ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত আইনজীবীর কার্যালয় থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক উদ্ধার এক শিক্ষকেই চলছে পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সামছুল হুদার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মাদারগঞ্জে সাপে কাটা নারীর মৃত্যু, স্বাস্থ্যকর্মীর উপর হামলা জামালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত জামালপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান খোকা স্মরণে দোয়া মাহফিল গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে ইউপি সদস্যসহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড বকশীগঞ্জে অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে মৃত দুই গ্রাহকের নমিনির হাতে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

এক শিক্ষকেই চলছে পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান

মাদারগঞ্জ : একই শ্রেণিকক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সকাল হলেই বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ে আসে শিশুরা। কারও চোখে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ। কারও মনে বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র শিক্ষকসংকট।

ছয়টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন শিক্ষক। তিনিই একাই পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ, প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম সামলাচ্ছেন। ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ের ভর্তি সংখ্যাতেও।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৭০ জন। এর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিকে ১৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১১ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১১ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১০ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ জন। তবে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে।

৭ জুলাই, মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন। শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিটি শ্রেণিতে আলাদাভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। একটি কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই সময়ে পাঠদান করতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সময় অন্য শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থী নিজেরাই বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে। কেউ আবার শিক্ষক তাদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার অপেক্ষায় বসে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় এক বছর ধরে একজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয় কিংবা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম সাদি জানায়, একজন শিক্ষকই সব শ্রেণির ক্লাস নেন। তাই অনেক সময় নিজেদের ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এতে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। এতে করে শিক্ষককেও অনেক কষ্ট হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ : পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন জানায়, শিক্ষক অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতে ব্যস্ত থাকলে তারা নিজেরা বই পড়ে। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলেও সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। বিদ্যালয়ে আরও শিক্ষক নিয়োগ হলে লেখাপড়ার পরিবেশ ভাল হবে।

অভিভাবক শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষক কোনো কাজে উপজেলা সদরে গেলে শিক্ষার্থীদের দেখভালের কেউ থাকেন না। আবার তিনি অসুস্থ হলে বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়। এতে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আরেকজন অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা হলে বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল মমিন এই প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই পাঠদান, অফিসের কাজ, সরকারি প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। আšত্মরিক চেষ্টা করেও সব শ্রেণিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় অনেক শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে পদায়ন নিতে আগ্রহী হন না। ফলে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষকসংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পদে শিক্ষক পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

এক শিক্ষকেই চলছে পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান

আপডেট সময় ১০:৪১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

সকাল হলেই বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ে আসে শিশুরা। কারও চোখে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ। কারও মনে বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র শিক্ষকসংকট।

ছয়টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন শিক্ষক। তিনিই একাই পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ, প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম সামলাচ্ছেন। ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ের ভর্তি সংখ্যাতেও।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৭০ জন। এর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিকে ১৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১১ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১১ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১০ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ জন। তবে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসে।

৭ জুলাই, মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন। শিক্ষক সংকটের কারণে প্রতিটি শ্রেণিতে আলাদাভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। একটি কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই সময়ে পাঠদান করতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সময় অন্য শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থী নিজেরাই বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে। কেউ আবার শিক্ষক তাদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার অপেক্ষায় বসে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় এক বছর ধরে একজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয় কিংবা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম সাদি জানায়, একজন শিক্ষকই সব শ্রেণির ক্লাস নেন। তাই অনেক সময় নিজেদের ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এতে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। এতে করে শিক্ষককেও অনেক কষ্ট হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ : পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন জানায়, শিক্ষক অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াতে ব্যস্ত থাকলে তারা নিজেরা বই পড়ে। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলেও সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। বিদ্যালয়ে আরও শিক্ষক নিয়োগ হলে লেখাপড়ার পরিবেশ ভাল হবে।

অভিভাবক শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষক কোনো কাজে উপজেলা সদরে গেলে শিক্ষার্থীদের দেখভালের কেউ থাকেন না। আবার তিনি অসুস্থ হলে বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়। এতে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আরেকজন অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা হলে বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল মমিন এই প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই পাঠদান, অফিসের কাজ, সরকারি প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। আšত্মরিক চেষ্টা করেও সব শ্রেণিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় অনেক শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে পদায়ন নিতে আগ্রহী হন না। ফলে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষকসংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পদে শিক্ষক পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।