ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী প্রকৃতির সুরক্ষায় ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে নতুন অঙ্গীকার প্রায় ২০০ দেশের যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, ইউক্রেন ইস্যুতে অনড় রাশিয়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরী করা হবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নকলায় মহাসড়কে গাছের গুঁড়িতে জনদুর্ভোগ, ৫ জনকে জরিমানা মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হলেন হুমায়ুন, সম্পাদক খাদেমুল বিশ্ব ইজতেমার আগেই মারকাজ পুনরুদ্ধারের দাবিতে ইসলামপুরে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের ভিড়
ইসলামপুর :

বৈলডাঙ্গা বিলের প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা

ইসলামপুর : বৈলডাঙ্গা বিলে লাল শাপলার সমারোহ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ভোরের সূর্য উঠার আগেই ফুটেছে জলজ ফুলের রানী শাপলা ফুল। শ্রাবণের মাঝামাঝি সময়ে কলি থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়ে এখন তা চলমান রয়েছে। ঝিরিঝিরি বাতাসে দুলছে ফুলগুলো। মাছরাঙ্গা, সাদা বকের আনাগোনা, পাখির কিচির মিচির শব্দ, স্বচ্ছ টলমল পানিতে ভাসছে অসংখ্য লাল শাপলা। প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর এই সৌন্দর্য জামালপুরের ইসলামপুর বৈলডাঙ্গা বিলের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামপুর পৌর এলাকার টংগের আগলা ও পাথর্শী ইউনিয়নের পূর্ব হাড়িয়াবাড়ী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা বৈলডাঙ্গা বিল। যদিও কয়েক দশক আগে থেকেই বিলের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করে বিলের প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাড়িয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া বিলেই ফুটেছে লাল শাপলা ফুল। সকালে জলাশয়ের দিকে তাকালেই শাপলার বাহারি রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। বিলে ফুটে থাকা শাপলা ফুল দেখতে যেমন বৈচিত্রময়, তেমনি ধরণীর বুকে লাল সবুজের সমারোহে যেন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলীর একটি। শাপলা শুধু শাপলা ফুলই নয় এটি জাতীয় ফুল।

বিলের প্রতিদিন শাপলা ফুল দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ ঘুরে ঘুরে উপভোগ করছেন এই অপরূপ সৌন্দর্য। কেউ কেউ শাপলা ফুল সংগ্রহ করছেন, কেউ বা সেলফি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা শিক্ষিকা রোকেয়া আক্তার বলেন, বিলের শাপলা ফুল দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। বিলের অপরূপ দৃশ্যটি মানুষের মনে দাগ কাটার মত। শাপলা ফুল ও তার পাতা স্পর্শ করলে মনে হয় যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে প্রবেশ করেছি। বিলের শাপলা ফুলগুলো আশপাশের পরিবেশটাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

দর্শনার্থী শামিম মিয়া বলেন, আমাদের বিনোদনের জায়গা নেই। তাই বিনোদনের জন্য এখানে ছুটে আসা। শাপলা ফুলের সৌন্দর্য অন্যরকম এক ভাল লাগা কাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, এই বৈলডাঙ্গা বিলটিতে বর্ষাকালে অসংখ্য শাপলা ফুল ফোটে। শাপলা ফুল দেখার জন্য অনেক মানুষের সমাগম হয়। অনেক দর্শনার্থী মনের আনন্দে কিংবা ছবি তোলার জন্য ফুল ছিঁড়ছেন। অনেকে আবার ফুল ছিঁড়ে বাসায় নিয়ে প্রিয়জনকে উপহার দিচ্ছেন। এতে বিলটিতে শাপলা ফুলের সংখ্যা দিনদিন কমে আসছে এবং বিলের সৌন্দর্যও বিনষ্ট হতে চলেছে।

ইসলামপুর : লাল শাপলার পসরা নিয়ে বসেছেন একজন ফুল ব্যবসায়ী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, উপজেলার বোয়ালমারীসহ বিভিন্ন স্থানেই ফুটেছে শাপলা। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল, জলাশয় এবং নিচু জমিতে বিপুল পরিমাণে শাপলা জন্মাত। এক দশক আগেও বিভিন্ন অঞ্চলে গোলাপি, সাদা, বেগুনি, নীল ও বিরল প্রজাতির হলুদ শাপলা ফোঁটার কারণে চারিদিকে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে প্রাকৃতিক দৃশ্যে দেখা যেত।

তিনি আরও জানান, গ্রাম ও শহুরে মানুষের কাছে এটি সবজি হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। শাপলার ড্যাপ শিশুদের প্রিয় খাবার এবং গ্রামের লোকেরা ড্যাপ দিয়ে খই ভেজে মোয়াসহ বিভিন্ন প্রকার সু-স্বাদু খাবার তৈরি করে। অনেকে আবার শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। লাল শাপলার ঔষধি গুণও রয়েছে। লাল ও সাদা রঙের শাপলা বেশ পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। শাপলার ভেষজ গুণও কম নয়। তবে লাল রঙের শাপলা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই শাপলা চুলকানি ও আমাশয় রোগের জন্য বেশ উপকারী।

