
জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় রহিম জাফর উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনে ক্লাস নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ভবনে ক্লাস করতে গিয়ে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছে। ৭ম শ্রেণির রেখা নামের এক ছাত্রী অসমাপ্ত ভবনের ঝুলন্ত বিদ্যুৎ লাইনের বিদ্যুৎ স্পর্শে আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। তার একটি হাত ও পায়ের অংশ কেটে ফেলা হতে পারে। তার পরেও চলছে অসমাপ্ত ভবনে ক্লাস নেয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ফুলজোড় রহিম জাফর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তিনতলা একটি ভবন বরাদ্দ হয়। সেই মোতাবেক সরিষাবাড়ী উপজেলার ঠিকাদার আলতাব হোসেন কাজটি শুরু করেন এবং তিনতলা ছাদ নির্মাণ করেন। কিন্তু সিঁড়ির রেলিং, বারান্দার রেলিং, বিদ্যুৎ লাইনসহ অনেক কাজ এখনও শেষ করেননি। কাজে বিলম্বের কারণে এরই মধ্যে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ওই অসমাপ্ত ভবনে ক্লাস নেয়া শুরু করে শিক্ষকরা। ফলে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনে ক্লাস করে আসছে। এরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভবন থেকে পড়ে আহত হয়েছে। ৩ জুন সোমবার ক্লাস করতে গিয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ফুলজোড় গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রেখা তিনতলায় ক্লাসে ঢোকার সময় ঝুলন্ত বিদ্যুৎ লাইনের স্পর্শে নীচে পড়ে যায়। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার পা কেটে ফেলার কথা বলেছেন। সে এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছে।
এ ব্যাপারে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষকসহ কেউ ফোনে কথা বলতে রাজি হননি।
জামালপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ আলীমুজ্জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, ফুলজোড় রহিম জাফর উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ অসমাপ্ত এবং ভবনটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তাই সেখানে ক্লাস করার প্রশ্নই আসে না। শিক্ষকেরা কিভাবে ক্লাস নেয় এটা বুঝে উঠতে পারছি না। কাজটি করছেন ঠিকাদার আলতাব হোসেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি এখনো পর্যন্ত আমি জানি না। এ বিষয়ে শিক্ষকেরা আমাকে কিছু জানাননি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
বাংলার চিঠি ডেস্ক : 


















