ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরেক জিয়াউর রহমান : প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অপবাদ সইতে না পেরে মায়ের আত্মহত্যা জামালপুরে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানে মানববন্ধন দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় মদ উদ্ধার ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার রূপ দিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ইসলামপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত ইসলামপুরে অষ্টমী স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল মাদারগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত বকশীগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

দুর্নীতি : খাতেমুন মঈন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, হামলায় আহত ৬

অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

দুর্নীতির অভিযোগে জামালপুরের বকশীগঞ্জের খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারকে অপসারণের দাবিতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলেজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় শিক্ষক-কর্মচারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। ২৫ আগস্ট রবিবার দুপুরে অধ্যক্ষের লেলিয়ে দেওয়া বহিরাগত একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্র জানায়, বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মীয়করণ ও অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের ঘোরতর অভিযোগ রয়েছে। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাকে অপসারণ ও আইনের আওতায় আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।

৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ দলীয় হাসিনার সরকারের পতনের পরও অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদার কলেজে স্বপদে বহাল থাকার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এসব কারণে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছেন। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন এ সময় অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত থেকে কর্মবিরতি পালন করা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। একই সময় তাকে মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করতে দেখা যায়। এদিকে কর্মবিরতি পালন শেষে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বসে অধ্যক্ষের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় বেলা সোয়া ১২টার দিকে বহিরাগত একদল লোক আন্দোলনরত শিক্ষক কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিপেটা করে অন্তত ছয়জনকে গুরুতর আহত করেন। একই সাথে হামলাকারীরা কলেজের সকল ক্লাশ থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়।

হামলায় গুরুতররা হলেন সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাআল মোকাদ্দেস রিপন, সহকারী অধ্যাপক মো. বজলুর রশিদ, সহকারী অধ্যাপক আনিছুজ্জামান, প্রভাষক মো. রুস্তম আলী, উচ্চমান সহকারী মো. ইলিয়াস হোসেন, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল শাফী লিপন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মো. আব্দুল্লাহ আল শাফী লিপনকে বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহত মো. আব্দুল্লাহ আল শাফী লিপন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সহকারী অধ্যাপক মো. বজলুর রশিদ বহিরাগতদের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারকে অপসারণের দাবিতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলনে আছি। এরই অংশ হিসেবে ২৫ আগস্ট এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করি। কর্মবিরতি পালন শেষে আমরা সকল শিক্ষক- কর্মচারী পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এ সময় অধ্যক্ষের লেলিয়ে দেওয়া বহিরাগত একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমিসহ অন্তত ছয়জন আহত হই। কলেজের অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। অধ্যক্ষের এহেন কর্মকাণ্ডে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদার এ প্রতিবেদককে বলেন, কলেজে কোনোরকম কর্মবিরতি পালিত হয়নি। আমি এমনিতেই শিক্ষক-কর্মচারীসহ বিভিন্ন মহলের হুমকির মধ্যেও প্রতিদিন কলেজে আসি। ২৫ আগস্ট বহিরাগত একদল লোক কলেজে হামলা চালানোর সময় আমার কক্ষে ছিলাম। শিক্ষক-কর্মচারী কেউ আহত হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এ সময় আমার কিছু লোকজন আমাকে কলেজ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরেক জিয়াউর রহমান : প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান

দুর্নীতি : খাতেমুন মঈন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, হামলায় আহত ৬

আপডেট সময় ০৫:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৪
অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

দুর্নীতির অভিযোগে জামালপুরের বকশীগঞ্জের খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারকে অপসারণের দাবিতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলেজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় শিক্ষক-কর্মচারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। ২৫ আগস্ট রবিবার দুপুরে অধ্যক্ষের লেলিয়ে দেওয়া বহিরাগত একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্র জানায়, বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মীয়করণ ও অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের ঘোরতর অভিযোগ রয়েছে। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাকে অপসারণ ও আইনের আওতায় আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।

৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ দলীয় হাসিনার সরকারের পতনের পরও অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদার কলেজে স্বপদে বহাল থাকার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এসব কারণে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছেন। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন এ সময় অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত থেকে কর্মবিরতি পালন করা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। একই সময় তাকে মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করতে দেখা যায়। এদিকে কর্মবিরতি পালন শেষে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বসে অধ্যক্ষের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় বেলা সোয়া ১২টার দিকে বহিরাগত একদল লোক আন্দোলনরত শিক্ষক কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিপেটা করে অন্তত ছয়জনকে গুরুতর আহত করেন। একই সাথে হামলাকারীরা কলেজের সকল ক্লাশ থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়।

হামলায় গুরুতররা হলেন সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাআল মোকাদ্দেস রিপন, সহকারী অধ্যাপক মো. বজলুর রশিদ, সহকারী অধ্যাপক আনিছুজ্জামান, প্রভাষক মো. রুস্তম আলী, উচ্চমান সহকারী মো. ইলিয়াস হোসেন, কলেজ প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল শাফী লিপন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মো. আব্দুল্লাহ আল শাফী লিপনকে বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহত মো. আব্দুল্লাহ আল শাফী লিপন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সহকারী অধ্যাপক মো. বজলুর রশিদ বহিরাগতদের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদারকে অপসারণের দাবিতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলনে আছি। এরই অংশ হিসেবে ২৫ আগস্ট এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করি। কর্মবিরতি পালন শেষে আমরা সকল শিক্ষক- কর্মচারী পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এ সময় অধ্যক্ষের লেলিয়ে দেওয়া বহিরাগত একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমিসহ অন্তত ছয়জন আহত হই। কলেজের অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। অধ্যক্ষের এহেন কর্মকাণ্ডে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. বজলুল করিম তালুকদার এ প্রতিবেদককে বলেন, কলেজে কোনোরকম কর্মবিরতি পালিত হয়নি। আমি এমনিতেই শিক্ষক-কর্মচারীসহ বিভিন্ন মহলের হুমকির মধ্যেও প্রতিদিন কলেজে আসি। ২৫ আগস্ট বহিরাগত একদল লোক কলেজে হামলা চালানোর সময় আমার কক্ষে ছিলাম। শিক্ষক-কর্মচারী কেউ আহত হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এ সময় আমার কিছু লোকজন আমাকে কলেজ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।