বংশখালের উপরে পাটাতন দেওয়ার আগে খালটি পরিষ্কার করা অতীব জরুরি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি জামালপুর শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত বংশখালের উপর হাল্কা যান ও পায়ে হেটে চলাচলের জন্য বিকল্প সংযোগ সড়ক হিসাবে পাটাতন বসানো হবে। এটা একটা উত্তম ও সময়োপযোগী কাজ হবে।
আমরা এ ব্যাপারে সুদীর্ঘ বছর ধরে দাবি দাওয়া জানিয়ে আসছি। জনদাবি ও চাহিদার প্রেক্ষিতে ওয়ান ইলিভেনের সরকারের সময় খালটি দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে দুই পাশ ও তলদেশ পাকা করা হয়। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন মেয়র বর্তমানে জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানের সময় সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছি বংশখাল সংস্কার কার্যক্রম।

মূল শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এ খালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাড়ে ৩ কিলোমিটারের এ খালটি শহরের মালগুদাম থেকে শুরু হয়ে কালিঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে যুক্ত হয়েছে।
সময়ের পরিক্রমায় দুয়েকটি স্থান ব্যতীত দখল না হলেও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে খালটি। বাসিন্দা থেকে শুরু করে মেডিকেল বর্জ্য, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি বর্জের বড় ডাস্টবিন এখন জামালপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী বংশখালটি। ল্যাট্রিনের সংযোগ থেকে শুরু করে সকল ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অপচনশীল বিশেষ করে প্লাস্টিক, পলিথিন বর্জ্য ফেলার ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হবার পাশাপাশি সর্বোচ্চ দূষিত হয়ে গেছে বংশখালের পানি। এছাড়া, মশা-মাছিসহ বিষাক্ত কীট বা পোকামকড়ের অভয় বাসস্থান হয়েছে বংশখালটি।
পাটাতন বসানোর আগে যন্ত্রের মাধ্যমে আগে বংশখালটি পুরোদমে পরিষ্কার করাতে হবে। তা না হলে বিষবাষ্প তৈরি হয়ে যেমন বিষ্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা আছে। জলযট সৃষ্টি হয়ে পানিপ্রবাহও আটকে যাবে। ফলে বর্ষামৌসুমে শহরের পানি নামতে না পেরে অসহনীয় জলাবদ্ধতা তৈরি হবে।
একই সাথে বংশখাল পরিষ্কার না করার কারণে চুইয়ে যাওয়া বিষাক্ত পানি ব্রহ্মপুত্রে মিশে মাছসহ জলজ প্রাণী বিলুপ্তপ্রায়। এ অবস্থা নিরসনে অন্যান্য কারণে উদঘাটনের পাশাপাশি খালের আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

জামালপুর পৌরসভার প্রশাসক সরেজমিনে দেখে আগে বংশখালটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী খুশি হবে। এতে পানি দূষণ রোধসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। ফিরে পাব স্বচ্ছ জল ও গৌরবময় জলজ প্রাণীর অবাধ বিচরণ।
বংশখালের উপর এমনভাবে পাটাতন স্থাপন করতে যাতে কোনভাবে সেখানে ময়লা, আবর্জনা ফেলার সুযোগ না হয়। জানি না কাজটি কবে নাগাদ শুরু হবে। আমি মনে করি যেকোন প্রকল্প শুরু করার আগে সম্ভাব্যতা যাছাই করা জরুরি। পৌর কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় এ কাজটি করেছেন। এ ছাড়া এসব কাজে কমিউনিটি বা এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের পরামর্শে ভাল ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রাখবে।
জাহাঙ্গীর সেলিম : সম্পাদক, বাংলারচিঠিডটকম 



