বর্তমানে লাল ও সাদা প্রজাতির শাপলাগুলি বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও দেখা যাচ্ছে না গোলাপি, বেগুনি, নীল ও হলুদ শাপলা। এসব শাপলা কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে। নাব্যতা হ্রাস, খাল বিল ও জলাশয় ভরাট,ঘরবাড়ি তৈরি, ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা ।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী

ইসলামপুর :

বৈলডাঙ্গা বিলের প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা

আপডেট সময় ০৪:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ভোরের সূর্য উঠার আগেই ফুটেছে জলজ ফুলের রানী শাপলা ফুল। শ্রাবণের মাঝামাঝি সময়ে কলি থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়ে এখন তা চলমান রয়েছে। ঝিরিঝিরি বাতাসে দুলছে ফুলগুলো। মাছরাঙ্গা, সাদা বকের আনাগোনা, পাখির কিচির মিচির শব্দ, স্বচ্ছ টলমল পানিতে ভাসছে অসংখ্য লাল শাপলা। প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর এই সৌন্দর্য জামালপুরের ইসলামপুর বৈলডাঙ্গা বিলের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামপুর পৌর এলাকার টংগের আগলা ও পাথর্শী ইউনিয়নের পূর্ব হাড়িয়াবাড়ী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা বৈলডাঙ্গা বিল। যদিও কয়েক দশক আগে থেকেই বিলের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করে বিলের প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাড়িয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া বিলেই ফুটেছে লাল শাপলা ফুল। সকালে জলাশয়ের দিকে তাকালেই শাপলার বাহারি রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। বিলে ফুটে থাকা শাপলা ফুল দেখতে যেমন বৈচিত্রময়, তেমনি ধরণীর বুকে লাল সবুজের সমারোহে যেন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলীর একটি। শাপলা শুধু শাপলা ফুলই নয় এটি জাতীয় ফুল।

বিলের প্রতিদিন শাপলা ফুল দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ ঘুরে ঘুরে উপভোগ করছেন এই অপরূপ সৌন্দর্য। কেউ কেউ শাপলা ফুল সংগ্রহ করছেন, কেউ বা সেলফি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা শিক্ষিকা রোকেয়া আক্তার বলেন, বিলের শাপলা ফুল দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। বিলের অপরূপ দৃশ্যটি মানুষের মনে দাগ কাটার মত। শাপলা ফুল ও তার পাতা স্পর্শ করলে মনে হয় যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে প্রবেশ করেছি। বিলের শাপলা ফুলগুলো আশপাশের পরিবেশটাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

দর্শনার্থী শামিম মিয়া বলেন, আমাদের বিনোদনের জায়গা নেই। তাই বিনোদনের জন্য এখানে ছুটে আসা। শাপলা ফুলের সৌন্দর্য অন্যরকম এক ভাল লাগা কাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, এই বৈলডাঙ্গা বিলটিতে বর্ষাকালে অসংখ্য শাপলা ফুল ফোটে। শাপলা ফুল দেখার জন্য অনেক মানুষের সমাগম হয়। অনেক দর্শনার্থী মনের আনন্দে কিংবা ছবি তোলার জন্য ফুল ছিঁড়ছেন। অনেকে আবার ফুল ছিঁড়ে বাসায় নিয়ে প্রিয়জনকে উপহার দিচ্ছেন। এতে বিলটিতে শাপলা ফুলের সংখ্যা দিনদিন কমে আসছে এবং বিলের সৌন্দর্যও বিনষ্ট হতে চলেছে।

ইসলামপুর : লাল শাপলার পসরা নিয়ে বসেছেন একজন ফুল ব্যবসায়ী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, উপজেলার বোয়ালমারীসহ বিভিন্ন স্থানেই ফুটেছে শাপলা। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল, জলাশয় এবং নিচু জমিতে বিপুল পরিমাণে শাপলা জন্মাত। এক দশক আগেও বিভিন্ন অঞ্চলে গোলাপি, সাদা, বেগুনি, নীল ও বিরল প্রজাতির হলুদ শাপলা ফোঁটার কারণে চারিদিকে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে প্রাকৃতিক দৃশ্যে দেখা যেত।

তিনি আরও জানান, গ্রাম ও শহুরে মানুষের কাছে এটি সবজি হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। শাপলার ড্যাপ শিশুদের প্রিয় খাবার এবং গ্রামের লোকেরা ড্যাপ দিয়ে খই ভেজে মোয়াসহ বিভিন্ন প্রকার সু-স্বাদু খাবার তৈরি করে। অনেকে আবার শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। লাল শাপলার ঔষধি গুণও রয়েছে। লাল ও সাদা রঙের শাপলা বেশ পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। শাপলার ভেষজ গুণও কম নয়। তবে লাল রঙের শাপলা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই শাপলা চুলকানি ও আমাশয় রোগের জন্য বেশ উপকারী।

বর্তমানে লাল ও সাদা প্রজাতির শাপলাগুলি বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও দেখা যাচ্ছে না গোলাপি, বেগুনি, নীল ও হলুদ শাপলা। এসব শাপলা কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে। নাব্যতা হ্রাস, খাল বিল ও জলাশয় ভরাট,ঘরবাড়ি তৈরি, ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা ।