জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পৌর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পৌর শহরের অধিকাংশ বাড়ির উঠান, আঙিনা, টয়লেট, গোসলখানা ও টিউবওয়েল তলিয়ে গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেককে হাঁটুপানি পেরিয়ে অন্যের বাড়িতে গিয়ে রান্না করাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে।

১৩ জুলাই, সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার মাঝিপাড়া, বাজারিপাড়ার কামিল মাদরাসা সড়ক, মাস্টারপাড়া, ডালবাড়ি, বাদেশাশারিয়াবাড়ি, বেলতলী বাসস্ট্যান্ড সড়ক, ঠোঁটাপাড়া, চরভবসুর পূর্বপাড়া, গুজিমারী, কালীতলা বাজারসংলগ্ন মণ্ডলপাড়া, জিলবাংলা সুগার মিলস বাজার এবং কামারপাড়া মধ্যপাড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজ।
জলাবদ্ধতার হাত থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও। দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, দেওয়ানগঞ্জ কামিল মাদরাসা মাঠ এবং দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা ক্লাস ও খেলাধুলা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদাম ও বন্ধ কালভার্ট। অপরিকল্পিত নগরায়ণই মূল কারণ।
কাছারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেদা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, এলাকার প্রায় তিন শতাধিক পরিবার ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জলাবদ্ধতার শিকার। একসময় এলাকার সব পানি একটি কালভার্ট দিয়ে নিষ্কাশিত হত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে কালভার্টটির মুখ বন্ধ থাকায় পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত কালভার্টটির মুখ খুলে দিলে এই সমস্যার বড় একটি সমাধান সম্ভব।
জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী মিনাল কান্তি মানিক বলেন, পৌরসভায় জনসংখ্যা ও বসতবাড়ির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। তদুপরি এলাকার পুকুর, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথও সংকুচিত হয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা এখন পৌরবাসীর প্রধান অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বাদেশাশারিয়াবাড়ির বাসিন্দা মমিন হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কারণে এলাকায় মশা ও বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পঁচা পানির দুর্গন্ধে চারপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত এই জলাবদ্ধতা নিরসন করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক শাহ জহুরুল হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, পৌর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির খবর পেয়ে আমি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসাবে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমে থাকা পানি অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পৌরবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মহা-পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
বিল্লাল হোসেন মন্ডল : নিজস্ব প্রতিবেদক, দেওয়ানগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 


















