ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সব জেলায় খাদ্যের মান পরীক্ষাগার স্থাপনে জাইকার সহযোগিতা প্রয়োজন : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের স্বাধীন গণমাধ্যমের অধিকার সুরক্ষায় মিশরের প্রতি ইইউর আহ্বান শব্দদূষণের নতুন ৪টি উৎস শনাক্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে দেওয়ানগঞ্জে জেসমিন প্রকল্পের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দক্ষ নাবিক তৈরিতে কোনো কম্প্রোমাইজ নয় : নৌপরিবহন সচিব

মাচায় লাউ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন মাদারগঞ্জের কৃষক এমদাদ

মাদারগঞ্জ : গুনারীতলা ইউনিয়নের বালাভরট এলাকার কৃষক মো. এমদাদ হোসেনের মাচায় ধরেছে প্রচুর লাউ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সামান্য পুঁজি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে লাউ চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের বালাভরট এলাকার কৃষক মো. এমদাদ হোসেন।

এবার লাউয়ের ভাল ফলন হওয়ায় ভীষণ খুশি তিনি। মাত্র ২১ শতাংশ জমিতে লাউয়ের চারা রোপণ করে ইতিমধ্যে তিনি ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে প্রায় এক লাখ টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন তিনি। আগে ওই জমিতে বোরো ধান চাষ করতেন কৃষক এমদাদ। তবে ধানে লাভ কম হওয়ায় কয়েক বছর ধরে তিনি মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করেন।

জানা গেছে, লাউ মূলত শীতকালীন সবজি হলেও এখন সারাবছরই চাষ হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে শ্রম ও ব্যয় কম হওয়ায় মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় কীটনাশকও কম লাগে। লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ দিচ্ছে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা।

লাউ চাষি এমদাদ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১২ কাঠা (২১ শতাংশ) জমিতে মাচা তৈরি করে লাউ চাষ করেছেন। বীজ, সার ও মাচা তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এখন প্রতিটি লাউ বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। উপজেলার বালিজুড়ী, কালুর মোড় ও জোনাইল বাজারে এসব লাউ বিক্রি করেন তিনি। গত ছয় দিনে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন এমদাদ।

মাদারগঞ্জ : গুনারীতলা ইউনিয়নের বালাভরট এলাকার কৃষক মো. এমদাদ হোসেনের মাচায় ধরেছে প্রচুর লাউ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সরেজমিনে দেখা যায়, এমদাদের লাউ খেতে সারি সারি মাচার নিচে ঝুলছে শতাধিক সবুজ লাউ। রোদ উপেক্ষা করে এমদাদ তার কলেজপড়ুয়া ছেলে এমিয়ন ইসলাম সোহাগকে নিয়ে খেতে লাউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার ফলে ফলনও হয়েছে বেশ ভাল। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করে শুধু জৈব সার দিয়ে উৎপাদিত লাউয়ের চাহিদাও আছে স্থানীয়দের কাছে।

স্থানীয় কৃষক মো. নুর ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন,  কৃষক এমদাদের লাউ দেখে আমরাও উৎসাহিত হয়েছি। আগামী মৌসুমে আমিও মাচায় লাউ চাষের পরিকল্পনা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, এখন কৃষকদের মধ্যে মাচায় লাউ চাষের প্রবণতা বেড়েছে। এটি স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক ফসল। সঠিক পরিচর্যা ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা জানা থাকলে সহজেই ভাল ফলন পাওয়া যায়। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি যেন তারা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে সবজি উৎপাদন করেন।

তিনি আরও বলেন, কৃশক এমদাদ হোসেন একজন আদর্শ কৃষক। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। তার সফলতা অন্য কৃষকদেরও অনুপ্রেরণা দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

মাচায় লাউ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন মাদারগঞ্জের কৃষক এমদাদ

আপডেট সময় ০৯:৫০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সামান্য পুঁজি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে লাউ চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের বালাভরট এলাকার কৃষক মো. এমদাদ হোসেন।

এবার লাউয়ের ভাল ফলন হওয়ায় ভীষণ খুশি তিনি। মাত্র ২১ শতাংশ জমিতে লাউয়ের চারা রোপণ করে ইতিমধ্যে তিনি ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে প্রায় এক লাখ টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন তিনি। আগে ওই জমিতে বোরো ধান চাষ করতেন কৃষক এমদাদ। তবে ধানে লাভ কম হওয়ায় কয়েক বছর ধরে তিনি মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করেন।

জানা গেছে, লাউ মূলত শীতকালীন সবজি হলেও এখন সারাবছরই চাষ হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে শ্রম ও ব্যয় কম হওয়ায় মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় কীটনাশকও কম লাগে। লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ দিচ্ছে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা।

লাউ চাষি এমদাদ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১২ কাঠা (২১ শতাংশ) জমিতে মাচা তৈরি করে লাউ চাষ করেছেন। বীজ, সার ও মাচা তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এখন প্রতিটি লাউ বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। উপজেলার বালিজুড়ী, কালুর মোড় ও জোনাইল বাজারে এসব লাউ বিক্রি করেন তিনি। গত ছয় দিনে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন এমদাদ।

মাদারগঞ্জ : গুনারীতলা ইউনিয়নের বালাভরট এলাকার কৃষক মো. এমদাদ হোসেনের মাচায় ধরেছে প্রচুর লাউ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সরেজমিনে দেখা যায়, এমদাদের লাউ খেতে সারি সারি মাচার নিচে ঝুলছে শতাধিক সবুজ লাউ। রোদ উপেক্ষা করে এমদাদ তার কলেজপড়ুয়া ছেলে এমিয়ন ইসলাম সোহাগকে নিয়ে খেতে লাউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার ফলে ফলনও হয়েছে বেশ ভাল। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করে শুধু জৈব সার দিয়ে উৎপাদিত লাউয়ের চাহিদাও আছে স্থানীয়দের কাছে।

স্থানীয় কৃষক মো. নুর ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন,  কৃষক এমদাদের লাউ দেখে আমরাও উৎসাহিত হয়েছি। আগামী মৌসুমে আমিও মাচায় লাউ চাষের পরিকল্পনা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, এখন কৃষকদের মধ্যে মাচায় লাউ চাষের প্রবণতা বেড়েছে। এটি স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক ফসল। সঠিক পরিচর্যা ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা জানা থাকলে সহজেই ভাল ফলন পাওয়া যায়। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি যেন তারা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে সবজি উৎপাদন করেন।

তিনি আরও বলেন, কৃশক এমদাদ হোসেন একজন আদর্শ কৃষক। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। তার সফলতা অন্য কৃষকদেরও অনুপ্রেরণা দেবে।