ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিক নন, সমাজ ও সভ্যতার গভীর পর্যবেক্ষক ছিলেন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মির্জা ফখরুলসহ ১৫ জন পাচ্ছেন ‘আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২৬’ মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকে তামাদি হতে দেবে না সরকার : তথ্যমন্ত্রী বিবাহের আগে ছেলে-মেয়ে থ্যালাসিমিয়ার বাহক কিনা তা জানা জরুরি : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো : নজরুল ইসলাম খান গাঁজা সেবনের দায়ে বাবা-ছেলেকে কারাদণ্ড জামালপুরে রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপিত হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে : আসাদুল হাবিব দুলু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকে তামাদি হতে দেবে না সরকার : তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা : রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে স্মারক গ্রন্থ ‘শহীদনামা’র মোড়ক উন্মোচন ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি : পিআইডি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকেই তামাদি হতে দেবে না।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড—সবগুলোই মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ সকল অন্যায় ও নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর।’

৮ মে, শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে স্মারক গ্রন্থ ‘শহীদনামা’র মোড়ক উন্মোচন, তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শাপলা স্মৃতি সংসদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শাপলা চত্বরের সেই হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও আমাদের ব্যথিত করে। বর্তমান জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনেই শাপলা চত্বরের সকল শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান ও শোকবার্তা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা জাতির কাছে এই বার্তাই দিয়েছি যে—যা অন্যায়, যা নৃশংসতা- এমন কোনো অপরাধকে আমাদের সরকার তামাদি হতে দেবে না।’

২০১৩ সালের ৫ মে’র প্রেক্ষাপট স্মরণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার যখন ঈমানি আন্দোলনে বাধা দিচ্ছিল এবং গণমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা বয়ান তৈরি করছিল, তখন জনগণের অভিভাবক হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাহসিকতার সাথে সেই সমাবেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপিই প্রথম রাজনৈতিক দল যারা এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে দুই দিনের হরতাল ডেকেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপাতে কয়েক’শ মামলা দেওয়া হয়। যার শতকরা ৯০ ভাগ আসামী করা হয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীদের।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সমাজের সকল স্তরের মানুষের রক্ত মিশে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তাকে ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্যই আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বনির্ভরতার রক্ষাকবচ। ৫২, ৭০, ২০১৩ কিংবা ২০২৪- প্রতিটি ঘটনার সমৃদ্ধ ফলাফলই হচ্ছে আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ। রাজনৈতিক শক্তির সাথে সামাজিক ও ধর্মীয় শক্তির মেলবন্ধন ঘটলে এ দেশ অপরাজিত থাকবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা ও সমৃদ্ধির প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে।’

শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মাওলানা সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট আলেম ও গবেষক শায়খ মুসা আল হাফিজ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ। সূত্র : বাসস

জনপ্রিয় সংবাদ

রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিক নন, সমাজ ও সভ্যতার গভীর পর্যবেক্ষক ছিলেন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকে তামাদি হতে দেবে না সরকার : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধকেই তামাদি হতে দেবে না।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড—সবগুলোই মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ সকল অন্যায় ও নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর।’

৮ মে, শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে স্মারক গ্রন্থ ‘শহীদনামা’র মোড়ক উন্মোচন, তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শাপলা স্মৃতি সংসদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শাপলা চত্বরের সেই হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও আমাদের ব্যথিত করে। বর্তমান জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনেই শাপলা চত্বরের সকল শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান ও শোকবার্তা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা জাতির কাছে এই বার্তাই দিয়েছি যে—যা অন্যায়, যা নৃশংসতা- এমন কোনো অপরাধকে আমাদের সরকার তামাদি হতে দেবে না।’

২০১৩ সালের ৫ মে’র প্রেক্ষাপট স্মরণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার যখন ঈমানি আন্দোলনে বাধা দিচ্ছিল এবং গণমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা বয়ান তৈরি করছিল, তখন জনগণের অভিভাবক হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাহসিকতার সাথে সেই সমাবেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপিই প্রথম রাজনৈতিক দল যারা এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে দুই দিনের হরতাল ডেকেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপাতে কয়েক’শ মামলা দেওয়া হয়। যার শতকরা ৯০ ভাগ আসামী করা হয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীদের।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সমাজের সকল স্তরের মানুষের রক্ত মিশে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তাকে ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্যই আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বনির্ভরতার রক্ষাকবচ। ৫২, ৭০, ২০১৩ কিংবা ২০২৪- প্রতিটি ঘটনার সমৃদ্ধ ফলাফলই হচ্ছে আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ। রাজনৈতিক শক্তির সাথে সামাজিক ও ধর্মীয় শক্তির মেলবন্ধন ঘটলে এ দেশ অপরাজিত থাকবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা ও সমৃদ্ধির প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে।’

শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মাওলানা সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট আলেম ও গবেষক শায়খ মুসা আল হাফিজ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ। সূত্র : বাসস