ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে ৬৪ জেলায় : তথ্য প্রতিমন্ত্রী পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান মিল্লাতের জাতীয় পর্যায়ে ১৮ দিবসসহ অন্যান্য দিবস পালনে সরকারের নতুন নির্দেশনা ইসলামপুরে আলাই বিলে শিশু নিখোঁজ মাদারগঞ্জে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ১৬ মাসের শিশু রাতুলের নকলায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতা নিয়ে বিরোধ, দ্বিতীয় স্ত্রী আদালতে ইসলামপুরে ছাত্রলীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে ছাত্রদলের মশাল মিছিল ফিনল্যান্ডের যুবক ও চা বিক্রেতার মেয়ের অনন্য প্রেম : ধর্ম বদলে শুভ পরিণয় প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং হাতি সম্পদকে ব্যবহার করে এ অঞ্চলে বৃহৎ আকারে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে পারে : বনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল

মাকড়সার জাল থেকে বিকল্প বিদ্যুৎ

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক॥
ভারতের খড়্গপুর আইআইটি-র গবেষকরা মাকড়সার জাল থেকে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপন্ন করেছেন। ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) মেটিরিয়াল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ভানুভূষণ খাটুয়ার তত্ত্বাবধানে এই প্রযুক্তির আবিষ্কারের কথা ইতোমধ্যে ‘ন্যানো এনার্জি’ জার্নালে স্থান করে নিয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর এ প্রযুক্তির ‘পেটেন্ট’ হয়েছে।

ডিমের খোলার আস্তরণ থেকেও তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। ভানুভূষণকে এই আবিষ্কারে সাহায্য করেছেন তার গবেষক ছাত্র সুমন্তকুমার করণ ও সন্দীপ মাইতি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পোস্টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিন কোন কিম। সন্দীপ দীর্ঘ দিন দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন।

অধ্যাপক ভানুভূষণ বলেন, মাকড়সার জাল থেকে প্রায় ১ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ডিমের খোলার আস্তরণ থেকে ১.৬ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর এই দু’টি পদার্থই মানুষের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। আশা করছি আগামী দিনে সবুজ শক্তিতে বিপ্লব আনবে এই প্রযুক্তি।

গবেষকদের দাবি, এই বিদ্যুৎ দিয়ে যেমন এলইডি আলো জ্বালানো যাবে, তেমনই ব্যবহার করা যাবে পেসমেকারের মতো মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন যোগ্য যন্ত্রে।

আইআইটি-র বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যে কোনও পদার্থে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শক্তি রয়েছে। সাধারণত প্রতি পদার্থেই তা এলোমেলো অবস্থায় বিরাজ করে। তবে ওই পদার্থ থেকে যদি বিদ্যুৎ পাওয়া যায় তবে তাকে ‘পিজো ইলেক্ট্রিক’ বলা হয়।

১৯৫৫ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ই ফুকাদা কাঠের মধ্যে ‘পিজো ইলেক্ট্রিক’-এর উপস্থিতি লক্ষ করেন। সেই ভাবনার সূত্রেই ২০১৭ সালে আইআইটির বিজ্ঞানীরা পেঁয়াজের খোসার মতো সেলুলোজ অংশ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সাফল্য পেয়েছিলেন।

গবেষকেরা জানান, সম্প্রতি একটি সূত্র থেকে তারা জানতে পারেন মাকড়সার জালে প্রোটিন রয়েছে। আর ডিমের খোলার পাতলা আস্তরণে রয়েছে কোলাজেন। এ গুলি মানব শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। পরিবেশেও অনায়াসে মিশে যায়। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এ গুলির উপর চাপ প্রয়োগ করলে দু’টি তলের এক দিকে ধনাত্মক ও অন্য দিকে ঋণাত্মক শক্তি সৃষ্টি হয়।

গবেষক সুমন্তকুমার বলেন, মাকড়সার জাল টানলে শক্তি উৎপাদন হচ্ছে জেনেছিলাম। কিন্তু ৯০ ডিগ্রি কোণে চাপ প্রয়োগ করে শক্তি উৎপাদনের জন্য আমাদের সাহায্য করেন দক্ষিণ কোরিয়ার অধ্যাপক ইয়নসিক কিম।

মাকড়সার জালকে পাশাপাশি সাজিয়ে তার দু’দিকে কার্বনের প্রলেপ দিয়ে ‘ইলেক্ট্রোড’ বা বিদ্যুদ্বাহক তৈরি করা হয়েছে। একইভাবে ডিমের খোসার সাদা আস্তরণেও ইলেক্ট্রোড তৈরি হচ্ছে। শুধু মাকড়সার জালের মাঝে এক দিকে দিতে হচ্ছে পাতলা পলিমারের আস্তরণ।

