ঢাকা ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহানবী (সা.) এর আদর্শে শান্তি-সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী জামালপুরে জশনে জুলুসে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপিত প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বকশীগঞ্জে বসতভিটা দখলের চেষ্টাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন জামালপুরে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে শিক্ষকদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েই মিমিকে হত্যা: কাউসার গ্রেপ্তার মাদারগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, তিন দোকানিকে জরিমানা সরিষাবাড়ীতে নদীতে গোসলে নেমে শিশুর মৃত্যু  মাদারগঞ্জে ৮০ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ ধ্বংস

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার মাছ ধরার ঐতিহ্য

ইসলামপুর : পচাবহলা গ্রামের কৃষি জমিতে মাছ ধরতে নামেন স্থানীয় গ্রামবাসী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কালের বিবর্তনে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলায় খাল-বিল, ডোবা-নালা শুকিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য। হেমন্তের রোদেলা দুপুরে খাল-বিলের পানি কমে গেলে হাঁটুকাদা পানিতে মাছ ধরা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য।

বহু বছর ধরে সারাদেশের ন্যায় জামালপুরের উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ধারা চলে আসলেও চিরায়ত সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই কমে গেছে।

সেই সময়ের মাছ ধরার দৃশ্য এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না। খাল-বিলের পানি সেচে মাছ ধরার এই চিত্র আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। রোদের তেজে নদ-নদীর পানি কমে শুকিয়ে যেতে থাকে বর্ষায় ডুবে যাওয়া খাল-বিল ডোবা-নালা। পানি শুকিয়ে গেলেও এসব স্থানে আটকা পড়ে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। আর সেই সময় কাদা পানিতে নেমে মাছ শিকার করেন গ্রামের মানুষ। রোদে হাঁটুকাদা পানিতে মাছ ধরাটা খুব আনন্দের। বহুবছর ধরে এ ধারা চলে আসছে।

২৯ অক্টোবর, বুধবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পচাবহলা গ্রামের কৃষি জমিতে দেখা পাওয়া যায় এমনি আয়োজনের। দেখা যায় বেশকিছু মানুষ মাছ ধরতে ব্যস্ত। কাদার মধ্যে মাছ খুঁজছেন তারা। যমুনার শাখা নদীবেষ্টিত এই আলাই নদী বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে যৌবন ফিরে পায়। শুধু নদী নয়, পানি বৃদ্ধি পায় পুকুর-ডোবা আর খাল-বিলের। ডুবে যায় ধানখেত আর নিচু জমি। পানির সাথে সেই জমিতে দেশি জাতের নানা মাছের আগমন ঘটে। এক সময় বর্ষার পানি শুকিয়ে গেলে পানি সেচে শুরু হয় মাছ ধরা। পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

৭০ বছর বয়সী আহেদ আলী বলেন, আগের মত স্বাদের মাছ আর চোহে (চোখে) পড়ে না। আমরা মাছ মারি খাইছি শুকাইয়েও আকছি (রাখছি)। স্থানীয়রা জানান, বর্ষার পরে আমদের এদিকে মাছ ধরার উৎসব চলত। এখন আর এসব চোখে পড়ে না।

ইসলামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, কারেন্ট জাল রোধ ও জমিতে কীটনাশক মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পারলে বর্ষা মৌসুমে দেশি মাছগুলো বংশ বিস্তার করতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহানবী (সা.) এর আদর্শে শান্তি-সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার মাছ ধরার ঐতিহ্য

আপডেট সময় ১০:৪২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

কালের বিবর্তনে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলায় খাল-বিল, ডোবা-নালা শুকিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য। হেমন্তের রোদেলা দুপুরে খাল-বিলের পানি কমে গেলে হাঁটুকাদা পানিতে মাছ ধরা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য।

বহু বছর ধরে সারাদেশের ন্যায় জামালপুরের উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ধারা চলে আসলেও চিরায়ত সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই কমে গেছে।

সেই সময়ের মাছ ধরার দৃশ্য এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না। খাল-বিলের পানি সেচে মাছ ধরার এই চিত্র আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। রোদের তেজে নদ-নদীর পানি কমে শুকিয়ে যেতে থাকে বর্ষায় ডুবে যাওয়া খাল-বিল ডোবা-নালা। পানি শুকিয়ে গেলেও এসব স্থানে আটকা পড়ে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। আর সেই সময় কাদা পানিতে নেমে মাছ শিকার করেন গ্রামের মানুষ। রোদে হাঁটুকাদা পানিতে মাছ ধরাটা খুব আনন্দের। বহুবছর ধরে এ ধারা চলে আসছে।

২৯ অক্টোবর, বুধবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পচাবহলা গ্রামের কৃষি জমিতে দেখা পাওয়া যায় এমনি আয়োজনের। দেখা যায় বেশকিছু মানুষ মাছ ধরতে ব্যস্ত। কাদার মধ্যে মাছ খুঁজছেন তারা। যমুনার শাখা নদীবেষ্টিত এই আলাই নদী বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে যৌবন ফিরে পায়। শুধু নদী নয়, পানি বৃদ্ধি পায় পুকুর-ডোবা আর খাল-বিলের। ডুবে যায় ধানখেত আর নিচু জমি। পানির সাথে সেই জমিতে দেশি জাতের নানা মাছের আগমন ঘটে। এক সময় বর্ষার পানি শুকিয়ে গেলে পানি সেচে শুরু হয় মাছ ধরা। পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

৭০ বছর বয়সী আহেদ আলী বলেন, আগের মত স্বাদের মাছ আর চোহে (চোখে) পড়ে না। আমরা মাছ মারি খাইছি শুকাইয়েও আকছি (রাখছি)। স্থানীয়রা জানান, বর্ষার পরে আমদের এদিকে মাছ ধরার উৎসব চলত। এখন আর এসব চোখে পড়ে না।

ইসলামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, কারেন্ট জাল রোধ ও জমিতে কীটনাশক মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পারলে বর্ষা মৌসুমে দেশি মাছগুলো বংশ বিস্তার করতে পারবে।