বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, যে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে সেই আওয়ামী লীগকে আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।
১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শেখ পরিবার। যে পরিবারের প্রত্যেক সদস্য দুর্নীতির সাথে জড়িত।
হাবিব উন নবী খান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের নামে এফবিআই তদন্ত করে আটটি দামি গাড়ি পেয়েছে। যে টাকা দিয়ে রাস্তাঘাট সবকিছু করা যেত। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট ডাকাতির মূলহোতা ছিল এই সজীব ওয়াজেদ জয়। জয়ের মামা শেখ কামাল খোলা জিপে করে ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। তার ভাগিনা জয় ব্যাংকের ভোল্ট ডাকাতি করেছে। শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুল গলা পর্যন্ত দুর্নীতি করেছে। শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা দুই বোন যুক্তি করেছে একজন দেশ চালাবে আরেকজন কমিশন খাবে। শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমির হোসেন আমু টাকার জাজিম ছাড়া ঘুমাতে পারতেন না। টাকার গন্ধ নাকে না শুঁকলে তার ঘুম আসত না। শেখ হাসিনার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয় কিভাবে? এর জন্য একদিনও জেল খাটেনি। অথচ দুই কোটি টাকার মিথ্যা মামলায় আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বছরের পর বছর জেল খাটিয়েছেন।
দেওয়ানগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ সাদা, যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম মুছা, শ্যামল চন্দ, মাসুদ হাবিব পলিন ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মনজুরুল ইসলাম মনজু, সদস্য সচিব আতিকুর রহমান সাজু, বিএনপিনেতা মনির হোসেন প্রমুখ।
পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুর রশিদ সাদা ২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
অপরদিকে দেওয়ানগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি পদে মনজুরুল হক মনজু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সাধারণ সম্পাদক পদে আতিকুর রহমান সাজু ২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
তারেক মাহমুদ : নিজস্ব প্রতিবেদক, দেওয়ানগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 



















