ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন : উপদেষ্টা ডা. জাহেদ জামালপুরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কনসালটেশন সেসন অনুষ্ঠিত বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু বকশীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ দানেও আনন্দ আছে : জামালপুরে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র দাতাদের অভিমত নিষিদ্ধ ইয়াবা বড়ি সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড মেয়েদের ছাতিয়ানতলা, ছেলেদের মাইনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল পিরোজপুরের সড়কগুলো দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিবেন : জেলা প্রশাসকদের প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রী

ইসলামপুরে জেগে উঠা যমুনার চরে স্বপ্নের লড়াই

ইসলামপুর : যমুনার চরে কৃষিকাজে ব্যস্ত একজন প্রবীণ কৃষক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

যমুনার জেগে উঠা চরে এখন সবুজের সমারোহ। যমুনায় জেগে উঠা উর্বর পলিমাটিযুক্ত জমিতে সোনালি দিনের স্বপ্ন বুনছেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষেরা। এখন নানা ফসলের আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ যেন এক নীরব কৃষি বিপ্লব। যমুনার চর এখন স্বপ্নের লড়াই।

একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে জেগে উঠছে নতুন চর। প্রবাহমান যমুনা নদীর ভাঙ্গা-গড়ার মাঝেই যুদ্ধ করে বাঁচতে হয় নদী পাড়ের মানুষদের। একসময় এই যমুনায় জেগে উঠা চরের বিস্তীর্ণ জমি পতিত হয়ে পড়েছিল বছরের পর বছর ধরে। এখন সেই চিত্রটি আর নেই। কোন জমি পতিত পড়ে থাকার দিন ফুরিয়ে গেছে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে। নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো মানুষেরা জেগে উঠা নতুন চরের প্রতি নিয়তই স্বপ্ন বুনছেন। তাদের কঠোর শ্রমে সেই জমিতে এখন ‘সোনা’ ফলছে।

ইসলামপুর : নারীরাও যমুনার চরে কৃষিকাজে ব্যস্ত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

স্থানীয়রা জানান, ভাঙা-গড়ার খেলায় প্রায় ২০ বছর ধরে যমুনার চর জেগে উঠছে। প্রতি বছরই একটু একটু করে বাড়ছে চরের ব্যপ্তি। নদীর উভয় পাড়ের অনেক পরিবার সময়ের প্রয়োজনে ও জীবিকার চাহিদায় এসে ঘর বেঁধেছেন নতুন জেগে উঠা এই চরে। ধীরে ধীরে বাড়ছে জনবসতি। ফলে একসময়ের অনাবাদি এই চরে বর্তমানে ধান, পাট, ভুট্টা, মরিচ, গম, মসুর, খেসারি, ছোলা, চীনা বাদাম, মিষ্টি আলু, পেঁয়াজ, রসুন, তিল, তিশি, কালোজিরা, আখ ও মাসকালাইসহ নানা ফসলের আবাদ চলছে। এ যেন বালুচরে শস্য বিপ্লব। আর জেগে উঠা এই চরে নদীভাঙনে সর্বহারা মানুষেরা গড়েছেন সম্ভাবনার নতুন সংসার।

সাপধরী ইউনিয়নের কাশারী ডোবা গ্রামের ছকিনা বেগম বলেন, বাপ-দাদার বসতবাড়ি প্রায় ৪৫ বছর আগে নদীতে ভেঙে যাওয়ায় আমরা পার্শ্ববর্তী জেলায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট নিয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করেছি। আবার আমাদের জমিগুলো জেগে উঠায় আবার ঘরবাড়ি করেছি।

ষাটোর্ধ কৃষক আহেদ আলী বলেন, বর্ষা মৌসুমে এ চর পানির নীচে থাকার কারণে বালু মাটির উপর পলিমাটি পড়ে। এতে করে ফলন অনেক ভাল হয়। বর্তমানে আমরা এই জমি আবাদ করেই বেঁচে আছি।

আব্দুল্লাহ শেখ নামের অপর এক কৃষক বলেন, বাপ-দাদার ভিটায় আবার মাটি কেটে উঁচু করে বাড়িঘর বানাইছি। এক ফসলি জমি আমাদের তারমধ্য পাঁচমাস বন্যার পানি থাকে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পইল মাটিতেই আবাদ করি। পইল মাটি সার হিসাবে কাজ করে। এতে আমাদের খরচ অনেক কম হয়।

ইসলামপুর : যমুনার চরে কৃষিকাজে কয়েকজন কৃষক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কৃষকদের অভিযোগ, নদীর বুকে জেগে উঠা চরে বিভিন্ন শস্যের আবাদ হলেও আমাদের খোঁজ নেয়ার মত কোন পর্যায়ের কোন কর্মকর্তার দেখা পাই না। নিজেদের চেষ্টাতেই আমরা আবাদ করি। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কৃষি বিভাগ যদি গভীর নলকূপ বা অন্য কোন উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করে তাহলে এখানের চাষ-বাসে অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। ওই এলাকার কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছে। স্থানীয় মাঠকর্মীরা চরাঞ্চলের এই দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ করছে। তবে এই এলাকার কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে আরও অধিক ফসল ফলানোর চিন্তা ভাবনা রয়েছে।

