ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী দারিদ্র্য দূর করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে চাই : মির্জা ফখরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রসারে অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : আইনমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রতারক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির গ্রেপ্তার মুন মেমোরিয়ালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা বকশীগঞ্জের কৃষকেরা বিনামূল্যে পেল বীজ সার গণপরিবহনে যাত্রীবান্ধব সেবার দাবিতে সনাকের মানববন্ধন

জামালপুরে এক নববধূকে গরম তেল ঢেলে নির্যাতন, থানায় মামলা, আসামিরা পলাতক

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার নববধূ আঙ্গুরী। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার নববধূ আঙ্গুরী। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে এক নববধূকে পিটিয়ে এবং শরীরে গরম তেল ঢেলে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে নববধূ আঙ্গুরী বেগমের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়। আঙ্গুরী বেগম জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের দরিদ্র আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২৫ জুলাই তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জামালপুর সদর থানা পুলিশ ২৪ জুলাই গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে নববধূকে উদ্ধার করেছে। নববধূ আঙ্গুরী বেগমের ওপর এ পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় তার বাবা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২৫ জুলাই রাতে যৌতুক নিরোধ আইনের ১১(গ) ধারায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্বামী বিল্লাল হোসেন সিকদার, শ্বশুর মো. হুরমুজ আলী, শাশুড়ি কোহিনূর বেগমসহ, ভাশুর মো. কবীরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আঙ্গুরী বেগমের স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ি গা ঢাকা দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটী গ্রামের হুরমুজ আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন সিকদারের (২৫) সাথে গত ২৯ জুন বিয়ে হয় আঙ্গুরী বেগমের (১৯)। বিয়েতে দেড় লাখ টাকা যৌতুকের সিদ্ধান্ত হয়। কনেপক্ষের সামর্থ্য না থাকায় নগদ ৫০ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে আঙ্গুরী বেগমকে তারা শ্বশুরবাড়িতে পাঠান। বিয়ের পরদিন ৩০ জুন যৌতুকের বাকি টাকা না দেওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন নববধূ আঙ্গুরী বেগমকে লাঠিপেটাসহ অমানুষিক নির্যাতন করে।

খবর পেয়ে আঙ্গুরী বেগমের বাবা ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। তারপরও নির্যাতন থামেনি। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ১৯ জুলাই রাতে ফুটন্ত গরম তেল ঢেলে আঙ্গুরী বেগমের বাম হাতের কব্জিপর্যন্ত ঝলসে দেয় এবং তাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পরিবারের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ব্যাপারে আঙ্গুরী বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে ২৪ জুলাই জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ করলে রাতেই পুলিশ অবরুদ্ধ আঙ্গুরী বেগমকে উদ্ধার করে।

এ দিকে যৌতুক নিয়ে কলহের জের ধরে পাশবিক নির্যাতনের শিকার আঙ্গুরী বেগমের আইনি সহায়তা দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম। তিনি এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ও দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, ২৪ জুলাই রাতে অবরুদ্ধ আঙ্গুরী বেগমকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিমুল ইসলাম বাংলার চিঠি ডটকমকে জানান, থানায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই অমানবিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী

জামালপুরে এক নববধূকে গরম তেল ঢেলে নির্যাতন, থানায় মামলা, আসামিরা পলাতক

আপডেট সময় ০৮:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮
যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার নববধূ আঙ্গুরী। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে এক নববধূকে পিটিয়ে এবং শরীরে গরম তেল ঢেলে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে নববধূ আঙ্গুরী বেগমের ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়। আঙ্গুরী বেগম জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের দরিদ্র আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২৫ জুলাই তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জামালপুর সদর থানা পুলিশ ২৪ জুলাই গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে নববধূকে উদ্ধার করেছে। নববধূ আঙ্গুরী বেগমের ওপর এ পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় তার বাবা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২৫ জুলাই রাতে যৌতুক নিরোধ আইনের ১১(গ) ধারায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্বামী বিল্লাল হোসেন সিকদার, শ্বশুর মো. হুরমুজ আলী, শাশুড়ি কোহিনূর বেগমসহ, ভাশুর মো. কবীরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আঙ্গুরী বেগমের স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ি গা ঢাকা দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটী গ্রামের হুরমুজ আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন সিকদারের (২৫) সাথে গত ২৯ জুন বিয়ে হয় আঙ্গুরী বেগমের (১৯)। বিয়েতে দেড় লাখ টাকা যৌতুকের সিদ্ধান্ত হয়। কনেপক্ষের সামর্থ্য না থাকায় নগদ ৫০ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে আঙ্গুরী বেগমকে তারা শ্বশুরবাড়িতে পাঠান। বিয়ের পরদিন ৩০ জুন যৌতুকের বাকি টাকা না দেওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন নববধূ আঙ্গুরী বেগমকে লাঠিপেটাসহ অমানুষিক নির্যাতন করে।

খবর পেয়ে আঙ্গুরী বেগমের বাবা ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। তারপরও নির্যাতন থামেনি। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ১৯ জুলাই রাতে ফুটন্ত গরম তেল ঢেলে আঙ্গুরী বেগমের বাম হাতের কব্জিপর্যন্ত ঝলসে দেয় এবং তাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পরিবারের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ব্যাপারে আঙ্গুরী বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে ২৪ জুলাই জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ করলে রাতেই পুলিশ অবরুদ্ধ আঙ্গুরী বেগমকে উদ্ধার করে।

এ দিকে যৌতুক নিয়ে কলহের জের ধরে পাশবিক নির্যাতনের শিকার আঙ্গুরী বেগমের আইনি সহায়তা দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম। তিনি এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ও দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, ২৪ জুলাই রাতে অবরুদ্ধ আঙ্গুরী বেগমকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিমুল ইসলাম বাংলার চিঠি ডটকমকে জানান, থানায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই অমানবিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।