ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন

জামালপুর : সনাক আয়োজিত মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যের নিয়ে জামালপুরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে।

১৪ জুন, রবিবার দুপুরে জামালপুর শহরের দয়াময়ী মোড়ে দিবসটি উপলক্ষ্যে মানববন্ধনের আয়োজন করে সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।

মানববন্ধনে সনাক সভাপতি শামীমা খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন জামালপুরের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিমল ডি কস্তা, উন্নয়ন সংঘের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিনারা পারভীন, সূর্য তোরণ সমাজসেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম, সনাক সদস্য মনোয়ারা খানম, রফিকুজ্জামান মল্লিক, শর্মী চৌধুরী, আসমাউল আসিফ, টিআইবি’র এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো. আরিফ হোসেন প্রমুখ। বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনার জন্য টিআইবি কর্তৃক একগুচ্ছ সুপারিশের প্রস্তাবনা সম্বলিত ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সহদলনেতা রত্ন বারই।

জামালপুর : মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সনাক সভাপতি শামীমা খান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এ সময় সনাক সভাপতি শামীমা খান বলেন, শিশুশ্রম সস্তা হওয়ায় বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োজিত করা হয়। বিশেষ করে কল-কারখানা, ওয়ার্কশপ, রেস্টুরেন্ট, ঘর গৃহস্থালির বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শিশুদের দিয়ে করানো হয়। এতে করে শিশুরা স্বাস্থ্যঝুকিতে পড়ছে। শিশুশ্রম কেবল একটি আইন লঙ্ঘন নয়। এটি শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানবিক মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত।

তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের অবসান ঘটাতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশুশ্রম শিশু অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজগুলো বহুলাংশে অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল, ফলে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এই খাতে ব্যবহার করা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, এই খাতে শিশুরা সাধারণত কোন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করার ফলে রোগব্যাধিসহ নানারকমের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হিসাবে বিবেচনা করা হলেও এই খাতে শিশুশ্রম ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গৃহস্থালি ও হোটেলে বর্জ্য সংগ্রহ, ডাম্পসাইট ও রাস্তাঘাট থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, অপ্রাতিষ্ঠানিক কারখানা ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপের বর্জ্য ইত্যাদি শিশুদের অনিরাপদ হাতেই পরিচালিত হচ্ছে।

মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিশুশ্রম বন্ধে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যাবস্থা নেয়ার আহবান জানান অংশগ্রহণকারীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন

আপডেট সময় ১০:৩৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যের নিয়ে জামালপুরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে।

১৪ জুন, রবিবার দুপুরে জামালপুর শহরের দয়াময়ী মোড়ে দিবসটি উপলক্ষ্যে মানববন্ধনের আয়োজন করে সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।

মানববন্ধনে সনাক সভাপতি শামীমা খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন জামালপুরের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিমল ডি কস্তা, উন্নয়ন সংঘের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিনারা পারভীন, সূর্য তোরণ সমাজসেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম, সনাক সদস্য মনোয়ারা খানম, রফিকুজ্জামান মল্লিক, শর্মী চৌধুরী, আসমাউল আসিফ, টিআইবি’র এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো. আরিফ হোসেন প্রমুখ। বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনার জন্য টিআইবি কর্তৃক একগুচ্ছ সুপারিশের প্রস্তাবনা সম্বলিত ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সহদলনেতা রত্ন বারই।

জামালপুর : মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সনাক সভাপতি শামীমা খান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এ সময় সনাক সভাপতি শামীমা খান বলেন, শিশুশ্রম সস্তা হওয়ায় বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োজিত করা হয়। বিশেষ করে কল-কারখানা, ওয়ার্কশপ, রেস্টুরেন্ট, ঘর গৃহস্থালির বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শিশুদের দিয়ে করানো হয়। এতে করে শিশুরা স্বাস্থ্যঝুকিতে পড়ছে। শিশুশ্রম কেবল একটি আইন লঙ্ঘন নয়। এটি শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানবিক মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত।

তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের অবসান ঘটাতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশুশ্রম শিশু অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজগুলো বহুলাংশে অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল, ফলে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এই খাতে ব্যবহার করা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, এই খাতে শিশুরা সাধারণত কোন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করার ফলে রোগব্যাধিসহ নানারকমের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হিসাবে বিবেচনা করা হলেও এই খাতে শিশুশ্রম ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গৃহস্থালি ও হোটেলে বর্জ্য সংগ্রহ, ডাম্পসাইট ও রাস্তাঘাট থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, অপ্রাতিষ্ঠানিক কারখানা ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপের বর্জ্য ইত্যাদি শিশুদের অনিরাপদ হাতেই পরিচালিত হচ্ছে।

মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিশুশ্রম বন্ধে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যাবস্থা নেয়ার আহবান জানান অংশগ্রহণকারীরা।