ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে : আলী রীয়াজ দেওয়ানপাড়ায় খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া দেওয়ানগঞ্জে সরিষার ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা ইসলামপুরে শীতার্তদের শীতবস্ত্র দিল রেডক্রিসেন্ট মাদারগঞ্জে আগুনে পুড়ল দরিদ্র কৃষকের গবাদি পশুসহ বসতবাড়ি নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবেলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা বিজয় দিবসে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং, গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম বাংলাদেশের জামালপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৪ জনের কারাদণ্ড ইসলামপুরে লুট হচ্ছে ফসলি জমির টপ সয়েল, ঝুঁকিতে কৃষি আবাদ জামালপুরে প্রজনন স্বাস্থসেবা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

শরিফপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী রতন গ্রেপ্তার

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী মো. রতন। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী মো. রতন। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের জের ধরে প্রথম স্ত্রী হাসি বেগম (২৫) স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই গৃহবধূর স্বামী মো. রতনকে জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রতন জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বগালী গ্রামের মৃত মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বগালী গ্রামের মো. রতন ছয় বছর আগে জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাগেরপাড়া গ্রামের মো. অহিজলের মেয়ে হাসি বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই রতন যৌতুকের জন্য স্ত্রী হাসি বেগমকে নির্যাতন করে আসছেন। এ নিয়ে হাসি বেগম আদালতে মামলা দায়ের করলে উভয়পক্ষের আপসরফায় তারা পুনরায় সংসার করে আসছিলেন। রতন ফের যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে এবং হাসি বেগমকে ছয়মাস আগে তার বাবার বাড়ি মেলান্দহের নাগেরপাড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। তাদের পাঁচ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে তালাক না হলেও প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে রতন দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে হাসি বেগম তার শিশু সন্তান ও বোন খুশি বেগমকে নিয়ে শরিফপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যান। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয় নিয়ে স্বামী রতনের সাথে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে স্বামী রতন ও তার পরিবারের অন্যান্যরা হাসি বেগমকে কোদাল দিয়ে কোপ দিয়ে এবং বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তার বোন খুশি বেগম ফেরাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। কোদালের আঘাতে হাসি বেগমের ডান পা এবং পীঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।

ওইদিন রাতেই সদর থানা পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসি বেগমকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে হাসি বেগম ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার বাবার বাড়ি মেলান্দহের নাগেরপাড়ায় ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় হাসি বেগমের বাবা মো. অহিজল বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাসি বেগমের স্বামী মো. রতনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকা থেকে মামলাটির প্রধান আসামি মো. রতনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, ‘হাসি নামের গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা নিয়েছি। তার স্বামী মো. রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে : আলী রীয়াজ

শরিফপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী রতন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৭:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী মো. রতন। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের জের ধরে প্রথম স্ত্রী হাসি বেগম (২৫) স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই গৃহবধূর স্বামী মো. রতনকে জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রতন জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বগালী গ্রামের মৃত মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বগালী গ্রামের মো. রতন ছয় বছর আগে জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাগেরপাড়া গ্রামের মো. অহিজলের মেয়ে হাসি বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই রতন যৌতুকের জন্য স্ত্রী হাসি বেগমকে নির্যাতন করে আসছেন। এ নিয়ে হাসি বেগম আদালতে মামলা দায়ের করলে উভয়পক্ষের আপসরফায় তারা পুনরায় সংসার করে আসছিলেন। রতন ফের যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে এবং হাসি বেগমকে ছয়মাস আগে তার বাবার বাড়ি মেলান্দহের নাগেরপাড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। তাদের পাঁচ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে তালাক না হলেও প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে রতন দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে হাসি বেগম তার শিশু সন্তান ও বোন খুশি বেগমকে নিয়ে শরিফপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যান। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয় নিয়ে স্বামী রতনের সাথে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে স্বামী রতন ও তার পরিবারের অন্যান্যরা হাসি বেগমকে কোদাল দিয়ে কোপ দিয়ে এবং বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তার বোন খুশি বেগম ফেরাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। কোদালের আঘাতে হাসি বেগমের ডান পা এবং পীঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।

ওইদিন রাতেই সদর থানা পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসি বেগমকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে হাসি বেগম ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার বাবার বাড়ি মেলান্দহের নাগেরপাড়ায় ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় হাসি বেগমের বাবা মো. অহিজল বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাসি বেগমের স্বামী মো. রতনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকা থেকে মামলাটির প্রধান আসামি মো. রতনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, ‘হাসি নামের গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা নিয়েছি। তার স্বামী মো. রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’