ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাড় নয়, কঠোর অবস্থানে সরকার : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী জামালপুরে হস্তশিল্পের সম্ভাবনায় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু ইউপি নির্বাচন : বকশীগঞ্জে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে জলাশয় খাসপুকুরে ৩০৭ কেজি পোনা অবমুক্ত জামালপুর এপির বার্ষিক শিখন সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে নারী এক গাঁজা ব্যবসায়ীকে ৩ মাসের কারাদণ্ড শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান

আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস : কেমন আছে শেরপুরের নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ?

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

আজ (৯ আগস্ট) সোমবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। খুব স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপন করছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় অধ্যুষিত তিনটি উপজেলার অধিবাসীরা। জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দিবসটি উদযাপনে আলোচনাসভার দিন ও সময় পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন তারা।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দাড়িয়ে কেমন আছে শেরপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষজন।

এমন প্রশ্নে ঝিনাইগাতী ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকশি আজ সোমবার দুপুরে বলেন, আমরা এখনও আদিবাসী মর্যাদা পাইনি, আমরা শত বছর যাবত বনে বাস করলেও আমাদের ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি মেরামত করতে দিচ্ছে না বন বিভাগ। যে কারণে মেঘ বৃষ্টিতে আমরা অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। আমাদেরকে উচ্ছেদ করে পাহাড়ের এক হাজার একর জমিতে ন্যাশনাল পার্ক করবে বন বিভাগ। এর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া, রাংটিয়া, হালচাটি, নকশি, গজনী, গান্ধীগাঁও, বড় গজনী, ছোট গজনী, বাকাকুড়ার কিছু অংশসহ তাওয়াকুচা পর্যন্ত। ওই পার্ক স্থাপন হলে কমপক্ষে পাঁচ হাজার আদিবাসী উচ্ছেদের শিকার হবে। এসব কিছু মিলিয়ে আমরা ভালো নেই।

আদিবাসীরা পাহাড় থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে, কেউ ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালায় বলে তিনি জানান।

নবেশ খকশি আক্ষেপ করে বলেন, ৭১’ এর যুদ্ধের পর বাড়ি ফিরে দেখি আমাদের জমিজমা বাড়ি ঘর সব বেদখল হয়ে গেছে। তখন থেকেই আমরা নি:স্ব। পরে জমি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন সময়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। উচ্চ আদালতের রায়ে আমরা ডিগ্রী পাই। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের ভ‚মির দখল বুঝিয়ে দিয়ে গেলেও জবরদখলকারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ওইসব জমি আবারও তারা বেদখল দেয়। শুধু তাই না, আমাদের বিপুল পরিমাণ জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া আরওআর রেকর্ডভুক্ত বেশ কিছু জমি পরবর্তীতে বিআরএস খতিয়ানে বন বিভাগের নামে চলে গেছে। এসব নিয়ে আদালতে মোকদ্দমা চলমান আছে বলে তিনি জানান।

করোনায় লকডাউন থাকার কারণে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আলোচনাসভা আজ হয়নি উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, এ নিয়ে আগামী ১১ আগস্ট ঝিনাইগাতীর বড় গজনীতে তিন উপজেলার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আমাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।

নালিতাবাড়ী ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান লুইস জানান, পাহাড়ে গারো, কোচ, হাজং, বানাই, বর্মণ ও হদিসহ আট জাতি গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছে। তিন উপজেলা মিলিয়ে ওইসব সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার।

আপলোডকারীর তথ্য

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস : কেমন আছে শেরপুরের নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ?

আপডেট সময় ০৭:২১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অগাস্ট ২০২১

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

আজ (৯ আগস্ট) সোমবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। খুব স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপন করছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় অধ্যুষিত তিনটি উপজেলার অধিবাসীরা। জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দিবসটি উদযাপনে আলোচনাসভার দিন ও সময় পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন তারা।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দাড়িয়ে কেমন আছে শেরপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষজন।

এমন প্রশ্নে ঝিনাইগাতী ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকশি আজ সোমবার দুপুরে বলেন, আমরা এখনও আদিবাসী মর্যাদা পাইনি, আমরা শত বছর যাবত বনে বাস করলেও আমাদের ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি মেরামত করতে দিচ্ছে না বন বিভাগ। যে কারণে মেঘ বৃষ্টিতে আমরা অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। আমাদেরকে উচ্ছেদ করে পাহাড়ের এক হাজার একর জমিতে ন্যাশনাল পার্ক করবে বন বিভাগ। এর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া, রাংটিয়া, হালচাটি, নকশি, গজনী, গান্ধীগাঁও, বড় গজনী, ছোট গজনী, বাকাকুড়ার কিছু অংশসহ তাওয়াকুচা পর্যন্ত। ওই পার্ক স্থাপন হলে কমপক্ষে পাঁচ হাজার আদিবাসী উচ্ছেদের শিকার হবে। এসব কিছু মিলিয়ে আমরা ভালো নেই।

আদিবাসীরা পাহাড় থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে, কেউ ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালায় বলে তিনি জানান।

নবেশ খকশি আক্ষেপ করে বলেন, ৭১’ এর যুদ্ধের পর বাড়ি ফিরে দেখি আমাদের জমিজমা বাড়ি ঘর সব বেদখল হয়ে গেছে। তখন থেকেই আমরা নি:স্ব। পরে জমি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন সময়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। উচ্চ আদালতের রায়ে আমরা ডিগ্রী পাই। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের ভ‚মির দখল বুঝিয়ে দিয়ে গেলেও জবরদখলকারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ওইসব জমি আবারও তারা বেদখল দেয়। শুধু তাই না, আমাদের বিপুল পরিমাণ জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া আরওআর রেকর্ডভুক্ত বেশ কিছু জমি পরবর্তীতে বিআরএস খতিয়ানে বন বিভাগের নামে চলে গেছে। এসব নিয়ে আদালতে মোকদ্দমা চলমান আছে বলে তিনি জানান।

করোনায় লকডাউন থাকার কারণে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আলোচনাসভা আজ হয়নি উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, এ নিয়ে আগামী ১১ আগস্ট ঝিনাইগাতীর বড় গজনীতে তিন উপজেলার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আমাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।

নালিতাবাড়ী ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান লুইস জানান, পাহাড়ে গারো, কোচ, হাজং, বানাই, বর্মণ ও হদিসহ আট জাতি গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছে। তিন উপজেলা মিলিয়ে ওইসব সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার।