ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের পথে একজন শারমিনের গল্প শেরপুরে দেশি কড়ি কাইট্টা উদ্ধার, অবমুক্ত জামালপুরে দোকান মালিক সমিতির পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের ‘বিশৃঙ্খলা ও নিষ্ঠুরতার’ সমালোচনা করলেন ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম গাড়ি কারখানা স্থাপনে ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে অডি : ট্রাম্প ইতালিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ জামালপুরে নাসিবের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মত জাতীয় জুনিয়র কারাতে প্রতিযোগিতায় জামালপুরের স্বর্ণ জয় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর

জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট একটি সফল আয়োজন : কিছু পর্যালোচনা

জামালপুর : ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম স্টেডিয়ামে ছিল হাজার হাজার দর্শকের সমাগম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস জামালপুরবাসী বহুদিন দেখে নাই। দলমত নির্বিশেষে উপভোগ করেছে ফুটবল খেলা। প্রায় মাসব্যপী অনবদ্য এই আয়োজন সফলভাবে শুরু ও শেষ করায় আপামর মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

এই টুর্নামেন্টের বড় লার্নিং মাদক এবং অনলাইনভিত্তিক জুয়া খেলায় আসক্তের হাত থেকে কিশোর ও যুব সমাজকে রক্ষা এবং তাদেরকে সুস্থধারা ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চায় আসক্তি সৃষ্টি করতে পারলে পরিশুদ্ধ সমাজ গঠনের পাশাপাশা আমাদের হাজার বছরের লালিত কৃষ্টি, কালচার প্রজন্মকে আলোকিত করবে। এগিয়ে যাবে দেশ আগামীর পথে। জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আমাদের স্বপ্নপূরণের পথে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

লীগপর্বের খেলা শেষে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার চূড়ান্ত পর্বের খেলায় স্টেডিয়ামে উপচেপড়া ভীড় ছিল। হাজারো মানুষ বাইরে অপেক্ষা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে আফসোস করে ফিরে এসেছে। আমি নিজেও প্রবেশ করার ব্যর্থ চেষ্টা শেষে ফিরতে বাধ্য হয়েছি। ফেসবুক লাইভে খন্ড ভিডিও দেখে ‘দুধের স্বাদ ঘোলে’ মিটিয়েছি। সব মিলিয়ে আমার অনুমানে ভেতরে বাইরে মিলে কমপক্ষে ৫০ হাজার দর্শকের আগমন ঘটেছিল আজ জামালপুরে।

অভাবনীয়, অবিস্মরণীয় এই সফল আয়োজনে নির্দ্বিধায় বলা যায় জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেমেন্ট স্মরণাতীত কালের মধ্যে ঐতিহাসিক আয়োজন।

সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মের কঠোরতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এ টুর্নামেন্ট। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো এই দীর্ঘ দিনের খেলা চলাকালীন একটি ম্যাচেও কোনধরনের অবাঞ্ছিত বা অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনার সৃষ্টি হয় নাই। আয়োজকদের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমী দর্শকেরা নিজেরাই নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে খেলাকে উপভোগ্য করে তুলেছে। এটাই খেলার সৌন্দর্য। ফাইনাল খেলা শেষে আপামর দর্শকদের মুখে মুখে আয়োজকদের নিয়ে প্রশংসায় ভাসছিল। খেলা পরিচালনা নিয়েও কোন ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

এই খেলা থেকে নীতিনির্ধারকদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সারাদেশের মতো জামালপুরেও খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জেলা শহর থেকে শুরু করে মফস্বল এলাকাতেও অধিকাংশ মাঠ দখল বা ধংস করা হয়েছে। খেলার মাঠের বদলে নানা কিসিমের স্থাপনা গড়ে তুলে সকল পর্যায়ের খেলা থেকে আমাদের শিশু, কিশোরদের বাইরে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে এসে খেলার মাঠের অভাবে মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। মোবাইল গেমস থেকে অল্প বয়সেই অনলাইন জুয়াসহ নানা ধরণের সাইবার অপরধে জড়িয়ে পড়ছে। প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে।

আমরা জামালপুরে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট মাঠের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে কতই না আবেদন করে আসছি। স্বয়ং ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিচালক রেদোয়ান ভাইসহ একাধিকবার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে মাঠের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছি। জায়গাও আছে প্রচুর। জিলা স্কুল মাঠের পশ্চিম-উত্তর পাশে জায়গা আছে। সেটা না হলেও শহরের দাপুনিয়া এলাকায় কমপক্ষে ৫০০ একর খাসজমি অনাবাদি ও জলাবদ্ধতায় পড়ে থাকে অনুৎপাদনশীল অবস্থায়। জেলা প্রশাসক মহোদয় সরেজমিনে গিয়ে সম্ভাব্যতা যাছাই করতে পারেন।

এ ছাড়া প্রতি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরি করতে পারলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আমাদের হারানো গৌরব ফিরে আসবে।

আজ ফাইনাল খেলা হাজার হাজার দর্শক সরাসরি দেখতে পারেন নাই। ফেসবুক লাইভ একটি ছিল যা এক মিনিট দেখা গেলে তিন মিনিট বন্ধ থাকতো।

সংবাদ মাধ্যমেও খেলার খবরগুলো আমরা দেখতে পাই নাই। জানি না সাংবাদিকদের সাথে কোনধরনের বৈষম্য করা হয়েছে কীনা।

ছোট খাট গ্যাপ ব্যতীত পুরো টুর্নামেন্ট ছিল সফল। আশা করছি আয়োজকেরা পরবর্তী এই ধরনের আয়োজনের আগে এই টুর্নামেন্টের গ্যাপগুলো মাথায় রাখবেন।

জাহাঙ্গীর সেলিম ≡ সম্পাদক, বাংলারচিঠিডটকম

জনপ্রিয় সংবাদ

দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের পথে একজন শারমিনের গল্প

জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট একটি সফল আয়োজন : কিছু পর্যালোচনা

আপডেট সময় ০৯:২৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস জামালপুরবাসী বহুদিন দেখে নাই। দলমত নির্বিশেষে উপভোগ করেছে ফুটবল খেলা। প্রায় মাসব্যপী অনবদ্য এই আয়োজন সফলভাবে শুরু ও শেষ করায় আপামর মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

এই টুর্নামেন্টের বড় লার্নিং মাদক এবং অনলাইনভিত্তিক জুয়া খেলায় আসক্তের হাত থেকে কিশোর ও যুব সমাজকে রক্ষা এবং তাদেরকে সুস্থধারা ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চায় আসক্তি সৃষ্টি করতে পারলে পরিশুদ্ধ সমাজ গঠনের পাশাপাশা আমাদের হাজার বছরের লালিত কৃষ্টি, কালচার প্রজন্মকে আলোকিত করবে। এগিয়ে যাবে দেশ আগামীর পথে। জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আমাদের স্বপ্নপূরণের পথে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

লীগপর্বের খেলা শেষে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার চূড়ান্ত পর্বের খেলায় স্টেডিয়ামে উপচেপড়া ভীড় ছিল। হাজারো মানুষ বাইরে অপেক্ষা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে আফসোস করে ফিরে এসেছে। আমি নিজেও প্রবেশ করার ব্যর্থ চেষ্টা শেষে ফিরতে বাধ্য হয়েছি। ফেসবুক লাইভে খন্ড ভিডিও দেখে ‘দুধের স্বাদ ঘোলে’ মিটিয়েছি। সব মিলিয়ে আমার অনুমানে ভেতরে বাইরে মিলে কমপক্ষে ৫০ হাজার দর্শকের আগমন ঘটেছিল আজ জামালপুরে।

অভাবনীয়, অবিস্মরণীয় এই সফল আয়োজনে নির্দ্বিধায় বলা যায় জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেমেন্ট স্মরণাতীত কালের মধ্যে ঐতিহাসিক আয়োজন।

সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মের কঠোরতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এ টুর্নামেন্ট। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো এই দীর্ঘ দিনের খেলা চলাকালীন একটি ম্যাচেও কোনধরনের অবাঞ্ছিত বা অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনার সৃষ্টি হয় নাই। আয়োজকদের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমী দর্শকেরা নিজেরাই নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে খেলাকে উপভোগ্য করে তুলেছে। এটাই খেলার সৌন্দর্য। ফাইনাল খেলা শেষে আপামর দর্শকদের মুখে মুখে আয়োজকদের নিয়ে প্রশংসায় ভাসছিল। খেলা পরিচালনা নিয়েও কোন ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

এই খেলা থেকে নীতিনির্ধারকদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সারাদেশের মতো জামালপুরেও খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জেলা শহর থেকে শুরু করে মফস্বল এলাকাতেও অধিকাংশ মাঠ দখল বা ধংস করা হয়েছে। খেলার মাঠের বদলে নানা কিসিমের স্থাপনা গড়ে তুলে সকল পর্যায়ের খেলা থেকে আমাদের শিশু, কিশোরদের বাইরে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে এসে খেলার মাঠের অভাবে মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। মোবাইল গেমস থেকে অল্প বয়সেই অনলাইন জুয়াসহ নানা ধরণের সাইবার অপরধে জড়িয়ে পড়ছে। প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে।

আমরা জামালপুরে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট মাঠের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে কতই না আবেদন করে আসছি। স্বয়ং ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিচালক রেদোয়ান ভাইসহ একাধিকবার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে মাঠের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছি। জায়গাও আছে প্রচুর। জিলা স্কুল মাঠের পশ্চিম-উত্তর পাশে জায়গা আছে। সেটা না হলেও শহরের দাপুনিয়া এলাকায় কমপক্ষে ৫০০ একর খাসজমি অনাবাদি ও জলাবদ্ধতায় পড়ে থাকে অনুৎপাদনশীল অবস্থায়। জেলা প্রশাসক মহোদয় সরেজমিনে গিয়ে সম্ভাব্যতা যাছাই করতে পারেন।

এ ছাড়া প্রতি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরি করতে পারলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আমাদের হারানো গৌরব ফিরে আসবে।

আজ ফাইনাল খেলা হাজার হাজার দর্শক সরাসরি দেখতে পারেন নাই। ফেসবুক লাইভ একটি ছিল যা এক মিনিট দেখা গেলে তিন মিনিট বন্ধ থাকতো।

সংবাদ মাধ্যমেও খেলার খবরগুলো আমরা দেখতে পাই নাই। জানি না সাংবাদিকদের সাথে কোনধরনের বৈষম্য করা হয়েছে কীনা।

ছোট খাট গ্যাপ ব্যতীত পুরো টুর্নামেন্ট ছিল সফল। আশা করছি আয়োজকেরা পরবর্তী এই ধরনের আয়োজনের আগে এই টুর্নামেন্টের গ্যাপগুলো মাথায় রাখবেন।

জাহাঙ্গীর সেলিম ≡ সম্পাদক, বাংলারচিঠিডটকম