ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন জামালপুরে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু মাদারগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্নদশার অবসান চাই

ডাংধরায় সাপের কামড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ও সানন্দবাড়ী প্রতিনিধি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে রাশেদা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূ মারা গেছেন। ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের হারুয়াবাড়ী গ্রামে বৃষ্টির সময় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী মো. শহিদুর রহমানের স্ত্রী। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার এক সাপুড়ে ৩ সেপ্টেম্বর শহিদুর রহমানের ঘরের ইঁদুরের গর্ত থেকে একটি বিষধর গোখরো সাপ ধরে নিয়ে গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডাংধরা ইউনিয়নের হারুয়াবাড়ী গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী মো. শহিদুর রহমান ২ সেপ্টেম্বর রাতে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার নয়ানগর বাজারে তার ওষুধের দোকানে ছিলেন। প্রতিদিন ভোরে তিনি হারুয়াবাড়ী থেকে রাজিবপুরে তার দোকানে যান। অনেক রাতে বাড়িতে ফিরেন। ২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে বৃষ্টির মধ্যে তার স্ত্রী রাশেদা ছাতা আনার জন্য বেগম রান্না ঘর থেকে শোবার ঘরে যান। এ সময় বিদ্যুতও চলে যায়। ঘরের মেঝের কোনায় ইঁদুরের গর্তে পা ডেবে গেলে গর্ত থেকে একটি সাপ তার বাম পায়ের গোড়ালির ওপরে ছোবল দেয়। ভয় ও সাপের বিষের যন্ত্রণায় তিনি চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে রিকশাভ্যানে করে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে কাউনিয়ার চর ডাকাতিয়া বাড়ি গ্রামে স্থানীয় কবিরাজ মোস্তফার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কবিরাজ তাকে কিছুক্ষণ চিকিৎসা করেন। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই রাশেদা বেগম মারা যান।

মৃত ওই গৃহবধূর বাবা জয়নাল আবেদীন একজন পল্লীচিকিৎসক। তিনি বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে সাপেকাটার সংবাদ পেয়েই আমি এবং স্থানীয় লোকজন পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রাজিপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন দেই। সেখান থেকে জানানো হয় হাসপাতালে সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসার ভ্যাকসিন নেই। জামালপুরে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু হাতে সময়ই পাইলাম না। আমার মেয়েটা মারা গেল।’

পল্লীচিকিৎসক জয়নাল আবেদীন আরও জানান, সাপেকাটার সংবাদ পেয়ে পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর উপজেলার স্লুইচগেট এলাকার আসাদ মেম্বার নামের এক সাপুড়ে ৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে তার মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে প্রায় সাড়ে ৪ ফুট লম্বা একটি গোখরো সাপ ধরে নিয়ে গেছে। ওই সাপটি নাকি পুরুষ। আরো একটি স্ত্রী গোখরো সাপ আশপাশেই রয়েছে। এ নিয়ে বাড়িতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা

ডাংধরায় সাপের কামড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৯:১৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ও সানন্দবাড়ী প্রতিনিধি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে রাশেদা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূ মারা গেছেন। ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের হারুয়াবাড়ী গ্রামে বৃষ্টির সময় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী মো. শহিদুর রহমানের স্ত্রী। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার এক সাপুড়ে ৩ সেপ্টেম্বর শহিদুর রহমানের ঘরের ইঁদুরের গর্ত থেকে একটি বিষধর গোখরো সাপ ধরে নিয়ে গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডাংধরা ইউনিয়নের হারুয়াবাড়ী গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী মো. শহিদুর রহমান ২ সেপ্টেম্বর রাতে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার নয়ানগর বাজারে তার ওষুধের দোকানে ছিলেন। প্রতিদিন ভোরে তিনি হারুয়াবাড়ী থেকে রাজিবপুরে তার দোকানে যান। অনেক রাতে বাড়িতে ফিরেন। ২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে বৃষ্টির মধ্যে তার স্ত্রী রাশেদা ছাতা আনার জন্য বেগম রান্না ঘর থেকে শোবার ঘরে যান। এ সময় বিদ্যুতও চলে যায়। ঘরের মেঝের কোনায় ইঁদুরের গর্তে পা ডেবে গেলে গর্ত থেকে একটি সাপ তার বাম পায়ের গোড়ালির ওপরে ছোবল দেয়। ভয় ও সাপের বিষের যন্ত্রণায় তিনি চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে রিকশাভ্যানে করে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে কাউনিয়ার চর ডাকাতিয়া বাড়ি গ্রামে স্থানীয় কবিরাজ মোস্তফার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কবিরাজ তাকে কিছুক্ষণ চিকিৎসা করেন। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই রাশেদা বেগম মারা যান।

মৃত ওই গৃহবধূর বাবা জয়নাল আবেদীন একজন পল্লীচিকিৎসক। তিনি বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে সাপেকাটার সংবাদ পেয়েই আমি এবং স্থানীয় লোকজন পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রাজিপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন দেই। সেখান থেকে জানানো হয় হাসপাতালে সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসার ভ্যাকসিন নেই। জামালপুরে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু হাতে সময়ই পাইলাম না। আমার মেয়েটা মারা গেল।’

পল্লীচিকিৎসক জয়নাল আবেদীন আরও জানান, সাপেকাটার সংবাদ পেয়ে পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর উপজেলার স্লুইচগেট এলাকার আসাদ মেম্বার নামের এক সাপুড়ে ৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে তার মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে প্রায় সাড়ে ৪ ফুট লম্বা একটি গোখরো সাপ ধরে নিয়ে গেছে। ওই সাপটি নাকি পুরুষ। আরো একটি স্ত্রী গোখরো সাপ আশপাশেই রয়েছে। এ নিয়ে বাড়িতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।