ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাস পুড়ছে দিনে প্রায় ৩ কোটি টাকার, উৎপাদনের খবর নেই যমুনায় ‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার হাত মিলিয়ে দেশে অরাজকতার চেষ্টা চালাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির জামালপুরে রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন ফলবান কলাগাছ কর্তনের ন্যায্য বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত মাদারগঞ্জে ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি শুরু প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সচেতন এবং সতর্ক রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার পেল কিশোরী

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন ও আন্তাজ আলী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন ও আন্তাজ আলী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পণ্ড করে দিয়েছেন একটি বাল্যবিয়ে। ৪ জুন রাতে বারো বছর বয়সী এতিম এক কিশোরীকে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন স্থানীয় এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী। ওই ব্যবসায়ীর নাম দেলোয়ার হোসেন (৪০)। এ নিয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন। এলাকাবাসী জানায়, ওই কিশোরীর দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে এ বিয়ে করার কুমতলব করেন দেলোয়ার। কিন্তু সব কিছু ভেস্তে দেন ইউএনও আরিফুর রহমান। ওইদিন রাতে উপজেলার গোজাকুড়া কয়ারপাড় গ্রামে কিশোরীর বাড়ি পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিনি বাল্যবিয়ে করার অভিযোগে দেলোয়ারকে এক বছর দশ মাস কারাদণ্ড দেন। সেই সাথে দেলোয়ারের বড় ভাই আন্তাজ আলীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার গোবিন্দনগর গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন এ পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন। তবে বনিবনা না হওয়ায় আগের সব বউদের সাথে বিচ্ছেদ হয়। কিছুদিন আগে চতুর্থবারের মতো বিয়ে করার জন্য কয়ারপাড় গ্রামের পিতাহারা বারো বছর বয়সী এক দরিদ্র কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য ফন্দি আটেন। এক পর্যায়ে কিশোরীর মা-নানীকে পটিয়েও ফেলেন দেলোয়ার। এক পর্যায়ে বিয়ে করতে ৪ জুন রাতে কনের বাড়ি যায় বর দোলোয়ার ও তার বড় ভাই আন্তাজ আলী। কাজী নিয়ে এসে কাবিননামা তৈরি করেন। ওই অবস্থায় ইউএনও পুলিশ সমেত বিয়ে বাড়িতে হাজির হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ৫ জুন দুপুরে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের ঘটনার রাতেই জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে কাজীসহ কিশোরীর পরিবারের সবাই পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

এ সম্পর্কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম আরিফুর রহমান গণমাধ্যমাকর্মীদের জানান, দেলোয়ারের বাল্যবিয়ের ঘটনায় তাকে এক বছর দশ মাস এবং তার বড় ভাই আন্তাজ আলীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস পুড়ছে দিনে প্রায় ৩ কোটি টাকার, উৎপাদনের খবর নেই যমুনায়

ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার পেল কিশোরী

আপডেট সময় ০৭:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন ও আন্তাজ আলী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পণ্ড করে দিয়েছেন একটি বাল্যবিয়ে। ৪ জুন রাতে বারো বছর বয়সী এতিম এক কিশোরীকে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন স্থানীয় এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী। ওই ব্যবসায়ীর নাম দেলোয়ার হোসেন (৪০)। এ নিয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন। এলাকাবাসী জানায়, ওই কিশোরীর দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে এ বিয়ে করার কুমতলব করেন দেলোয়ার। কিন্তু সব কিছু ভেস্তে দেন ইউএনও আরিফুর রহমান। ওইদিন রাতে উপজেলার গোজাকুড়া কয়ারপাড় গ্রামে কিশোরীর বাড়ি পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তিনি বাল্যবিয়ে করার অভিযোগে দেলোয়ারকে এক বছর দশ মাস কারাদণ্ড দেন। সেই সাথে দেলোয়ারের বড় ভাই আন্তাজ আলীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার গোবিন্দনগর গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন এ পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন। তবে বনিবনা না হওয়ায় আগের সব বউদের সাথে বিচ্ছেদ হয়। কিছুদিন আগে চতুর্থবারের মতো বিয়ে করার জন্য কয়ারপাড় গ্রামের পিতাহারা বারো বছর বয়সী এক দরিদ্র কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য ফন্দি আটেন। এক পর্যায়ে কিশোরীর মা-নানীকে পটিয়েও ফেলেন দেলোয়ার। এক পর্যায়ে বিয়ে করতে ৪ জুন রাতে কনের বাড়ি যায় বর দোলোয়ার ও তার বড় ভাই আন্তাজ আলী। কাজী নিয়ে এসে কাবিননামা তৈরি করেন। ওই অবস্থায় ইউএনও পুলিশ সমেত বিয়ে বাড়িতে হাজির হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ৫ জুন দুপুরে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের ঘটনার রাতেই জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে কাজীসহ কিশোরীর পরিবারের সবাই পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

এ সম্পর্কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম আরিফুর রহমান গণমাধ্যমাকর্মীদের জানান, দেলোয়ারের বাল্যবিয়ের ঘটনায় তাকে এক বছর দশ মাস এবং তার বড় ভাই আন্তাজ আলীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।