ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী চরযথার্থপুর দাখিল মাদরাসার দপ্তরীকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন নকলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাদারগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৪ গরু, দগ্ধ আরও দুটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ৬ অক্টোবর সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিনের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত যানবাহন চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জামালপুরে বিআরটিএ’র প্রশিক্ষণ কর্মশালা

মরিয়ম হত্যা : খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন

জামালপুর : মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু মরিয়ম বুশরাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। এই কর্মসূচি থেকে ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।

১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর শহরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক ও শিশু সুরক্ষা অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক, জামালপুরের উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন, ঢাকা ও উন্নয়ন সংঘ (ইউএস), জামালপুর। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাত্র সাত বছরের একটি শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। পরে তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে প্রতিবেশীর ঘরের মেঝের নিচ থেকে। এমন নৃশংস ঘটনায় সমাজের প্রতিটি মানুষকে নাড়া দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মরিয়মের মত একটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা শুধু একটি পরিবারের উপর আঘাত নয়। এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিকতার জন্য বড় প্রশ্ন। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব পক্ষকে আরও সোচ্চার হতে হবে। মরিয়ম হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আইনজীবী সফিয়া হোসেন বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। মরিয়ম হত্যার ঘটনায় কোন ধরনের গাফিলতি বা কালক্ষেপণ আমরা চাই না। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

জামালপুর : শিশু মরিয়ম হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

উন্নয়ন সংঘের মনিরা পারভিন বলেন, একটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে এই নিশ্চয়তা আমাদের দিতে হবে। মরিয়মের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এমন অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা সতর্ক হবে। শিশুদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

উন্নয়ন সংঘের উপদেষ্টা রফিকুল আলম মোল্লা বলেন, আছিয়া, রামিসার রায় কার্যকর হয় শিশু মরিয়মের নির্মম পরিণতি হত না। পারিবারিক শিক্ষা, অভিভাবকদের সচেতনতা, সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা এবং আইনের সফল প্রয়োগ ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করলে সমাজ থেকে সহিংসতা দূর হবে।

মানববন্ধনে মরিয়মের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থী মরিয়ম বুশরা। পরে ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাতে মাদারগঞ্জের সিধুলি ইউনিয়নে প্রতিবেশী জামিনুর ইসলামের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জামিনুর ইসলাম ও তার স্ত্রী সবুজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জামিনুর ইসলাম মরিয়মকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

মরিয়ম হত্যা : খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৯:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের শিশু মরিয়ম বুশরাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। এই কর্মসূচি থেকে ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।

১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর শহরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক ও শিশু সুরক্ষা অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক, জামালপুরের উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন, ঢাকা ও উন্নয়ন সংঘ (ইউএস), জামালপুর। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাত্র সাত বছরের একটি শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। পরে তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে প্রতিবেশীর ঘরের মেঝের নিচ থেকে। এমন নৃশংস ঘটনায় সমাজের প্রতিটি মানুষকে নাড়া দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মরিয়মের মত একটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা শুধু একটি পরিবারের উপর আঘাত নয়। এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিকতার জন্য বড় প্রশ্ন। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব পক্ষকে আরও সোচ্চার হতে হবে। মরিয়ম হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আইনজীবী সফিয়া হোসেন বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। মরিয়ম হত্যার ঘটনায় কোন ধরনের গাফিলতি বা কালক্ষেপণ আমরা চাই না। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

জামালপুর : শিশু মরিয়ম হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

উন্নয়ন সংঘের মনিরা পারভিন বলেন, একটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে এই নিশ্চয়তা আমাদের দিতে হবে। মরিয়মের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এমন অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা সতর্ক হবে। শিশুদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

উন্নয়ন সংঘের উপদেষ্টা রফিকুল আলম মোল্লা বলেন, আছিয়া, রামিসার রায় কার্যকর হয় শিশু মরিয়মের নির্মম পরিণতি হত না। পারিবারিক শিক্ষা, অভিভাবকদের সচেতনতা, সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা এবং আইনের সফল প্রয়োগ ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করলে সমাজ থেকে সহিংসতা দূর হবে।

মানববন্ধনে মরিয়মের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থী মরিয়ম বুশরা। পরে ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাতে মাদারগঞ্জের সিধুলি ইউনিয়নে প্রতিবেশী জামিনুর ইসলামের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জামিনুর ইসলাম ও তার স্ত্রী সবুজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জামিনুর ইসলাম মরিয়মকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।