ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দেওয়ানগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু ইসলামপুরে নকল সিগারেটে বাজার সয়লাব সংসদ সদস্য বাবুলকে মাদারগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সংবর্ধনা মাহমুদপুরে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জন্য আমি এ পর্যন্ত এসেছি : ড. নিলোফার এমপি জাতীয় ঐকমত্য ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না : পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মির্জা ফখরুল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে হাসি ফুটলো ১২৯৫ পরিবারে

গাজীপুরে জামালপুরের পোশাককর্মী বিনার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

জামালপুরের পোশাককর্মী বিনা আক্তার (২২) ১৭ নভেম্বর, সোমবার দুপুরে গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মারা গেছেন। বিনা আক্তার বকশীগঞ্জ বাট্টাজোড় ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার সুলতান মাহমুদের মেয়ে। বিনা আক্তার তার স্বামী জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এ ঘটনাকে রহস্যজনক মনে করছে তার পরিবার।

বিনা আক্তারের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বিনা আক্তার ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সাতানী পাড়া গ্রামের জুয়েল মিয়ার বিয়ে হয়। জুয়েল মিয়া ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।  বিয়ের পর জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরিতে যোগ দেন বিনা আক্তার। বড়বাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা।

বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে জুয়েল মিয়া বিনা আক্তারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

বিনা আক্তারের পরিবার জানায়, ১৬ নভেম্বর, রবিবার রাতে বিনা আক্তার ও জুয়েলের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পরদিন ১৭ নভেম্বর, সোমবার দুপুরে আকস্মিকভাবে স্বামীর পক্ষ থেকে বিনা আক্তারের মারা যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়৷ তবে এ ঘটনার পর থেকে জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

বিনা আক্তারের বাবা সুলতান মাহমুদ এ প্রতিবেদককে বলেন, জুয়েল আর বিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। জুয়েল প্রায় সময় আমার মেয়েকে মারধর করত। আমার ধারণা জুয়েলই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। তারপরও আমরা অনুরোধ করেছিলাম মরদেহ প্রথমে যেন আমাদের বাড়িতে আনা হয়। কিন্তু গোপনে অন্য রাস্তা দিয়ে রাত ৯টার দিকে তারা মরদেহ তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেয়। তখন আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে জুয়েলের বাড়িতে যাই। ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফন করতে বাধা দেই।

পরে উভয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় অবশেষে বিনা আক্তারের মরদেহ আমাদের বাড়িতে আনা হয়।বিষয়টি বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করা হলে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, খবর পাওয়ার পরই ১৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার ভোরে বিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুরের গাছা থানায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

গাজীপুরে জামালপুরের পোশাককর্মী বিনার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

আপডেট সময় ১০:৩০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

জামালপুরের পোশাককর্মী বিনা আক্তার (২২) ১৭ নভেম্বর, সোমবার দুপুরে গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মারা গেছেন। বিনা আক্তার বকশীগঞ্জ বাট্টাজোড় ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার সুলতান মাহমুদের মেয়ে। বিনা আক্তার তার স্বামী জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এ ঘটনাকে রহস্যজনক মনে করছে তার পরিবার।

বিনা আক্তারের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বিনা আক্তার ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সাতানী পাড়া গ্রামের জুয়েল মিয়ার বিয়ে হয়। জুয়েল মিয়া ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।  বিয়ের পর জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরিতে যোগ দেন বিনা আক্তার। বড়বাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা।

বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে জুয়েল মিয়া বিনা আক্তারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

বিনা আক্তারের পরিবার জানায়, ১৬ নভেম্বর, রবিবার রাতে বিনা আক্তার ও জুয়েলের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পরদিন ১৭ নভেম্বর, সোমবার দুপুরে আকস্মিকভাবে স্বামীর পক্ষ থেকে বিনা আক্তারের মারা যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়৷ তবে এ ঘটনার পর থেকে জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

বিনা আক্তারের বাবা সুলতান মাহমুদ এ প্রতিবেদককে বলেন, জুয়েল আর বিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। জুয়েল প্রায় সময় আমার মেয়েকে মারধর করত। আমার ধারণা জুয়েলই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। তারপরও আমরা অনুরোধ করেছিলাম মরদেহ প্রথমে যেন আমাদের বাড়িতে আনা হয়। কিন্তু গোপনে অন্য রাস্তা দিয়ে রাত ৯টার দিকে তারা মরদেহ তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেয়। তখন আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে জুয়েলের বাড়িতে যাই। ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফন করতে বাধা দেই।

পরে উভয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় অবশেষে বিনা আক্তারের মরদেহ আমাদের বাড়িতে আনা হয়।বিষয়টি বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করা হলে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, খবর পাওয়ার পরই ১৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার ভোরে বিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুরের গাছা থানায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।