ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী : দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য অপতথ্য রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর ড. ইউনূসকে ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি মাদারগঞ্জে অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের ফিজির সমুদ্রসীমায় মোতায়েন হবে অস্ট্রেলিয়ার সৌরশক্তিচালিত সামরিক ড্রোন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা ‘লজ্জাজনক’ : ট্রাম্প ইরানী ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে কিউবার ব্যাংকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪ যমুনা সার কারখানা পরিদর্শনে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা

দানেও আনন্দ আছে : জামালপুরে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র দাতাদের অভিমত

জামালপুর : ক্ষুদ্র দাতা ব্যক্তিরা হত দরিদরিদ্র ব্যক্তিদের মাঝে ছাগল, হাঁস ও মুরগি দান করেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

“দুই বছর আগে আমি জামালপুর এপি থনে (থেকে) তিনডে পাঠি ছাগল পাইছিলাম। ৫০ হাজার ট্যাহার ছাগল বেইচে এডা বহন গরু কিনছি। এহন আমার আরও আটটা ছাগল আছে। ওহান থনে আমি আমার পরসি গরিব বেঠি কল্পনারে এডা পাঠি দান করমু আইজ। এপির দানে আমার উন্নতি অইছে আমার দানে আরেকজুনের উন্নতি অবো এইডেই শান্তি। দানের মদ্যেও ম্যালা আনন্দ আছে বুজবার পাইতাছি।” এমন সরল এবং অকৃত্তিম অভিমত ব্যক্ত করেছেন জামালপুর সদর উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য লেবুজা বেগম।

৫ মে, মঙ্গলবার জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম আয়োজিত দানের আনন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ২৫ জন ক্ষুদ্রদাতা অন্যকে দান করার মধ্য দিয়ে আনন্দ যে উপভোগ করা যায় তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন সবাই।

এদিন শরিফ ইউনিয়নে এপির কর্মএলাকায় ২৫ জন ক্ষুদ্রদাতা অন্য হতদরিদ্র ২৫টি পরিবারের মাঝে আটটি ছাগল, নয়টি হাঁস এবং ৪২টি মুরগি দান করেন। এবছর দেড় শতাধিক পরিবার একই সংখ্যক পরিবারের মাঝে তাদের ঘূর্ণয়মান সম্পদ থেকে একটা অংশ দান করবে বলে জানা গেছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর রাজু উইলিয়াম রোজারিও, উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম, ওয়ার্ল্ড ভিশন জামালপুর এপির এরিয়া ম্যানেজার বিমল জেমস কস্তা, উন্নয়ন সংঘ জামালপুর এপির ম্যানেজার মিনারা পারভীন, সিডিও আফরোজা বেগম প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শরিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বিন্দু।

উল্লেখ, ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের আওতায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ৩০০ জন হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে তিনটি করে ছাগল বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, লক্ষভুক্ত পরিবারগুলোর শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ সর্বোত্তম সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে ছাগল, হাঁস, মুরগি, পুষ্টিকর গাছের চারা, সবজি বীজসহ আয়বর্ধনমূলকমূলক বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই বছরের ব্যবধানে পরিবারগুলোর আশাব্যঞ্জক উন্নতি সাধন হয়েছে। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ওয়াস সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবিকায়নে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

ছাগল দানে পেয়ে শরিফপুরের কল্পনা বেগম আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে বলেন, “আমি ম্যালা খুশি হইছি। নেবুজা বু’র নাহান আমিও ছাগল পাইলে উন্নুতি করমু। পুনাই গো নেহাপরা করামু।”

অনুষ্ঠানে এসে ওয়ার্ল্ড ভিশনের রাজু উইলিয়াম রোজারিও বলেন, দানেও যে আনন্দ আছে তা আপনাদের এ মহৎ উদ্যোগ দেখে উপলব্ধি করা যায়। তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সবকিছুই তার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। অনেকের কোটি কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও দানের মানসিকতা থাকে না। অথচ আপনার অল্প সম্পদ থেকেও অন্যকে দান করে আনন্দ পাচ্ছেন। তিনি পরিবারের প্রতিটি শিশুর প্রতি যত্নবান হবার আহ্বান জানান। কোন শিশু যাতে স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে, শিশুশ্রমে যাতে যুক্ত না হয়, বাল্যবিয়ে যাতে না হয়, অপুষ্টিতে যাতে না থাকে, নিরন্ন যাতে না থাকে এ ব্যপারে আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখছি। জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম আপনাদের পাশে থাকবে।

একইদিন এপিসহ অন্যান্য অংশীজনদের সহায়তায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের চাষ করা সবজি বাগান থেকে ফসল বিক্রির টাকায় ১০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

