ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের জন্য অংশীদারদের নিয়ে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বকশীগঞ্জে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উদযাপিত দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সাজ্জাতুল বরখাস্ত সারাদেশে গত ২৪ ঘন্টায় হামের নতুন রোগী ৯৫, মৃত্যু ৫ খুদে শিক্ষার্থীরাই ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ : প্রধানমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামালপুরে ১১ দলের গণ-মিছিল প্রতিটি শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার জন্য কাজ করছে সরকার : এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঝিনাইগাতীতে খালের অবৈধ বাধ উচ্ছেদ : কৃষকদের মাঝে স্বস্তি জামালপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান : র‌্যাবের গাড়িতে ঢিল, আটক দুই

শেরপুরে গতানুগতিক প্রচারণা ভেঙে জনগণের কথা শুনলেন শেরপুর-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল

শেরপুর : বক্তব্য রাখেন শেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নির্বাচনী প্রচারণায় যেখানে সাধারণত প্রার্থীরা একতরফা বক্তব্য রাখেন, সেখানে শেরপুর-১ (সদর) আসনে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। গতানুগতিক জনসভার ধারা ভেঙে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও পরামর্শ শুনেন।

এ লক্ষ্যে শেরপুর-১ (সদর) আসনের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর পৌরসভার নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত নিউ আলীশান রেস্টুরেন্ট এন্ড কমিউিনিটি সেন্টারে ১৩ ডিসেম্বর, শনিবার রাতে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।

জেলা আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন হাফেজ জাকারিয়া আব্দুল বাতেন, ডাক্তার মো. আনোয়ার হোসেইন, মাওলানা নূরে আলম সিদ্দিকী, মাওলানা আব্দুল আওয়াল প্রমুখ।

সভায় শেরপুর-১ আসনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, নারীর অধিকার, কৃষি, পর্যটন, খেলাধূলা, সংস্কৃতিসহ সকল বাস্তব সমস্যা শনাক্ত করে সবার অংশগ্রহণে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরির জন্য বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

এতে শেরপুরের ডাক্তার, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, লেখক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজেদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

সভায় এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, জেলায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নেই। ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত। এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিজ ও সাংস্কৃতিকচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

নারীদের পক্ষ থেকে একজন বক্তা বলেন, মার্কেট, হাসপাতাল ও জনসমাগমস্থলে নারীদের জন্য নামাজ আদায়ের কোন ব্যবস্থা নেই। কর্মজীবী নারী ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা নারীদের ওয়াক্ত মত নামাজ আদায়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রের সংকট তুলে ধরে চরশেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে ঝরে পড়ছে বহু শিক্ষার্থী। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিও জানান তিনি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রবাসীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন স্থানীয় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

জনগণের এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমি নির্বাচিত হলে কেবল জামায়াতে ইসলামীর এমপি হবো না; দল-মত নির্বিশেষে পুরো শেরপুরবাসীর এমপি হিসেবে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যখাতে গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে শক্তিশালী করা হবে। একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে না হয়। পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের সহায়তায় শেরপুরের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় অনেকেই লিখিতভাবে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ জমা দেন। আয়োজকদের মতে, মৌখিক বক্তব্যের পাশাপাশি শত শত লিখিত প্রস্তাব জমা পড়েছে। যা শেরপুরবাসীর উন্নয়ন প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণের আগ্রহের প্রতিফলন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের জন্য অংশীদারদের নিয়ে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

শেরপুরে গতানুগতিক প্রচারণা ভেঙে জনগণের কথা শুনলেন শেরপুর-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল

আপডেট সময় ১০:১৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচনী প্রচারণায় যেখানে সাধারণত প্রার্থীরা একতরফা বক্তব্য রাখেন, সেখানে শেরপুর-১ (সদর) আসনে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। গতানুগতিক জনসভার ধারা ভেঙে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও পরামর্শ শুনেন।

এ লক্ষ্যে শেরপুর-১ (সদর) আসনের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর পৌরসভার নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত নিউ আলীশান রেস্টুরেন্ট এন্ড কমিউিনিটি সেন্টারে ১৩ ডিসেম্বর, শনিবার রাতে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।

জেলা আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন হাফেজ জাকারিয়া আব্দুল বাতেন, ডাক্তার মো. আনোয়ার হোসেইন, মাওলানা নূরে আলম সিদ্দিকী, মাওলানা আব্দুল আওয়াল প্রমুখ।

সভায় শেরপুর-১ আসনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, নারীর অধিকার, কৃষি, পর্যটন, খেলাধূলা, সংস্কৃতিসহ সকল বাস্তব সমস্যা শনাক্ত করে সবার অংশগ্রহণে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরির জন্য বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

এতে শেরপুরের ডাক্তার, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, লেখক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজেদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

সভায় এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, জেলায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা নেই। ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত। এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিজ ও সাংস্কৃতিকচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

নারীদের পক্ষ থেকে একজন বক্তা বলেন, মার্কেট, হাসপাতাল ও জনসমাগমস্থলে নারীদের জন্য নামাজ আদায়ের কোন ব্যবস্থা নেই। কর্মজীবী নারী ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা নারীদের ওয়াক্ত মত নামাজ আদায়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রের সংকট তুলে ধরে চরশেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে ঝরে পড়ছে বহু শিক্ষার্থী। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিও জানান তিনি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রবাসীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন স্থানীয় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

জনগণের এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমি নির্বাচিত হলে কেবল জামায়াতে ইসলামীর এমপি হবো না; দল-মত নির্বিশেষে পুরো শেরপুরবাসীর এমপি হিসেবে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যখাতে গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে শক্তিশালী করা হবে। একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে না হয়। পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের সহায়তায় শেরপুরের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় অনেকেই লিখিতভাবে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ জমা দেন। আয়োজকদের মতে, মৌখিক বক্তব্যের পাশাপাশি শত শত লিখিত প্রস্তাব জমা পড়েছে। যা শেরপুরবাসীর উন্নয়ন প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণের আগ্রহের প্রতিফলন।