ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিজিবি’র অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে ভারতীয় মদসহ প্রাইভেট কার জব্দ, আটক ২ মাদারগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে মরে যাচ্ছে মরিচগাছ, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়ন ভারত সয়েল ফিভারে থাইল্যান্ডে ৫৭০ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৫ দীর্ঘ ৫ বছর পর ছেলের সাথে ফোনে কথা বললেন অং সান সু চি

মার্কিন দূতের রাশিয়া সফরের পর কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

জামালপুর : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গতরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। হামলায় ছয়জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। এর কিছুক্ষণ আগে রাশিয়া ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

২১ অক্টোবর, বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে তারা ‘এতটা কাছাকাছি আগে কখনো আসেননি।’ কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ায় পুতিনের প্রশংসা করেন উইটকফ। তিনি রুশ প্রেসিডেন্টকে ‘মানবতাবাদী’ বলে অভিহিত করেন। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক শেষে ক্রেমলিন জানায়, মস্কো নীতিগতভাবে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাজি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিকের মাধ্যমে পাঠানো ইউক্রেন ও ইউরোপের শান্তি প্রস্তাবে তেমন কোনো ‘সারবস্তু’ নেই।

গতরাতে হামলা অব্যাহত ছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২২ অক্টোবর ভোরে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী কিয়েভের দিকে ‘আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে’ বলে সতর্কবার্তা দেয়। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষও জানায়, রাতের হামলায় তারা বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে মস্কোর দিকে উড়ে আসা ১৬০টিরও বেশি ড্রোন রয়েছে।

মঙ্গলবার অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে রাশিয়ায় যান উইটকফ। ট্রাম্প ও ইউক্রেনের নেতার মধ্যে তিক্ত বিরোধ প্রশমিত করাই ছিল ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য।

পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় দূর থেকে অংশ নেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও।

ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাশিয়া ‘নীতিগতভাবে প্রস্তুত’। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ আলোচনা শুরু হতে পারে। ক্রেমলিন চায়, আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাক।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরুর নির্দেশ দেন পুতিন।

এরপর থেকে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। একই সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশ দখলে নেওয়ার বিষয়ে মস্কোর অভিপ্রায়ের কথাও জানিয়ে আসছেন।

‘এখনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি’-

উশাকভ বলেন, অসলো বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলো ও কিয়েভের অবস্থানে নতুন যেসব দিক উঠে এসেছে, সে বিষয়ে উইটকফ পুতিনকে অবহিত করেছেন।

তবে তিনি বলেন, এসব প্রস্তাবে ‘আসলে তেমন কোনো সারবস্তু ছিল না।’

উশাকভ আরও জানান, আগামী মাসে চীনের শেনজেনে পুতিন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি একে ‘ইতিহাসে এ ধরণের প্রথম বৈঠক’ বলে অভিহিত করেন।

তিন ঘণ্টার বৈঠকে ট্রাম্পের অনুরোধে হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ায় পুতিনের প্রশংসা করেন উইটকফ। সত্তরের কোঠায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক হাবার্ড বরাবরই ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে নিজেকে ‘ভাড়াটে যোদ্ধা’ হিসেবে অভিযুক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন।

উইটকফ পুতিনকে বলেন, ‘আপনি আমার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মানবতাবাদী হিসেবে উল্লেখ করতে শুনেছেন। আপনিও একজন মানবতাবাদী, মহোদয়। এ জন্য আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাই।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ বলেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনা ‘গঠনমূলক’ হয়েছে। তবে ‘এখনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে’। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এক বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এ যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প আবারও দেশটি থেকে মনোযোগ সরিয়ে পুতিনের দিকে ঝুঁকেছেন। ইরান যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার ডিজেল বিক্রির বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ২১ অক্টোবর  তিনি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, হাবার্ডের মুক্তি নিশ্চিত করতে এটি প্রয়োজন ছিল। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যদি ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেন, তাহলে তাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতে হতো। তাকে আর কখনো দেখতে পেতেন না।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে কিয়েভও সম্মত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এ বৈঠকের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা এতে সম্মত।’

পুতিনের সঙ্গে উইটকফের নবম বৈঠকের সময়ও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত ছিল। শীতকাল সামনে রেখে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে চারজন নিহত : ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাশিয়ার হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানী কিয়েভে দুজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে এক বয়স্ক দম্পতি রয়েছেন। অন্যদিকে, রুশ দখলাধীন লুহানস্ক অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি টেলিফোন কোম্পানিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার উইটকফ ও জেলেনস্কির বৈঠকের আগে কয়েক দিন ধরে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এ সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান আলোচনায় ‘কিছুটা অগ্রগতির গতি’ দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল বিক্রির চুক্তির জন্যও পুতিনকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন দূত। এ চুক্তি কিয়েভ ও ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে এ চুক্তিকে দেখা হচ্ছে। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। সূত্র : বাসস