জামালপুর এপি সূত্র জানায়, হংকং ও মালয়েশিয়া ওয়ার্ল্ড ভিশনের অর্থায়নে বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে উন্নয়ন সংঘ সদর উপজেলার শরিফপুর, লক্ষ্মীরচর এবং জামালপুর পৌরসভার চারটি ওয়ার্ডে ২০২১ সালে কাজ এপির কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে সূত্র জানায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী : দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

দানেও আনন্দ আছে : জামালপুরে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র দাতাদের অভিমত

আপডেট সময় ১০:৩৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

“দুই বছর আগে আমি জামালপুর এপি থনে (থেকে) তিনডে পাঠি ছাগল পাইছিলাম। ৫০ হাজার ট্যাহার ছাগল বেইচে এডা বহন গরু কিনছি। এহন আমার আরও আটটা ছাগল আছে। ওহান থনে আমি আমার পরসি গরিব বেঠি কল্পনারে এডা পাঠি দান করমু আইজ। এপির দানে আমার উন্নতি অইছে আমার দানে আরেকজুনের উন্নতি অবো এইডেই শান্তি। দানের মদ্যেও ম্যালা আনন্দ আছে বুজবার পাইতাছি।” এমন সরল এবং অকৃত্তিম অভিমত ব্যক্ত করেছেন জামালপুর সদর উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য লেবুজা বেগম।

৫ মে, মঙ্গলবার জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম আয়োজিত দানের আনন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ২৫ জন ক্ষুদ্রদাতা অন্যকে দান করার মধ্য দিয়ে আনন্দ যে উপভোগ করা যায় তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন সবাই।

এদিন শরিফ ইউনিয়নে এপির কর্মএলাকায় ২৫ জন ক্ষুদ্রদাতা অন্য হতদরিদ্র ২৫টি পরিবারের মাঝে আটটি ছাগল, নয়টি হাঁস এবং ৪২টি মুরগি দান করেন। এবছর দেড় শতাধিক পরিবার একই সংখ্যক পরিবারের মাঝে তাদের ঘূর্ণয়মান সম্পদ থেকে একটা অংশ দান করবে বলে জানা গেছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর রাজু উইলিয়াম রোজারিও, উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম, ওয়ার্ল্ড ভিশন জামালপুর এপির এরিয়া ম্যানেজার বিমল জেমস কস্তা, উন্নয়ন সংঘ জামালপুর এপির ম্যানেজার মিনারা পারভীন, সিডিও আফরোজা বেগম প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শরিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বিন্দু।

উল্লেখ, ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের আওতায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ৩০০ জন হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে তিনটি করে ছাগল বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, লক্ষভুক্ত পরিবারগুলোর শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ সর্বোত্তম সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে ছাগল, হাঁস, মুরগি, পুষ্টিকর গাছের চারা, সবজি বীজসহ আয়বর্ধনমূলকমূলক বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই বছরের ব্যবধানে পরিবারগুলোর আশাব্যঞ্জক উন্নতি সাধন হয়েছে। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ওয়াস সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবিকায়নে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

ছাগল দানে পেয়ে শরিফপুরের কল্পনা বেগম আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে বলেন, “আমি ম্যালা খুশি হইছি। নেবুজা বু’র নাহান আমিও ছাগল পাইলে উন্নুতি করমু। পুনাই গো নেহাপরা করামু।”

অনুষ্ঠানে এসে ওয়ার্ল্ড ভিশনের রাজু উইলিয়াম রোজারিও বলেন, দানেও যে আনন্দ আছে তা আপনাদের এ মহৎ উদ্যোগ দেখে উপলব্ধি করা যায়। তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সবকিছুই তার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। অনেকের কোটি কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও দানের মানসিকতা থাকে না। অথচ আপনার অল্প সম্পদ থেকেও অন্যকে দান করে আনন্দ পাচ্ছেন। তিনি পরিবারের প্রতিটি শিশুর প্রতি যত্নবান হবার আহ্বান জানান। কোন শিশু যাতে স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে, শিশুশ্রমে যাতে যুক্ত না হয়, বাল্যবিয়ে যাতে না হয়, অপুষ্টিতে যাতে না থাকে, নিরন্ন যাতে না থাকে এ ব্যপারে আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখছি। জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম আপনাদের পাশে থাকবে।

একইদিন এপিসহ অন্যান্য অংশীজনদের সহায়তায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের চাষ করা সবজি বাগান থেকে ফসল বিক্রির টাকায় ১০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

জামালপুর এপি সূত্র জানায়, হংকং ও মালয়েশিয়া ওয়ার্ল্ড ভিশনের অর্থায়নে বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে উন্নয়ন সংঘ সদর উপজেলার শরিফপুর, লক্ষ্মীরচর এবং জামালপুর পৌরসভার চারটি ওয়ার্ডে ২০২১ সালে কাজ এপির কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে সূত্র জানায়।