ইসলামপুর :

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন : উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

ইসলামপুরে জেগে উঠা যমুনার চরে স্বপ্নের লড়াই

আপডেট সময় ১০:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যমুনার জেগে উঠা চরে এখন সবুজের সমারোহ। যমুনায় জেগে উঠা উর্বর পলিমাটিযুক্ত জমিতে সোনালি দিনের স্বপ্ন বুনছেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষেরা। এখন নানা ফসলের আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ যেন এক নীরব কৃষি বিপ্লব। যমুনার চর এখন স্বপ্নের লড়াই।

একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে জেগে উঠছে নতুন চর। প্রবাহমান যমুনা নদীর ভাঙ্গা-গড়ার মাঝেই যুদ্ধ করে বাঁচতে হয় নদী পাড়ের মানুষদের। একসময় এই যমুনায় জেগে উঠা চরের বিস্তীর্ণ জমি পতিত হয়ে পড়েছিল বছরের পর বছর ধরে। এখন সেই চিত্রটি আর নেই। কোন জমি পতিত পড়ে থাকার দিন ফুরিয়ে গেছে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে। নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো মানুষেরা জেগে উঠা নতুন চরের প্রতি নিয়তই স্বপ্ন বুনছেন। তাদের কঠোর শ্রমে সেই জমিতে এখন ‘সোনা’ ফলছে।

ইসলামপুর : নারীরাও যমুনার চরে কৃষিকাজে ব্যস্ত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

স্থানীয়রা জানান, ভাঙা-গড়ার খেলায় প্রায় ২০ বছর ধরে যমুনার চর জেগে উঠছে। প্রতি বছরই একটু একটু করে বাড়ছে চরের ব্যপ্তি। নদীর উভয় পাড়ের অনেক পরিবার সময়ের প্রয়োজনে ও জীবিকার চাহিদায় এসে ঘর বেঁধেছেন নতুন জেগে উঠা এই চরে। ধীরে ধীরে বাড়ছে জনবসতি। ফলে একসময়ের অনাবাদি এই চরে বর্তমানে ধান, পাট, ভুট্টা, মরিচ, গম, মসুর, খেসারি, ছোলা, চীনা বাদাম, মিষ্টি আলু, পেঁয়াজ, রসুন, তিল, তিশি, কালোজিরা, আখ ও মাসকালাইসহ নানা ফসলের আবাদ চলছে। এ যেন বালুচরে শস্য বিপ্লব। আর জেগে উঠা এই চরে নদীভাঙনে সর্বহারা মানুষেরা গড়েছেন সম্ভাবনার নতুন সংসার।

সাপধরী ইউনিয়নের কাশারী ডোবা গ্রামের ছকিনা বেগম বলেন, বাপ-দাদার বসতবাড়ি প্রায় ৪৫ বছর আগে নদীতে ভেঙে যাওয়ায় আমরা পার্শ্ববর্তী জেলায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট নিয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করেছি। আবার আমাদের জমিগুলো জেগে উঠায় আবার ঘরবাড়ি করেছি।

ষাটোর্ধ কৃষক আহেদ আলী বলেন, বর্ষা মৌসুমে এ চর পানির নীচে থাকার কারণে বালু মাটির উপর পলিমাটি পড়ে। এতে করে ফলন অনেক ভাল হয়। বর্তমানে আমরা এই জমি আবাদ করেই বেঁচে আছি।

আব্দুল্লাহ শেখ নামের অপর এক কৃষক বলেন, বাপ-দাদার ভিটায় আবার মাটি কেটে উঁচু করে বাড়িঘর বানাইছি। এক ফসলি জমি আমাদের তারমধ্য পাঁচমাস বন্যার পানি থাকে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পইল মাটিতেই আবাদ করি। পইল মাটি সার হিসাবে কাজ করে। এতে আমাদের খরচ অনেক কম হয়।

ইসলামপুর : যমুনার চরে কৃষিকাজে কয়েকজন কৃষক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কৃষকদের অভিযোগ, নদীর বুকে জেগে উঠা চরে বিভিন্ন শস্যের আবাদ হলেও আমাদের খোঁজ নেয়ার মত কোন পর্যায়ের কোন কর্মকর্তার দেখা পাই না। নিজেদের চেষ্টাতেই আমরা আবাদ করি। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কৃষি বিভাগ যদি গভীর নলকূপ বা অন্য কোন উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করে তাহলে এখানের চাষ-বাসে অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। ওই এলাকার কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছে। স্থানীয় মাঠকর্মীরা চরাঞ্চলের এই দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ করছে। তবে এই এলাকার কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে আরও অধিক ফসল ফলানোর চিন্তা ভাবনা রয়েছে।

ইসলামপুর :