ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফিনল্যান্ডের যুবক ও চা বিক্রেতার মেয়ের অনন্য প্রেম : ধর্ম বদলে শুভ পরিণয় প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং হাতি সম্পদকে ব্যবহার করে এ অঞ্চলে বৃহৎ আকারে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে পারে : বনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল ইসলামপুরে জমির বিরোধে সংঘর্ষ : নিহত ১ বকশীগঞ্জে বাসচাপায় বউ-শাশুড়ি নিহত মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক : প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যােগে জামালপুরে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত শেরপুরে আন্তর্জাতিক পোডিয়াট্রি দিবস পালিত প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বকশীগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উদযাপিত সরিষাবাড়ীতে দিনমজুর দম্পতির ৪টি ষাঁড় পুড়ে ছাই, সর্বস্বান্ত পরিবার

কেন্দুয়া কালিবাড়ীর আজাহার হত্যা মামলার রায়ে একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম (কালো গেঞ্জি পরা)। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম (কালো গেঞ্জি পরা)। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর আজাহার আলী হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসামি মো. শফিকুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। মামলাটির অপর তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং দুজন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। ১৯ জুলাই দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত আসামি তিনজন হলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলামের ভাই মো. সুমন মিয়া, একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. জিন্নাহ ও মৃত হোসেন আলীর ছেলে আবু সামা। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. জিন্নাহর স্ত্রী হালিমা বেগম ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলামের মা হবিরন বেগম বেকসুর খালাস পেয়েছেন। এই মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম মামলা চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মো. শাহজাহান আলীর ভাতিজা হাসান মাসুদ প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে হিন্দি গানের একটি ক্যাসেট ধার দেন। ২০০২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাসান মাসুদ ওই ক্যাসেটটি ফেরৎ আনতে সুমন মিয়ার বাড়িতে যান। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুমন মিয়া ও তার লোকজন হাসান মাসুদকে মারধর করে। হাসান মাসুদ বাড়িতে গিয়ে ঘটনা খুলে বললে মামলার বাদীর সহোদর ভাই আজাহার আলী ও পরিবারের লোকজন ঘটনা শুনতে সুমন মিয়াদের বাড়িতে গেলে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম ও অন্যান্যরা রামদা, কিরিচ ও গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় গুরুতর আহত আজাহার আলী ও তার বোনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক আজাহার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ২১ নভেম্বর মৃত আজাহার আলীর ভাই মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত চার্জগঠন করে। মামলাটি বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এ জিল্লুর রহমান ১৯ জুলাই উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষ সমর্থন করেন অতিরিক্ত পিপি মো. আবুল কাশেম তারা এবং আসামিপক্ষ সমর্থন করেন আইনজীবী মো. নওয়াব আলী।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিনল্যান্ডের যুবক ও চা বিক্রেতার মেয়ের অনন্য প্রেম : ধর্ম বদলে শুভ পরিণয়

কেন্দুয়া কালিবাড়ীর আজাহার হত্যা মামলার রায়ে একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৭:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম (কালো গেঞ্জি পরা)। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর আজাহার আলী হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসামি মো. শফিকুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। মামলাটির অপর তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং দুজন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। ১৯ জুলাই দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত আসামি তিনজন হলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলামের ভাই মো. সুমন মিয়া, একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. জিন্নাহ ও মৃত হোসেন আলীর ছেলে আবু সামা। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. জিন্নাহর স্ত্রী হালিমা বেগম ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলামের মা হবিরন বেগম বেকসুর খালাস পেয়েছেন। এই মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম মামলা চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মো. শাহজাহান আলীর ভাতিজা হাসান মাসুদ প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে হিন্দি গানের একটি ক্যাসেট ধার দেন। ২০০২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাসান মাসুদ ওই ক্যাসেটটি ফেরৎ আনতে সুমন মিয়ার বাড়িতে যান। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুমন মিয়া ও তার লোকজন হাসান মাসুদকে মারধর করে। হাসান মাসুদ বাড়িতে গিয়ে ঘটনা খুলে বললে মামলার বাদীর সহোদর ভাই আজাহার আলী ও পরিবারের লোকজন ঘটনা শুনতে সুমন মিয়াদের বাড়িতে গেলে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম ও অন্যান্যরা রামদা, কিরিচ ও গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় গুরুতর আহত আজাহার আলী ও তার বোনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক আজাহার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ২১ নভেম্বর মৃত আজাহার আলীর ভাই মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত চার্জগঠন করে। মামলাটি বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এ জিল্লুর রহমান ১৯ জুলাই উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষ সমর্থন করেন অতিরিক্ত পিপি মো. আবুল কাশেম তারা এবং আসামিপক্ষ সমর্থন করেন আইনজীবী মো. নওয়াব আলী।