ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, আসামি সাইদুর মুন্সিকে ৮ বছরের জেল সরিষাবাড়ীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ৫ নভেম্বর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি বাস্তবায়ন ডিসেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা জামালপুরে ১১ শিশুর মুখে হাসি ফোটাল অরফান গিভ শেরপুরে পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান : একজনকে কারাদন্ড যুবদলনেতা সোহেল রানার উদ্যোগে মশক নিধন, সড়কবাতি সংযোজন

বাংলাদেশ-পূর্ব তিমুরের সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে : প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশ ও পূর্ব তিমুরের মধ্যেকার সম্পর্ক ক্রমশ গভীর এবং প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

১৫ ডিসেম্বর রবিবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। তবে চুক্তির বাইরে, আমরা নিশ্চিত করছি যে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে এবং প্রসারিত হবে।’

তিনি বলেন, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীকে তার দেশে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সম্পর্ককে আরও বৃদ্ধির জন্য উৎসাহিত করেছেন।

অধ্যাপক ইউনূস স্মরণ করন যে, যখন তিনি প্রথমবার পূর্ব তিমুর সফর করেছিলেন, তখন তিনি দেখেছিলেন যে বাংলাদেশের অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সেই দেশের গ্রামের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে। তিনি তিমুর-লেস্তেকে আহ্বান জানান বাংলাদেশি পণ্য নিজ দেশে উৎপাদন করতে, কারণ এর চারপাশে বড় বাজার রয়েছে।

এখনও অনেক বাংলাদেশি তিমুর-লেস্তেতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তিমুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখব।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিমুর-লেস্তে শিগগিরই আসিয়ান ফোরামের সদস্য হবে এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসিয়ান সদস্য হিসেবে তার দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আসিয়ানের সমর্থন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, তারা উভয় নেতা আলোচনা করেছেন কীভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব এবং এই বিষয়ে তিমুর-লেস্তের আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন চেয়েছেন।

বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তাকে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস।

জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও তাদের সমর্থকদের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা তার সম্মান জানাতে হবে।’

বৈশ্বিক শান্তিতে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্টের অবদানের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৯৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী রামোস-হোর্তা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মহান লেখক। তিনি শুধু পূর্ব তিমুরের জনগণের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষের জন্য কাজ করেন।

রামোস-হোর্তার বন্ধু হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন যখন রামোস-হোর্তা নোবেল পুরস্কারের সমস্ত অর্থ ক্ষুদ্রঋণের জন্য দান করেছেন।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, রামোস-হোর্তা তাঁকে ক্ষুদ্রঋণ প্রচারের জন্য পূর্ব তিমুরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ক্ষুদ্রঋণের একজন ভালো বন্ধু বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আগের সরকারের রোষানল থেকে তাঁকে রক্ষা করার জন্য ১০০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তি বারবার বিবৃতি দিয়েছেন। রামোস-হোর্তা সেই বিবৃতিতে প্রথম বা দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী।

তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ব তিমুরের জন্ম বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত। এই দেশটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সৃষ্টি হয়েছিল।

তৎকালীন জাতিসংঘ মিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আমীরা হকের ভূমিকা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পুলিশ বাহিনী পূর্ব তিমুরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তিনি জানান, ২০০৪ সালে আমীরা হকের আমন্ত্রণে পূর্ব তিমুরে সফরের সময় তিনি দেখেছিলেন কীভাবে বাংলাদেশিদের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। তিনি বলেন, সেই সময় বাংলাদেশিরাই দেশটি কার্যত চালাচ্ছিল।

তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তাও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

এর আগে, দিনের শুরুতে, রামোস-হোর্তা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা পরে এক প্রতিনিধি-পর্যায়ের আলোচনায় রূপ নেয়।সূত্র:বাসস।

স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল

বাংলাদেশ-পূর্ব তিমুরের সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে : প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১০:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশ ও পূর্ব তিমুরের মধ্যেকার সম্পর্ক ক্রমশ গভীর এবং প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

১৫ ডিসেম্বর রবিবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। তবে চুক্তির বাইরে, আমরা নিশ্চিত করছি যে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে এবং প্রসারিত হবে।’

তিনি বলেন, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীকে তার দেশে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সম্পর্ককে আরও বৃদ্ধির জন্য উৎসাহিত করেছেন।

অধ্যাপক ইউনূস স্মরণ করন যে, যখন তিনি প্রথমবার পূর্ব তিমুর সফর করেছিলেন, তখন তিনি দেখেছিলেন যে বাংলাদেশের অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সেই দেশের গ্রামের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে। তিনি তিমুর-লেস্তেকে আহ্বান জানান বাংলাদেশি পণ্য নিজ দেশে উৎপাদন করতে, কারণ এর চারপাশে বড় বাজার রয়েছে।

এখনও অনেক বাংলাদেশি তিমুর-লেস্তেতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তিমুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখব।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিমুর-লেস্তে শিগগিরই আসিয়ান ফোরামের সদস্য হবে এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আসিয়ান সদস্য হিসেবে তার দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আসিয়ানের সমর্থন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, তারা উভয় নেতা আলোচনা করেছেন কীভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব এবং এই বিষয়ে তিমুর-লেস্তের আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন চেয়েছেন।

বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তাকে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস।

জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও তাদের সমর্থকদের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা তার সম্মান জানাতে হবে।’

বৈশ্বিক শান্তিতে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্টের অবদানের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৯৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী রামোস-হোর্তা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মহান লেখক। তিনি শুধু পূর্ব তিমুরের জনগণের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষের জন্য কাজ করেন।

রামোস-হোর্তার বন্ধু হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন যখন রামোস-হোর্তা নোবেল পুরস্কারের সমস্ত অর্থ ক্ষুদ্রঋণের জন্য দান করেছেন।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, রামোস-হোর্তা তাঁকে ক্ষুদ্রঋণ প্রচারের জন্য পূর্ব তিমুরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ক্ষুদ্রঋণের একজন ভালো বন্ধু বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আগের সরকারের রোষানল থেকে তাঁকে রক্ষা করার জন্য ১০০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তি বারবার বিবৃতি দিয়েছেন। রামোস-হোর্তা সেই বিবৃতিতে প্রথম বা দ্বিতীয় স্বাক্ষরকারী।

তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ব তিমুরের জন্ম বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত। এই দেশটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সৃষ্টি হয়েছিল।

তৎকালীন জাতিসংঘ মিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আমীরা হকের ভূমিকা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পুলিশ বাহিনী পূর্ব তিমুরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তিনি জানান, ২০০৪ সালে আমীরা হকের আমন্ত্রণে পূর্ব তিমুরে সফরের সময় তিনি দেখেছিলেন কীভাবে বাংলাদেশিদের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। তিনি বলেন, সেই সময় বাংলাদেশিরাই দেশটি কার্যত চালাচ্ছিল।

তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তাও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

এর আগে, দিনের শুরুতে, রামোস-হোর্তা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা পরে এক প্রতিনিধি-পর্যায়ের আলোচনায় রূপ নেয়।সূত্র:বাসস।