ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পেল জামালপুরের কাশফিয়া মাদারগঞ্জে ভিজিএফের চাল বেচাকেনার দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা, চাল জব্দ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জামালপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরে উন্নয়ন সংঘের সিএনএসএ প্রকল্প বিষয়ক ধারণা উপস্থাপন শেরপুরে ব্যবসায়ী জয়নালের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলায় সাজা সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ : এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী চরযথার্থপুর দাখিল মাদরাসার দপ্তরীকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন নকলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

ইসলামপুরে আখের রস ছাড়াই অবৈধ প্রক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড়

ইসলামপুরে ভেজাল গুড়ের একটি কারখানা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

প্রবাদে আছে- কাঁসা, বেগুন ও গুড় এই তিনে মিলেই ইসলামপুর। প্রবাদ খ্যাত জামালপুরের ইসলামপুরে আখের রসের পরিবর্তে ময়দা, চিনি, হাইড্রোজ, সোডা ও গো-খাদ্য চিটাগুড়, নালি দিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল গুড় তৈরি হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই। বিষয়টি ক্ষতিয়ে না দেখায় ভেজাল গুড়ের জমজমাট ব্যবসা চলছেই। গড়ে উঠছে নতুন নতুন কারখানা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপুর পৌর এলাকার বোয়ালমারী গ্রামে গোলাপ, আমির আলী পেজু, আনারুল হোসেন আনোয়ার ও শামিম মির্জা ভেজাল গুড় তৈরির ব্যবসা করে আসছেন। কোন তদারকি না থাকায় গড়ে উঠছে ভেজাল গুড়ের নতুন নতুন কারখানা। মানবদেহের ক্ষতিকর ডাল্ডাসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে তা কড়াইয়ে জাল করে তৈরি হচ্ছে গুড়। কারখানায় নোংরা পরিবেশে খালি গায়ে হাতে মুঠোয় শরীরের ঘাম দিয়েই গুড় পাকাচ্ছে শ্রমিকেরা, মাছি ভন ভন করছে গুড়ে। যেন দেখার কেউ নেই। এ সময় কারখানার শ্রমিক ও মালিকেরা কোন বক্তব্য না দিতে চাইলেও জানান, ৫০ কেজি এক বস্তা চিনি দিয়ে সাথে ময়দা মিশিয়ে তারা ৫০০ গ্রামের ১০০ মুঠি গুড় তৈরি করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় আখের রসের পরিবর্তে ময়দা, চিনি, হাইড্রোজ, সোডা ও গো-খাদ্য চিটাগুড়, সুগার মিলের নালী, ইন্ডিয়ান চিনি এবং ডাল্ডা দিয়ে তৈরি হয় এসব গুড়। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ কায়দায় অস্বাস্থ্যকর ভেজাল গুড় তৈরি থেমে নেই।

কারখানা মালিক আনারুল জানান, এই গুড় তৈরির জন্য তাদের লাইসেন্স রয়েছে, ইন্ডিয়ান টিন ভর্তি গুড় এনে প্রক্রিয়া করে বিক্রি করে থাকেন।

গুড় ব্যবসায়ী গোলাপ বলেন, আমরা ইন্ডিয়ান গুড় এনে জাল করে গুড়ের কেজি মুঠো তৈরি করি। গত তিন মাস আগে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক অফিসার এসে আমাদের তৈরী গুড় পরীক্ষা করার জন্য নিয়েছে। এখনও লাইসেন্স হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানকার ভেজাল উপায়ে তৈরি গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। তাই এই এলাকার কোনটি আখের তৈরি গুড়, কোনটি ভেজাল কারখানার ইন্ডিয়ান গুড় ভোক্তাদের চেনার উপায় নেই।

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা স্যানেটারি পরিদর্শক নাছিমা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, খোঁজ নিয়ে ভেজাল গুড় তৈরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পেল জামালপুরের কাশফিয়া

ইসলামপুরে আখের রস ছাড়াই অবৈধ প্রক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড়

আপডেট সময় ০১:২৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪

প্রবাদে আছে- কাঁসা, বেগুন ও গুড় এই তিনে মিলেই ইসলামপুর। প্রবাদ খ্যাত জামালপুরের ইসলামপুরে আখের রসের পরিবর্তে ময়দা, চিনি, হাইড্রোজ, সোডা ও গো-খাদ্য চিটাগুড়, নালি দিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল গুড় তৈরি হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই। বিষয়টি ক্ষতিয়ে না দেখায় ভেজাল গুড়ের জমজমাট ব্যবসা চলছেই। গড়ে উঠছে নতুন নতুন কারখানা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপুর পৌর এলাকার বোয়ালমারী গ্রামে গোলাপ, আমির আলী পেজু, আনারুল হোসেন আনোয়ার ও শামিম মির্জা ভেজাল গুড় তৈরির ব্যবসা করে আসছেন। কোন তদারকি না থাকায় গড়ে উঠছে ভেজাল গুড়ের নতুন নতুন কারখানা। মানবদেহের ক্ষতিকর ডাল্ডাসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে তা কড়াইয়ে জাল করে তৈরি হচ্ছে গুড়। কারখানায় নোংরা পরিবেশে খালি গায়ে হাতে মুঠোয় শরীরের ঘাম দিয়েই গুড় পাকাচ্ছে শ্রমিকেরা, মাছি ভন ভন করছে গুড়ে। যেন দেখার কেউ নেই। এ সময় কারখানার শ্রমিক ও মালিকেরা কোন বক্তব্য না দিতে চাইলেও জানান, ৫০ কেজি এক বস্তা চিনি দিয়ে সাথে ময়দা মিশিয়ে তারা ৫০০ গ্রামের ১০০ মুঠি গুড় তৈরি করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় আখের রসের পরিবর্তে ময়দা, চিনি, হাইড্রোজ, সোডা ও গো-খাদ্য চিটাগুড়, সুগার মিলের নালী, ইন্ডিয়ান চিনি এবং ডাল্ডা দিয়ে তৈরি হয় এসব গুড়। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ কায়দায় অস্বাস্থ্যকর ভেজাল গুড় তৈরি থেমে নেই।

কারখানা মালিক আনারুল জানান, এই গুড় তৈরির জন্য তাদের লাইসেন্স রয়েছে, ইন্ডিয়ান টিন ভর্তি গুড় এনে প্রক্রিয়া করে বিক্রি করে থাকেন।

গুড় ব্যবসায়ী গোলাপ বলেন, আমরা ইন্ডিয়ান গুড় এনে জাল করে গুড়ের কেজি মুঠো তৈরি করি। গত তিন মাস আগে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক অফিসার এসে আমাদের তৈরী গুড় পরীক্ষা করার জন্য নিয়েছে। এখনও লাইসেন্স হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানকার ভেজাল উপায়ে তৈরি গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। তাই এই এলাকার কোনটি আখের তৈরি গুড়, কোনটি ভেজাল কারখানার ইন্ডিয়ান গুড় ভোক্তাদের চেনার উপায় নেই।

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা স্যানেটারি পরিদর্শক নাছিমা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, খোঁজ নিয়ে ভেজাল গুড় তৈরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।