসামী হাফেজ আব্দুল কাদের পলাতক রয়েছে।

মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৩ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে ঘটেছে।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার নগরীর ধানমন্ডিতে ১৩ এপ্রিল দুপুরে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে। মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৪ এপ্রিল আসামি নুর উদ্দীন ও শাহাদাৎসহ কয়েকজন কারাগারে গিয়ে সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করেন। তখন সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে কিছু একটা করার নির্দেশনা দেন। এরপর ৫ এপ্রিল সকালে নূর উদ্দিনসহ কয়েকজন মিলিত হয়ে পরিকল্পনা করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হবে।

পিবিআই জানিয়েছে, পরিকল্পনা মতো ৩টি বোরকা ও কেরোসিন আনার দায়িত্ব পড়ে শম্পা নামে এক ছাত্রীর ওপর। ওই ছাত্রী কথা মতো সকাল ৯টায় শাহাদাতের কাছে কেরোসিন ও বোরকা হস্তান্তর করে। সকাল ৯টার পর ওই মাদরাসার ভবনের ছাদে চারজন অবস্থান নেয়। পরিকল্পনায় অংশ নেয়া শম্পা ওরফে চম্পা নামে ওই ছাত্রী নুসরাতকে জানায়, তার সহপাঠী নিশাতকে ভবনের ছাদে মারধর করা হচ্ছে। ওই খবরে নুসরাত ছাদে গেলে তাকে আটকে দেওয়া হয়। প্রথমে ওড়না দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। মাদরাসার বাইরে নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে ৪ বা ৫ জন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ও গেট পাহারা দেয়। আগুন দেওয়ার পর সরাসরি অংশ নেয়ারা বোরকা পড়ে বের হয়ে যায়।

গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফি মাদরাসায় পরীক্ষা দিতে গেলে এক দল দৃর্বৃত্ত তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দগ্ধ অবস্থায় ওই দিন রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। সূত্র : বাসস