এর পরে দু’দিকের ইলেক্ট্রোড থেকে তার দিয়ে মিলছে বিদ্যুৎ। এখন এই প্রযুক্তিকে বৃহত্তর ক্ষেত্রে ব্যবহার করাই আইআইটি-র গবেষদের লক্ষ্য।
সূত্র: আনন্দবাজার

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মাকড়সার জাল থেকে বিকল্প বিদ্যুৎ

আপডেট সময় ০৯:১৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জানুয়ারী ২০১৯

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক॥
ভারতের খড়্গপুর আইআইটি-র গবেষকরা মাকড়সার জাল থেকে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপন্ন করেছেন। ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) মেটিরিয়াল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ভানুভূষণ খাটুয়ার তত্ত্বাবধানে এই প্রযুক্তির আবিষ্কারের কথা ইতোমধ্যে ‘ন্যানো এনার্জি’ জার্নালে স্থান করে নিয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর এ প্রযুক্তির ‘পেটেন্ট’ হয়েছে।

ডিমের খোলার আস্তরণ থেকেও তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। ভানুভূষণকে এই আবিষ্কারে সাহায্য করেছেন তার গবেষক ছাত্র সুমন্তকুমার করণ ও সন্দীপ মাইতি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পোস্টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিন কোন কিম। সন্দীপ দীর্ঘ দিন দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন।

অধ্যাপক ভানুভূষণ বলেন, মাকড়সার জাল থেকে প্রায় ১ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ডিমের খোলার আস্তরণ থেকে ১.৬ মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর এই দু’টি পদার্থই মানুষের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। আশা করছি আগামী দিনে সবুজ শক্তিতে বিপ্লব আনবে এই প্রযুক্তি।

গবেষকদের দাবি, এই বিদ্যুৎ দিয়ে যেমন এলইডি আলো জ্বালানো যাবে, তেমনই ব্যবহার করা যাবে পেসমেকারের মতো মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন যোগ্য যন্ত্রে।

আইআইটি-র বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যে কোনও পদার্থে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শক্তি রয়েছে। সাধারণত প্রতি পদার্থেই তা এলোমেলো অবস্থায় বিরাজ করে। তবে ওই পদার্থ থেকে যদি বিদ্যুৎ পাওয়া যায় তবে তাকে ‘পিজো ইলেক্ট্রিক’ বলা হয়।

১৯৫৫ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ই ফুকাদা কাঠের মধ্যে ‘পিজো ইলেক্ট্রিক’-এর উপস্থিতি লক্ষ করেন। সেই ভাবনার সূত্রেই ২০১৭ সালে আইআইটির বিজ্ঞানীরা পেঁয়াজের খোসার মতো সেলুলোজ অংশ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সাফল্য পেয়েছিলেন।

গবেষকেরা জানান, সম্প্রতি একটি সূত্র থেকে তারা জানতে পারেন মাকড়সার জালে প্রোটিন রয়েছে। আর ডিমের খোলার পাতলা আস্তরণে রয়েছে কোলাজেন। এ গুলি মানব শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। পরিবেশেও অনায়াসে মিশে যায়। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এ গুলির উপর চাপ প্রয়োগ করলে দু’টি তলের এক দিকে ধনাত্মক ও অন্য দিকে ঋণাত্মক শক্তি সৃষ্টি হয়।

গবেষক সুমন্তকুমার বলেন, মাকড়সার জাল টানলে শক্তি উৎপাদন হচ্ছে জেনেছিলাম। কিন্তু ৯০ ডিগ্রি কোণে চাপ প্রয়োগ করে শক্তি উৎপাদনের জন্য আমাদের সাহায্য করেন দক্ষিণ কোরিয়ার অধ্যাপক ইয়নসিক কিম।

মাকড়সার জালকে পাশাপাশি সাজিয়ে তার দু’দিকে কার্বনের প্রলেপ দিয়ে ‘ইলেক্ট্রোড’ বা বিদ্যুদ্বাহক তৈরি করা হয়েছে। একইভাবে ডিমের খোসার সাদা আস্তরণেও ইলেক্ট্রোড তৈরি হচ্ছে। শুধু মাকড়সার জালের মাঝে এক দিকে দিতে হচ্ছে পাতলা পলিমারের আস্তরণ।

এর পরে দু’দিকের ইলেক্ট্রোড থেকে তার দিয়ে মিলছে বিদ্যুৎ। এখন এই প্রযুক্তিকে বৃহত্তর ক্ষেত্রে ব্যবহার করাই আইআইটি-র গবেষদের লক্ষ্য।
সূত্র: আনন্দবাজার