জামালপুরে আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতিতে আমানতকৃত অর্থ উদ্ধারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে ৫ দফা দাবি জানিয়েছে গ্রাহকরা। সমিতিতে ১২ হাজার ৫০০ গ্রাহকের আমানত উদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি চললেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। গ্রাহকেরা তাদের আমানত ফিরে না পেয়ে কেউ কেউ নিঃস্ব হয়েছে। কেউ বা করছে মানবেতর জীবনযাপন।
২৬ অক্টোবর, সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমানত ফিরে পেতে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে অর্থ উদ্ধার আন্দোলন কমিটি। এই মানববন্ধন থেকে অর্থ উদ্ধারে পাঁচদফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো হলো- মাদারগঞ্জ উপজেলা ও জামালপুর সদর শাখার আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সকল আসামিদের আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির হিসাব মতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাত করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে চলমান রেখে এবং সুকৌশলে ব্যক্তি সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেছে। সেইসব প্রতিষ্ঠান যেমন শাহ্ জামাল হাসপাতাল, আলফা ব্রিক্স, আলফা গার্ডেনসহ সকল বহুতল ভবন এবং সম্পত্তি বিভিন্ন নামে যেসব প্রতিষ্ঠন রয়েছে তা গ্রাহকদের দখলে স্থানান্তরকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির মালিকদের টাকা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত জেলার সমবায় ও উপজেলার সমবায় কর্মচারীদের শনাক্ত করে তাদের আগামী সাতদিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। টাকার শোকে আমানতকারীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে মালিকদের দ্বারা হত্যা করা হয়েছে বলে গণনায় আনতে হবে। আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির যেসব গ্রাহকের জীবনের শেষ সময়ের টাকা আমানত রেখে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে তাদেরকে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে বিভিন্ন ব্যয় ও চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
কমিটির সদস্য সচিব আহসান হাবিব রাসেলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কমিটির আহবায়ক এ কে এম মজনু সরকার, সদস্য মোশাররফ হোসেন সবুজ, গ্রাহক সাজেদা বেগম, আলতাফুর রহমান, মো. আবু নাসিম, মোজাম্মেল হক, মানিক মিয়া, আবুল হোসেন, সামিউল বাশার হীরা প্রমুখ।
অর্থ উদ্ধার আন্দোলন কমিটির আহবায়ক এ কে এম মজনু সরকার বলেন, আল আকাবা সমিতিতে গ্রাহকদের আমানত উদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন উদাসীন। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। সমিতির গ্রাহকদের টাকা লুটপাট করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে মালিকেরা। ইতোমধ্যে সমিতিতে টাকা রেখে তা তুলতে না পেরে অনেক গ্রাহক মারা গেছেন। অনেকেই নিঃস্ব হয়ে করছেন মানবেতর জীবনযাপন। অবিলম্বে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানাই। একই সঙ্গে মানববন্ধন থেকে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানাচ্ছি।
মানববন্ধন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আফসানা তাসলিমের কাছে পাঁচদফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেন অর্থ উদ্ধার কমিটির নেতৃবৃন্দ।
মো. আলমগীর : নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর, বাংলারচিঠিডটকম 


















