ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে : আসাদুল হাবিব দুলু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ আয়কর রসিদেই জানানো হবে করের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে : তিতুমীর বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সংবিধানের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে : ওয়ারেছ আলী মামুন দেশের ইতিহাসে তারেক জিয়া এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান সাড়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা  স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন : উপদেষ্টা ডা. জাহেদ জামালপুরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কনসালটেশন সেসন অনুষ্ঠিত

যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম শুরু

সরিষাবাড়ী : যমুনা সার কারখানা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ ১৩ মাস বন্ধ থাকার পর ফের ইউরিয়া উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে কারাখানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক।

কারখানা সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে স্থাপিত হয় যমুনা সারকারখানা। বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কেপিআই-১ মানসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে দৈনিক এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে আসছিল। কারখানার নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন। গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও বিভিন্ন ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে বর্তমানে এক হাজার ২০০ মেট্টিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়।

সম্প্রতি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে সার উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিআইসি। এ জন্য সেখানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে যমুনা সারকারখানায় গত বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন আন্ড ডিস্ট্রিবিউশর কোম্পানি। এর পর থেকেই যমুনায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ থাকে।

এদিকে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসের চাপ পুনরায় বাড়ালে ইউরিয়া উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে যন্ত্রাংশের কিছুটা মেরামত করে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে ৫-৭ দিন সময় লাগবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

যমুনার সার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলার যমুনার সার উত্তোলন করেন। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার আওতাভুক্ত এলাকায় ইউরিয়া সার সংকটের শঙ্কা দেখা দেয় বলে জানান সার ব্যবসায়ীরা। এদিকে দীর্ঘদিন পরে কারখানা চালু হওয়ায় খুশি কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক, যমুনার ডিলার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে থেকে যমুনায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ বন্ধ করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশর কোম্পানি গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে দিলে কারখানায় উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম শুরু

আপডেট সময় ০৭:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ ১৩ মাস বন্ধ থাকার পর ফের ইউরিয়া উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে কারাখানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক।

কারখানা সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে স্থাপিত হয় যমুনা সারকারখানা। বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কেপিআই-১ মানসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে দৈনিক এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে আসছিল। কারখানার নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন। গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও বিভিন্ন ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে বর্তমানে এক হাজার ২০০ মেট্টিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়।

সম্প্রতি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে সার উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিআইসি। এ জন্য সেখানে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে যমুনা সারকারখানায় গত বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন আন্ড ডিস্ট্রিবিউশর কোম্পানি। এর পর থেকেই যমুনায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ থাকে।

এদিকে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসের চাপ পুনরায় বাড়ালে ইউরিয়া উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে যন্ত্রাংশের কিছুটা মেরামত করে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে ৫-৭ দিন সময় লাগবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

যমুনার সার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ি ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলার যমুনার সার উত্তোলন করেন। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার আওতাভুক্ত এলাকায় ইউরিয়া সার সংকটের শঙ্কা দেখা দেয় বলে জানান সার ব্যবসায়ীরা। এদিকে দীর্ঘদিন পরে কারখানা চালু হওয়ায় খুশি কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক, যমুনার ডিলার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে থেকে যমুনায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ বন্ধ করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশর কোম্পানি গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে দিলে কারখানায় উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলে জানান তিনি।