ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত জামালপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান খোকা স্মরণে দোয়া মাহফিল গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে ইউপি সদস্যসহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড বকশীগঞ্জে অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে মৃত দুই গ্রাহকের নমিনির হাতে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর মাদারগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত সরিষাবাড়ীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত উদ্ধার হলো খাস জমি, বন্ধ রাস্তা খুলে দেওয়ায় স্বস্তি নকলায় মাদক, দুর্নীতি ও বাল্যবিবাহ বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

বরগুনায় সর্ববৃহৎ জোছনা উৎসব

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক॥
বরগুনায় ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ জোছনা উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় বরগুনার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে এ উৎসবে রয়েছে নানা আয়োজন।

বরগুনার খড়স্রোতা পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী যেখানে সাগরে মিশেছে ঠিক সেখানে; নবগঠিত তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের স্নিগ্ধ বেলাভূমি ‘শুভ সন্ধ্যার’ বিস্তীর্ণ বালুচরে চতুর্থ বারের মত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একদিকে সীমাহীন সাগর। আরেকদিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। একদিকে দীর্ঘ ঝাউবন, আরেকদিকে তিন তিনটি নদীর বিশাল জলমোহনা। সবমিলিয়ে নদ-নদী আর বন-বনানীর এক অপরূপ সমাহার- শুভ সন্ধ্যার চর! ২২ নভেম্বর ভরাপূর্নীমায় এখানেই জলজোছনায় একাকার হবে জোছনাবিলাসী হাজারো মানুষ। এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুভ সন্ধ্যা সৈকতে বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে স্টল বানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

বরগুনা জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, এবারের জোছনা উৎসবে বরগুনা থেকে দুটি দ্বোতলা লঞ্চ সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২২ নভেম্বর দুপুর দেড়টায় বরগুনা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাবে। বরগুনার খাগদন নদী হয়ে বাইনচটকীর স্নিগ্ধ বনভূমির পাশ দিয়ে কুমীরমারা আর গোড়াপদ্মার নয়নাভিরাম বনবনানীর কোল ঘেঁষে বিকেল পাঁচটার দিকে লঞ্চ পোঁছবে শুভসন্ধার চরে। এরপর সেই স্নিগ্ধ বালুচরে শেষ বিকেলের ঘোরাঘুরির পর রাতভর জোছনার গান, রাখাইন নৃত্য, বাউল সঙ্গীত, মোহনীয় বাশি, পুঁথী এবং কবিতা আবৃত্তির সাথে সাথে জলজোছনায় অবগাহন হবে সবার। থাকবে লোভনীয় পুরস্কারের আকর্ষণীয় লটারী। গভীর রাত পর্যন্ত জোছনাস্নাত হয়ে রাত তিনটায় পূণরায় বরগুনার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছাড়বে। সকাল ছয়টা নাগাদ লঞ্চ ভিড়বে বরগুনার ঘাটে।

জোছনা উৎসবে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ রাজধানী ঢাকা এবং দেশ বিদেশের ২০ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক ভিড় জমাবেন বলে ধারণা করছে আয়োজক কমিটি। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময়, নদনদীর মোহনা এবং শীতের হিম হাওয়ার কথা ভবনায় রেখে এ উৎসবে ১০ বছরের কমবয়সী শিশুদের নিয়ে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তাছাড়া যেহেতু দীর্ঘ সময় বালুচরে ঘোরাঘুরি করতে হবে। সেহেতু বেলাভূমিতে নিজেদের মত করে আড্ডা জমাতে হলে ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় মাদুর, বিছানার চাদর, শীতের কাপড়, বিশুদ্ধ পানি, গামছা বা তোয়ালে, টিস্যু পেপার এবং লাইট স্ন্যাক্স সাথে নিয়ে আসার জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যারা ডাক্তারি পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন তাদের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে দরকারি সব ওষুধ সাথে নিতে।

বিশুদ্ধ খাবার পানির পাশাপাশি নারী ও পুরুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে। মূল স্টেজের পেছনেই থাকছে নারীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগার। স্টেজ থেকে একটু দখিনে ঝাউবন ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে নারী ও শিশুদের জন্য বিশ্রামাগার। থাকছে র্যা ব ও পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চাঁদনী রাতে তিন নদীর জলমোহনায় ছোট ছোট ট্রলার ভাড়া করে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানোর জন্য থাকছে ভাড়ায় চালিত ট্রলারের সুব্যবস্থাও। বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’টি নির্ধারিত হটলাইন নম্বর জানিয়ে দেয়া হয়েছে (০১৩১৮৬৫৫৬৩৬/০১৩১৮৬৫৫৬৩৬)। এ নম্বরে যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রেশনসহ জোছনা উৎসব সংক্রান্ত সকল তথ্য জানা যাবে। একই সাথে জোছনা উৎসব সংক্রান্ত সকল তথ্য উপাত্ত দিয়ে খোলা হয়েছে একটি ফেইসবুক পেইজও। যেখানে জোছনা উৎসব সংক্রান্ত সকল তথ্যসহ আকর্ষণীয় সব ডকুমেন্টারি শেয়ার করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

