ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী স্কুলজীবনে শিক্ষকদের স্মৃতি : শাহ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছাগল পেল ১২০ পরিবার মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় : মির্জা ফখরুল রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে জনগণের সঠিক ধারণা নির্ভর করে গণমাধ্যমের ওপর : তথ্যমন্ত্রী কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী ১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫৭ টাকা অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিং ঠেকাতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস সঙ্গীত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে অনন্য সেতুবন্ধ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইসলামপুরে অসময়ে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা আখচাষীরা

ইসলামপুর : নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙনে আখসহ বিভিন্ন ফসল নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

অসময়ে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জামালপুরের ইসলামপুর যমুনা পাড়ের আখ চাষীরা। নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে আখক্ষেত, বসতভিটা আর ফসলি জমি। জিল বাংলা চিনিকলে আখ না নেয়ায় চরম বিপাকে রয়েছেন চাষীরা।

উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হঠাৎ নদীর পানি কমে যাওয়ার পর থেকেই দেখা দেয় ভাঙন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় আখচাষী বাহাজ উদ্দিন আকন্দ বলেন, আমার দুই একর আখক্ষেত সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই এলাকার সাইফুল ইসলাম, কামরুল হক ও দুদু মিয়ার প্রায় পাঁচ একর জমিও নদী ভাঙনে হারিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, এই কয়েক দিনে প্রায় ২০ একর আখক্ষেত ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

চাষী সোহানুর বলেন, বছরের পর বছর কষ্ট করে আখ চাষ করলেও এবার হঠাৎ ভাঙনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। জিল বাংলা চিনিকল কর্তৃপক্ষ এ বছর এখনও আখ সংগ্রহ উদ্বোধন করেননি। বিক্রিও করতে দিচ্ছেন না। ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। আখচাষী সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনে জমি গেছে, জিল বাংলা চিনিকল কর্তৃপক্ষও নিচ্ছে না আখ। কোথায় যাব। কার কাছে বলব। বুঝে উঠতে পারছি না।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যমুনা নদীতে প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। এবার আমাদের জমি ও ফসল দুটোই যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।


ইসলামপুর : নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকেরা হতাশায় রয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোমান হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমানে ভাঙনের বিষয়টি আমি জেনেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানাব।

দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগগ্রস্ত জমির আখগুলো বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান এ প্রতিবেদককে বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

ইসলামপুরে অসময়ে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা আখচাষীরা

আপডেট সময় ০৯:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

অসময়ে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জামালপুরের ইসলামপুর যমুনা পাড়ের আখ চাষীরা। নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে আখক্ষেত, বসতভিটা আর ফসলি জমি। জিল বাংলা চিনিকলে আখ না নেয়ায় চরম বিপাকে রয়েছেন চাষীরা।

উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হঠাৎ নদীর পানি কমে যাওয়ার পর থেকেই দেখা দেয় ভাঙন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় আখচাষী বাহাজ উদ্দিন আকন্দ বলেন, আমার দুই একর আখক্ষেত সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই এলাকার সাইফুল ইসলাম, কামরুল হক ও দুদু মিয়ার প্রায় পাঁচ একর জমিও নদী ভাঙনে হারিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, এই কয়েক দিনে প্রায় ২০ একর আখক্ষেত ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

চাষী সোহানুর বলেন, বছরের পর বছর কষ্ট করে আখ চাষ করলেও এবার হঠাৎ ভাঙনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। জিল বাংলা চিনিকল কর্তৃপক্ষ এ বছর এখনও আখ সংগ্রহ উদ্বোধন করেননি। বিক্রিও করতে দিচ্ছেন না। ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। আখচাষী সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনে জমি গেছে, জিল বাংলা চিনিকল কর্তৃপক্ষও নিচ্ছে না আখ। কোথায় যাব। কার কাছে বলব। বুঝে উঠতে পারছি না।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যমুনা নদীতে প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। এবার আমাদের জমি ও ফসল দুটোই যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রশাসন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।


ইসলামপুর : নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকেরা হতাশায় রয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোমান হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমানে ভাঙনের বিষয়টি আমি জেনেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানাব।

দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগগ্রস্ত জমির আখগুলো বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান এ প্রতিবেদককে বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।