ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৌশলী হতে চায় শাহরিয়ার

শাহরিয়ার আহমেদ

শাহরিয়ার আহমেদ

মাহমুদুল হাসান মুক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান শাহরিয়ার আহমেদ এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। শাহরিয়ারের স্বপ্ন সে লেখাপড়া করে বড় প্রকৌশলী হবে। বাবা নজরুল ইসলাম রাজমিস্ত্রীর কাজ করে ছেলে শাহরিয়ারকে পড়াশোনার খরচ চালাতেন।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, শাহরিয়ারের বাবা রাজমিস্ত্রি নজরুল ইসলামের দরিদ্র এই পরিবারে ৫ জন সদস্য। তাদের মধ্যে একমাত্র উপার্জন করে সংসার চালায় নজরুল ইসলাম। তার মা সাবিনা ইয়াসমিন একজন গৃহিনী। নজরুল ইসলাম তার সংসারে শত কষ্টের মাঝেও ছেলে শাহরিয়ারের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যান। শরিফপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে শাহরিয়ার। কিন্তু রাজমিস্ত্রির কাজ করে যা ইনকাম করে তা দিয়ে সংসার চালানো আর অন্যান্য কাজেই খরচ হয়ে যায়। এরপর ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়ে গেছেন নজরুল ইসলাম। শাহরিয়ারকে এইচএসসি ভর্তি করানো নিয়েও শঙ্কায় আছেন তিনি।

এলাকাবাসী জানায়, শাহরিয়ার একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। শাহরিয়ার এবার ২০২৪ সালের এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। অত্যন্ত নম্র, ভদ্র এবং শান্ত একটি ছেলে। আমরা দেখেছি সে কোন সময় নষ্ট করে নাই। বাইরে ঘোরাফেরা করতেও তাকে দেখিনি। ভালোভাবে পড়াশোনা করার কারণেই আজকে সে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। তার বাবা অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছে। শাহরিয়ার জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী অনেক খুশি।

শাহরিয়ার আহমেদ বলেছে, আমার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করে আমাকে লেখাপড়া করিয়েছে। তাই এবার আমি এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। আমার স্বপ্ন আমি বড় প্রকৌশলী হবো। আমার স্বপ্ন পূরণ করতে অনেক খরচবহন করতে হবে পরিবারকে। আমাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। কিভাবে সামনে পড়াশোনা করবো তা নিয়ে আমি চিন্তিত। তবে আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।

শাহরিয়ারের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, রাজমিস্ত্রির কাজ করে সামান্য কিছু টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে শাহরিয়ারকে লেখাপড়া করিয়েছি। কিন্তু এখন জিনিসপত্রের যে দাম সংসার চালানোয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন সহযোগিতা পেলে ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সম্ভব হবে। তা না হলে আমার দরিদ্র সংসারে আর ছেলেকে লেখাপড়া করানো সম্ভব হবে না।

শাহরিয়ারের মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছেলেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করাইছি। আজকে আমার ছেলে এসএসসি পাশ করেছে। আমরা অনেক আনন্দিত। কিন্তু ছেলে আরও লেখাপড়া করতে চায়। আমরাও চাই ছেলে আরও পড়াশোনা করে বড় কিছু হোক। কিন্তু আমরা তো দরিদ্র কেমনে লেখাপড়ার খরচ চালাবো। কেউ যদি সহযোগিতা করে তাহলে আমার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

প্রকৌশলী হতে চায় শাহরিয়ার

আপডেট সময় ০৫:২৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪
শাহরিয়ার আহমেদ

মাহমুদুল হাসান মুক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান শাহরিয়ার আহমেদ এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। শাহরিয়ারের স্বপ্ন সে লেখাপড়া করে বড় প্রকৌশলী হবে। বাবা নজরুল ইসলাম রাজমিস্ত্রীর কাজ করে ছেলে শাহরিয়ারকে পড়াশোনার খরচ চালাতেন।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, শাহরিয়ারের বাবা রাজমিস্ত্রি নজরুল ইসলামের দরিদ্র এই পরিবারে ৫ জন সদস্য। তাদের মধ্যে একমাত্র উপার্জন করে সংসার চালায় নজরুল ইসলাম। তার মা সাবিনা ইয়াসমিন একজন গৃহিনী। নজরুল ইসলাম তার সংসারে শত কষ্টের মাঝেও ছেলে শাহরিয়ারের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যান। শরিফপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে শাহরিয়ার। কিন্তু রাজমিস্ত্রির কাজ করে যা ইনকাম করে তা দিয়ে সংসার চালানো আর অন্যান্য কাজেই খরচ হয়ে যায়। এরপর ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়ে গেছেন নজরুল ইসলাম। শাহরিয়ারকে এইচএসসি ভর্তি করানো নিয়েও শঙ্কায় আছেন তিনি।

এলাকাবাসী জানায়, শাহরিয়ার একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। শাহরিয়ার এবার ২০২৪ সালের এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। অত্যন্ত নম্র, ভদ্র এবং শান্ত একটি ছেলে। আমরা দেখেছি সে কোন সময় নষ্ট করে নাই। বাইরে ঘোরাফেরা করতেও তাকে দেখিনি। ভালোভাবে পড়াশোনা করার কারণেই আজকে সে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। তার বাবা অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছে। শাহরিয়ার জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী অনেক খুশি।

শাহরিয়ার আহমেদ বলেছে, আমার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করে আমাকে লেখাপড়া করিয়েছে। তাই এবার আমি এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। আমার স্বপ্ন আমি বড় প্রকৌশলী হবো। আমার স্বপ্ন পূরণ করতে অনেক খরচবহন করতে হবে পরিবারকে। আমাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। কিভাবে সামনে পড়াশোনা করবো তা নিয়ে আমি চিন্তিত। তবে আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।

শাহরিয়ারের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, রাজমিস্ত্রির কাজ করে সামান্য কিছু টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে শাহরিয়ারকে লেখাপড়া করিয়েছি। কিন্তু এখন জিনিসপত্রের যে দাম সংসার চালানোয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন সহযোগিতা পেলে ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সম্ভব হবে। তা না হলে আমার দরিদ্র সংসারে আর ছেলেকে লেখাপড়া করানো সম্ভব হবে না।

শাহরিয়ারের মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছেলেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করাইছি। আজকে আমার ছেলে এসএসসি পাশ করেছে। আমরা অনেক আনন্দিত। কিন্তু ছেলে আরও লেখাপড়া করতে চায়। আমরাও চাই ছেলে আরও পড়াশোনা করে বড় কিছু হোক। কিন্তু আমরা তো দরিদ্র কেমনে লেখাপড়ার খরচ চালাবো। কেউ যদি সহযোগিতা করে তাহলে আমার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হবে।