ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার রূপ দিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ইসলামপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত ইসলামপুরে অষ্টমী স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল মাদারগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত বকশীগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত দেওয়ানগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত তিনজন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বকশীগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিএনপির কোন নেতা-কর্মী মাদক কারবারের সাথে যুক্ত থাকলে গ্রেপ্তার করুন : ওয়ারেছ আলী মামুন

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

জামালপুর : সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ সংক্রান্ত এই বিশেষ সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে এপ্রিলের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরে যানজট অনেকটা নিরসন সম্ভব হবে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ১২০টি সিগন্যাল অটোমেশন করা হবে। ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়াও ঢাকা শহর থেকে যত্রতত্র বাস কাউন্টার অপসারণ করা হবে। অতিদ্রুত ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে শহরের বাইরে স্থাপন করা হবে। এই পাঁচটি বাস টার্মিনাল ‘সিটি সার্ভিসের’ জন্য চালু করা হবে। রাস্তার দু’পাশের সড়ক দখলমুক্ত করা হবে। রাস্তার মাঝে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।

ঢাকা শহরের ভেতরে রেল ক্রসিংয়ে ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে। সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরো জানান, ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শহরের হাসপাতাল এলাকায় ফুটওভার ব্রিজে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপন করা হবে। আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অধিকাংশ প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার রূপ দিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

আপডেট সময় ০৯:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ সংক্রান্ত এই বিশেষ সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে এপ্রিলের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরে যানজট অনেকটা নিরসন সম্ভব হবে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ১২০টি সিগন্যাল অটোমেশন করা হবে। ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়াও ঢাকা শহর থেকে যত্রতত্র বাস কাউন্টার অপসারণ করা হবে। অতিদ্রুত ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে শহরের বাইরে স্থাপন করা হবে। এই পাঁচটি বাস টার্মিনাল ‘সিটি সার্ভিসের’ জন্য চালু করা হবে। রাস্তার দু’পাশের সড়ক দখলমুক্ত করা হবে। রাস্তার মাঝে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।

ঢাকা শহরের ভেতরে রেল ক্রসিংয়ে ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে। সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরো জানান, ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শহরের হাসপাতাল এলাকায় ফুটওভার ব্রিজে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপন করা হবে। আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অধিকাংশ প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।