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

মার্কিন দূতের রাশিয়া সফরের পর কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আপডেট সময় ০৮:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গতরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। হামলায় ছয়জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। এর কিছুক্ষণ আগে রাশিয়া ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

২১ অক্টোবর, বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে তারা ‘এতটা কাছাকাছি আগে কখনো আসেননি।’ কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ায় পুতিনের প্রশংসা করেন উইটকফ। তিনি রুশ প্রেসিডেন্টকে ‘মানবতাবাদী’ বলে অভিহিত করেন। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক শেষে ক্রেমলিন জানায়, মস্কো নীতিগতভাবে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাজি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওই কূটনীতিকের মাধ্যমে পাঠানো ইউক্রেন ও ইউরোপের শান্তি প্রস্তাবে তেমন কোনো ‘সারবস্তু’ নেই।

গতরাতে হামলা অব্যাহত ছিল। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২২ অক্টোবর ভোরে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী কিয়েভের দিকে ‘আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে’ বলে সতর্কবার্তা দেয়। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষও জানায়, রাতের হামলায় তারা বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে মস্কোর দিকে উড়ে আসা ১৬০টিরও বেশি ড্রোন রয়েছে।

মঙ্গলবার অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে রাশিয়ায় যান উইটকফ। ট্রাম্প ও ইউক্রেনের নেতার মধ্যে তিক্ত বিরোধ প্রশমিত করাই ছিল ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য।

পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় দূর থেকে অংশ নেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও।

ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাশিয়া ‘নীতিগতভাবে প্রস্তুত’। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ আলোচনা শুরু হতে পারে। ক্রেমলিন চায়, আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাক।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরুর নির্দেশ দেন পুতিন।

এরপর থেকে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। একই সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশ দখলে নেওয়ার বিষয়ে মস্কোর অভিপ্রায়ের কথাও জানিয়ে আসছেন।

‘এখনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি’-

উশাকভ বলেন, অসলো বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলো ও কিয়েভের অবস্থানে নতুন যেসব দিক উঠে এসেছে, সে বিষয়ে উইটকফ পুতিনকে অবহিত করেছেন।

তবে তিনি বলেন, এসব প্রস্তাবে ‘আসলে তেমন কোনো সারবস্তু ছিল না।’

উশাকভ আরও জানান, আগামী মাসে চীনের শেনজেনে পুতিন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি একে ‘ইতিহাসে এ ধরণের প্রথম বৈঠক’ বলে অভিহিত করেন।

তিন ঘণ্টার বৈঠকে ট্রাম্পের অনুরোধে হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ায় পুতিনের প্রশংসা করেন উইটকফ। সত্তরের কোঠায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক হাবার্ড বরাবরই ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে নিজেকে ‘ভাড়াটে যোদ্ধা’ হিসেবে অভিযুক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন।

উইটকফ পুতিনকে বলেন, ‘আপনি আমার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মানবতাবাদী হিসেবে উল্লেখ করতে শুনেছেন। আপনিও একজন মানবতাবাদী, মহোদয়। এ জন্য আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাই।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ বলেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনা ‘গঠনমূলক’ হয়েছে। তবে ‘এখনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে’। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এক বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এ যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প আবারও দেশটি থেকে মনোযোগ সরিয়ে পুতিনের দিকে ঝুঁকেছেন। ইরান যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার ডিজেল বিক্রির বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তও পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ২১ অক্টোবর  তিনি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, হাবার্ডের মুক্তি নিশ্চিত করতে এটি প্রয়োজন ছিল। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যদি ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেন, তাহলে তাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতে হতো। তাকে আর কখনো দেখতে পেতেন না।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে কিয়েভও সম্মত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এ বৈঠকের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা এতে সম্মত।’

পুতিনের সঙ্গে উইটকফের নবম বৈঠকের সময়ও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত ছিল। শীতকাল সামনে রেখে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে চারজন নিহত : ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাশিয়ার হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানী কিয়েভে দুজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে এক বয়স্ক দম্পতি রয়েছেন। অন্যদিকে, রুশ দখলাধীন লুহানস্ক অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি টেলিফোন কোম্পানিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন।

২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার উইটকফ ও জেলেনস্কির বৈঠকের আগে কয়েক দিন ধরে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এ সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান আলোচনায় ‘কিছুটা অগ্রগতির গতি’ দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল বিক্রির চুক্তির জন্যও পুতিনকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন দূত। এ চুক্তি কিয়েভ ও ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে এ চুক্তিকে দেখা হচ্ছে। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। সূত্র : বাসস