বরগুনায় সর্ববৃহৎ জোছনা উৎসব

আপডেট সময় ০৭:৪১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক॥
বরগুনায় ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ জোছনা উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় বরগুনার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে এ উৎসবে রয়েছে নানা আয়োজন।

বরগুনার খড়স্রোতা পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী যেখানে সাগরে মিশেছে ঠিক সেখানে; নবগঠিত তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের স্নিগ্ধ বেলাভূমি ‘শুভ সন্ধ্যার’ বিস্তীর্ণ বালুচরে চতুর্থ বারের মত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একদিকে সীমাহীন সাগর। আরেকদিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। একদিকে দীর্ঘ ঝাউবন, আরেকদিকে তিন তিনটি নদীর বিশাল জলমোহনা। সবমিলিয়ে নদ-নদী আর বন-বনানীর এক অপরূপ সমাহার- শুভ সন্ধ্যার চর! ২২ নভেম্বর ভরাপূর্নীমায় এখানেই জলজোছনায় একাকার হবে জোছনাবিলাসী হাজারো মানুষ। এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুভ সন্ধ্যা সৈকতে বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে স্টল বানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

বরগুনা জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, এবারের জোছনা উৎসবে বরগুনা থেকে দুটি দ্বোতলা লঞ্চ সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২২ নভেম্বর দুপুর দেড়টায় বরগুনা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাবে। বরগুনার খাগদন নদী হয়ে বাইনচটকীর স্নিগ্ধ বনভূমির পাশ দিয়ে কুমীরমারা আর গোড়াপদ্মার নয়নাভিরাম বনবনানীর কোল ঘেঁষে বিকেল পাঁচটার দিকে লঞ্চ পোঁছবে শুভসন্ধার চরে। এরপর সেই স্নিগ্ধ বালুচরে শেষ বিকেলের ঘোরাঘুরির পর রাতভর জোছনার গান, রাখাইন নৃত্য, বাউল সঙ্গীত, মোহনীয় বাশি, পুঁথী এবং কবিতা আবৃত্তির সাথে সাথে জলজোছনায় অবগাহন হবে সবার। থাকবে লোভনীয় পুরস্কারের আকর্ষণীয় লটারী। গভীর রাত পর্যন্ত জোছনাস্নাত হয়ে রাত তিনটায় পূণরায় বরগুনার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছাড়বে। সকাল ছয়টা নাগাদ লঞ্চ ভিড়বে বরগুনার ঘাটে।

জোছনা উৎসবে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ রাজধানী ঢাকা এবং দেশ বিদেশের ২০ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক ভিড় জমাবেন বলে ধারণা করছে আয়োজক কমিটি। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময়, নদনদীর মোহনা এবং শীতের হিম হাওয়ার কথা ভবনায় রেখে এ উৎসবে ১০ বছরের কমবয়সী শিশুদের নিয়ে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তাছাড়া যেহেতু দীর্ঘ সময় বালুচরে ঘোরাঘুরি করতে হবে। সেহেতু বেলাভূমিতে নিজেদের মত করে আড্ডা জমাতে হলে ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় মাদুর, বিছানার চাদর, শীতের কাপড়, বিশুদ্ধ পানি, গামছা বা তোয়ালে, টিস্যু পেপার এবং লাইট স্ন্যাক্স সাথে নিয়ে আসার জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যারা ডাক্তারি পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন তাদের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে দরকারি সব ওষুধ সাথে নিতে।

বিশুদ্ধ খাবার পানির পাশাপাশি নারী ও পুরুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে। মূল স্টেজের পেছনেই থাকছে নারীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগার। স্টেজ থেকে একটু দখিনে ঝাউবন ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে নারী ও শিশুদের জন্য বিশ্রামাগার। থাকছে র্যা ব ও পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চাঁদনী রাতে তিন নদীর জলমোহনায় ছোট ছোট ট্রলার ভাড়া করে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানোর জন্য থাকছে ভাড়ায় চালিত ট্রলারের সুব্যবস্থাও। বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’টি নির্ধারিত হটলাইন নম্বর জানিয়ে দেয়া হয়েছে (০১৩১৮৬৫৫৬৩৬/০১৩১৮৬৫৫৬৩৬)। এ নম্বরে যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রেশনসহ জোছনা উৎসব সংক্রান্ত সকল তথ্য জানা যাবে। একই সাথে জোছনা উৎসব সংক্রান্ত সকল তথ্য উপাত্ত দিয়ে খোলা হয়েছে একটি ফেইসবুক পেইজও। যেখানে জোছনা উৎসব সংক্রান্ত সকল তথ্যসহ আকর্ষণীয় সব ডকুমেন্টারি শেয়ার করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস