ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত আইনজীবীর কার্যালয় থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক উদ্ধার এক শিক্ষকেই চলছে পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সামছুল হুদার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মাদারগঞ্জে সাপে কাটা নারীর মৃত্যু, স্বাস্থ্যকর্মীর উপর হামলা জামালপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত জামালপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান খোকা স্মরণে দোয়া মাহফিল গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে ইউপি সদস্যসহ ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড বকশীগঞ্জে অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে মৃত দুই গ্রাহকের নমিনির হাতে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

গাজীপুরে জামালপুরের পোশাককর্মী বিনার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

জামালপুরের পোশাককর্মী বিনা আক্তার (২২) ১৭ নভেম্বর, সোমবার দুপুরে গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মারা গেছেন। বিনা আক্তার বকশীগঞ্জ বাট্টাজোড় ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার সুলতান মাহমুদের মেয়ে। বিনা আক্তার তার স্বামী জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এ ঘটনাকে রহস্যজনক মনে করছে তার পরিবার।

বিনা আক্তারের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বিনা আক্তার ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সাতানী পাড়া গ্রামের জুয়েল মিয়ার বিয়ে হয়। জুয়েল মিয়া ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।  বিয়ের পর জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরিতে যোগ দেন বিনা আক্তার। বড়বাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা।

বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে জুয়েল মিয়া বিনা আক্তারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

বিনা আক্তারের পরিবার জানায়, ১৬ নভেম্বর, রবিবার রাতে বিনা আক্তার ও জুয়েলের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পরদিন ১৭ নভেম্বর, সোমবার দুপুরে আকস্মিকভাবে স্বামীর পক্ষ থেকে বিনা আক্তারের মারা যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়৷ তবে এ ঘটনার পর থেকে জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

বিনা আক্তারের বাবা সুলতান মাহমুদ এ প্রতিবেদককে বলেন, জুয়েল আর বিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। জুয়েল প্রায় সময় আমার মেয়েকে মারধর করত। আমার ধারণা জুয়েলই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। তারপরও আমরা অনুরোধ করেছিলাম মরদেহ প্রথমে যেন আমাদের বাড়িতে আনা হয়। কিন্তু গোপনে অন্য রাস্তা দিয়ে রাত ৯টার দিকে তারা মরদেহ তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেয়। তখন আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে জুয়েলের বাড়িতে যাই। ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফন করতে বাধা দেই।

পরে উভয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় অবশেষে বিনা আক্তারের মরদেহ আমাদের বাড়িতে আনা হয়।বিষয়টি বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করা হলে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, খবর পাওয়ার পরই ১৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার ভোরে বিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুরের গাছা থানায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শেরপুর জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

গাজীপুরে জামালপুরের পোশাককর্মী বিনার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

আপডেট সময় ১০:৩০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

জামালপুরের পোশাককর্মী বিনা আক্তার (২২) ১৭ নভেম্বর, সোমবার দুপুরে গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মারা গেছেন। বিনা আক্তার বকশীগঞ্জ বাট্টাজোড় ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার সুলতান মাহমুদের মেয়ে। বিনা আক্তার তার স্বামী জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এ ঘটনাকে রহস্যজনক মনে করছে তার পরিবার।

বিনা আক্তারের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বিনা আক্তার ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সাতানী পাড়া গ্রামের জুয়েল মিয়ার বিয়ে হয়। জুয়েল মিয়া ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।  বিয়ের পর জুয়েল মিয়ার সঙ্গে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরিতে যোগ দেন বিনা আক্তার। বড়বাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা।

বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে জুয়েল মিয়া বিনা আক্তারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

বিনা আক্তারের পরিবার জানায়, ১৬ নভেম্বর, রবিবার রাতে বিনা আক্তার ও জুয়েলের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পরদিন ১৭ নভেম্বর, সোমবার দুপুরে আকস্মিকভাবে স্বামীর পক্ষ থেকে বিনা আক্তারের মারা যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়৷ তবে এ ঘটনার পর থেকে জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

বিনা আক্তারের বাবা সুলতান মাহমুদ এ প্রতিবেদককে বলেন, জুয়েল আর বিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। জুয়েল প্রায় সময় আমার মেয়েকে মারধর করত। আমার ধারণা জুয়েলই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। তারপরও আমরা অনুরোধ করেছিলাম মরদেহ প্রথমে যেন আমাদের বাড়িতে আনা হয়। কিন্তু গোপনে অন্য রাস্তা দিয়ে রাত ৯টার দিকে তারা মরদেহ তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেয়। তখন আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে জুয়েলের বাড়িতে যাই। ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফন করতে বাধা দেই।

পরে উভয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় অবশেষে বিনা আক্তারের মরদেহ আমাদের বাড়িতে আনা হয়।বিষয়টি বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করা হলে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, খবর পাওয়ার পরই ১৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার ভোরে বিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুরের গাছা থানায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।