ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মাননা ও উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ ইসলামপুরে নৌকা বাইচের পর এক ব্যক্তির মৃত্যু সাংবাদিক আলিফ হত্যা : বকশীগঞ্জে প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা : তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার চাইতে বেশি হওয়ায় শ্রীলঙ্কায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদায় নিতে হলো ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিবকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার উপযুক্ত পোপ লিও: চিকিৎসকরা

মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ হাজারেরও বেশি আধা সামরিক সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিল্লির

জাতিগত দাঙ্গায় বিপর্যস্ত মণিপুর অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৫ হাজারেরও বেশি আধা সামরিক সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লিতে আসীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ১৮ নভেম্বর সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু ও আরটির

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ বৈঠক। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

বৈঠকে প্রথমে মণিপুর রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং তার পর্যালোচনা করা হয়। তারপর গৃহীত হয় এ সিদ্ধান্ত।

যে ৫ সহস্রাধিক আধাসামরিক সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ২ হাজার জন ভারতের কেন্দ্রীয় পুলিশের এলিট শাখা সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেসের (সিএপিএফ) সদস্য। বাকিরা সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের।

২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরের সংখ্যাগুরু ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী জাতিগোষ্ঠী মেইতেইকে তফসিলি জাতির মর্যাদা দেয় মণিপুর হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে রাজ্যের সংখ্যালঘু কুকি জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। কুকি জাতির লোকজনরা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

কুকিদের এ আন্দোলন অচিরেই রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন মেইতেই এবং কুকি জাতিগোষ্ঠীর শতাধিক নারী-পুরুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

তারপর থেকে কখনও আপাত শান্ত, কখনও বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পার করছে মণিপুর। তবে গত শনিবার রাজ্যের জিরিবাম এলাকায় তিন জন নারী ও তিন জন শিশু নিহতের ঘটনা ফের উস্কে দিয়েছে দাঙ্গা। নিহত এই ছয়জন কুকি সম্প্রদায়ের ছিলেন।

গত দু’দিনে রাজ্যজুড়ে মেইতেইদের ওপর হামলা শুরু করেছে কুকি জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র যোদ্ধারা। পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে ইতোমধ্যে ১০ জন কুাকি যোদ্ধা নিহতও হয়েছেন।

কিন্তু তারপরও শান্ত হচ্ছে না মণিপুর। সোমবারের বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ৫ সহস্রাধিক আধাসামরিক সেনার মূল দায়িত্ব থাকবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজ্য সরকারকে সহায়তা করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি

মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ হাজারেরও বেশি আধা সামরিক সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিল্লির

আপডেট সময় ০৩:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪

জাতিগত দাঙ্গায় বিপর্যস্ত মণিপুর অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৫ হাজারেরও বেশি আধা সামরিক সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লিতে আসীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ১৮ নভেম্বর সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু ও আরটির

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ বৈঠক। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

বৈঠকে প্রথমে মণিপুর রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং তার পর্যালোচনা করা হয়। তারপর গৃহীত হয় এ সিদ্ধান্ত।

যে ৫ সহস্রাধিক আধাসামরিক সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ২ হাজার জন ভারতের কেন্দ্রীয় পুলিশের এলিট শাখা সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেসের (সিএপিএফ) সদস্য। বাকিরা সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের।

২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরের সংখ্যাগুরু ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী জাতিগোষ্ঠী মেইতেইকে তফসিলি জাতির মর্যাদা দেয় মণিপুর হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে রাজ্যের সংখ্যালঘু কুকি জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। কুকি জাতির লোকজনরা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

কুকিদের এ আন্দোলন অচিরেই রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন মেইতেই এবং কুকি জাতিগোষ্ঠীর শতাধিক নারী-পুরুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

তারপর থেকে কখনও আপাত শান্ত, কখনও বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি পার করছে মণিপুর। তবে গত শনিবার রাজ্যের জিরিবাম এলাকায় তিন জন নারী ও তিন জন শিশু নিহতের ঘটনা ফের উস্কে দিয়েছে দাঙ্গা। নিহত এই ছয়জন কুকি সম্প্রদায়ের ছিলেন।

গত দু’দিনে রাজ্যজুড়ে মেইতেইদের ওপর হামলা শুরু করেছে কুকি জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র যোদ্ধারা। পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে ইতোমধ্যে ১০ জন কুাকি যোদ্ধা নিহতও হয়েছেন।

কিন্তু তারপরও শান্ত হচ্ছে না মণিপুর। সোমবারের বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ৫ সহস্রাধিক আধাসামরিক সেনার মূল দায়িত্ব থাকবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজ্য সরকারকে সহায়তা করা।