ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যে স্মারকগ্রন্থে আবারও জীবন্ত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-ছেলের মৃত্যু, দাদি আহত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামী নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে : ওয়ারেছ আলী মামুন ইসলামপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জামালপুরে রাজিব বাসচাপায় অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত, আহত ২০ শিশুবান্ধব সমাজ গঠনই হোক আমাদের অঙ্গীকার : সংসদ সদস্য মামুন মাদারগঞ্জে কেমিক্যালের ড্রাম কাটতে গিয়ে বিস্ফোরণ, ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির মৃত্যু মাদারগঞ্জে কিশোরী রূপসী হত্যা : প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর অপহরণ করে ধর্ষণ, ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

যে স্মারকগ্রন্থে আবারও জীবন্ত তিনি

মতিয়র রহমান স্মারকগ্রন্থের কভার। ছবি : লেখক

রাজনৈতিক মুক্তির মধ্যেই অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সকল মুক্তি নিহিত। মতিয়র রহমান তালুকদার (জন্ম ১লা নভেম্বর ১৯৩৪–মৃত্যু ১৬ই জুলাই ২০০৮) একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিক ছিলেন। রাজনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তিনি ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা।

একজন আইনজ্ঞ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১১ নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তর কামালপুরের মহেন্দ্রগঞ্জে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর আইন পেশা ও রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণিল ও বর্ণাঢ্যময়। কেউ ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনজীবী হিসেবে তাঁর স্মরণাপন্ন হলে তিনি তাঁর পক্ষ সমর্থনে আন্তরিকভাবে মামলা পরিচালনা করে সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। আইন পেশার আদর্শ কোথাও লঙ্ঘিত হলে তিনি ব্যথিত হতেন।

ছাত্রজীবনে মতিয়র রহমান তালুকদার অধুনা সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তদানীন্তন সময়ে কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন নাট্যকার আবদুল্লাহ আল-মামুনের বাবা এ. এইচ. এম. এ. কুদ্দুস (অধ্যক্ষকাল ১৯৪৮-১৯৫৫)। আবদুল্লাহ আল-মামুনের সহোদর ছোটো ভাই আবদুল্লাহ আল-হারুন (জন্ম. ১১ই অক্টোবর ১৯৪৫) একদিন কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলেছেন, ‘মতি ভাই বাবার ছাত্র ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিভাবাপন্ন ও রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি ছিলেন।’

মতিয়র রহমান তালুকদারকে এমপি-মন্ত্রী হওয়া বা ক্ষমতার লোভ কখনো টানেনি। আমরা যখন ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে এইচএসসি পড়তে এসেছিলাম তখন তাঁকে দেখেছি। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তিনি দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। মতিয়র রহমান তালুকদারের মতো ব্যক্তিদের স্মারকগ্রন্থ, জীবনীগ্রন্থ লেখা এবং তা জানা আমাদের প্রয়োজন। তাঁর মতো ব্যক্তিদের উপর গ্রন্থ পড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ অনেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

বইয়ের নাম : মতিয়র রহমান তালুকদার স্মারকগ্রন্থ
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২২
প্রকাশক : স্বরব্যঞ্জন, আজিজ সুপার মার্কেট, তৃতীয় তলা, শাহবাগ, ঢাকা
প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা
মূল্য : ৬০০.০০ টাকা (ছয়শত টাকা মাত্র)
ISBN : 978-984-510-036-6
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩৩৪

‘মতিয়র রহমান তালুকদার স্মারকগ্রন্থ’ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়েছে। স্মারক গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন মোস্তাফা বাবুল। গ্রন্থে ১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি মত-অভিমত ব্যক্ত করেছেন তাঁদের প্রবন্ধ ও নিবন্ধের মাধ্যমে। স্মারকগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য এই যে, বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক প্রাপ্ত কবি ও শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ সামাদের একটি নিবেদন যেন পাঠকদের জন্য একটি অসাধারণ প্রাপ্তিযোগ। স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনাটি সমৃদ্ধ, তথ্য ও তত্ত্ববহুল। গ্রন্থটি পাঠক পড়বেন, ঋদ্ধ হবেন—এই প্রত্যাশা করছি।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য-সমালোচক

যে স্মারকগ্রন্থে আবারও জীবন্ত তিনি

যে স্মারকগ্রন্থে আবারও জীবন্ত তিনি

আপডেট সময় ১০:২২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিক মুক্তির মধ্যেই অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সকল মুক্তি নিহিত। মতিয়র রহমান তালুকদার (জন্ম ১লা নভেম্বর ১৯৩৪–মৃত্যু ১৬ই জুলাই ২০০৮) একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিক ছিলেন। রাজনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তিনি ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা।

একজন আইনজ্ঞ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১১ নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তর কামালপুরের মহেন্দ্রগঞ্জে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর আইন পেশা ও রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণিল ও বর্ণাঢ্যময়। কেউ ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনজীবী হিসেবে তাঁর স্মরণাপন্ন হলে তিনি তাঁর পক্ষ সমর্থনে আন্তরিকভাবে মামলা পরিচালনা করে সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। আইন পেশার আদর্শ কোথাও লঙ্ঘিত হলে তিনি ব্যথিত হতেন।

ছাত্রজীবনে মতিয়র রহমান তালুকদার অধুনা সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। তদানীন্তন সময়ে কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন নাট্যকার আবদুল্লাহ আল-মামুনের বাবা এ. এইচ. এম. এ. কুদ্দুস (অধ্যক্ষকাল ১৯৪৮-১৯৫৫)। আবদুল্লাহ আল-মামুনের সহোদর ছোটো ভাই আবদুল্লাহ আল-হারুন (জন্ম. ১১ই অক্টোবর ১৯৪৫) একদিন কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলেছেন, ‘মতি ভাই বাবার ছাত্র ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিভাবাপন্ন ও রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি ছিলেন।’

মতিয়র রহমান তালুকদারকে এমপি-মন্ত্রী হওয়া বা ক্ষমতার লোভ কখনো টানেনি। আমরা যখন ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে এইচএসসি পড়তে এসেছিলাম তখন তাঁকে দেখেছি। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তিনি দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। মতিয়র রহমান তালুকদারের মতো ব্যক্তিদের স্মারকগ্রন্থ, জীবনীগ্রন্থ লেখা এবং তা জানা আমাদের প্রয়োজন। তাঁর মতো ব্যক্তিদের উপর গ্রন্থ পড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ অনেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

বইয়ের নাম : মতিয়র রহমান তালুকদার স্মারকগ্রন্থ
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২২
প্রকাশক : স্বরব্যঞ্জন, আজিজ সুপার মার্কেট, তৃতীয় তলা, শাহবাগ, ঢাকা
প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা
মূল্য : ৬০০.০০ টাকা (ছয়শত টাকা মাত্র)
ISBN : 978-984-510-036-6
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩৩৪

‘মতিয়র রহমান তালুকদার স্মারকগ্রন্থ’ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়েছে। স্মারক গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন মোস্তাফা বাবুল। গ্রন্থে ১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি মত-অভিমত ব্যক্ত করেছেন তাঁদের প্রবন্ধ ও নিবন্ধের মাধ্যমে। স্মারকগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য এই যে, বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক প্রাপ্ত কবি ও শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ সামাদের একটি নিবেদন যেন পাঠকদের জন্য একটি অসাধারণ প্রাপ্তিযোগ। স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনাটি সমৃদ্ধ, তথ্য ও তত্ত্ববহুল। গ্রন্থটি পাঠক পড়বেন, ঋদ্ধ হবেন—এই প্রত্যাশা করছি।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য-সমালোচক