জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কিশোরী রূপসী আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে আল জিহাদ ওরফে রাকিব (১৯) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার আল জিহাদ চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকার আল মামুন আহমেদের ছেলে। ৩০ আগস্ট, রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হারগিলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ৩১ আগস্ট, সোমবার সকালে আল জিহাদকে আদালতে নেয়া হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
৩১ আগস্ট দুপুরে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় আয়োজিত প্রেস বিফিং-এ এসব তথ্য জানান মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা। এ সময় মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায়, এসআই হাসিব আল মাহফুজ, সাজেদুল ইসলাম, এএসআই ইয়াছিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার রাতে রূপসী আক্তারকে (১৫) বাড়ি থেকে ডেকে নেন আল জিহাদ। পরে তাকে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্ব চরপাকেরদহ বইশাগাড়ী এলাকায় শাকিলের সেচপাম্পের পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড পাম্প হাউসে নিয়ে যান। সেখানে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রূপসীর গলায় তার পরনের ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। হত্যার আগে রূপসীকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, পরদিন ২৮ আগস্ট, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব চরপাকেরদহ বইশাগাড়ী এলাকার ওই সেচপাম্পের ভেতর থেকে রূপসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় শুক্রবার রূপসীর বাবা ছায়ের উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আল জিহাদকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং কিশোরী রূপসী আক্তারকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
ওসি আরও বলেন, এই ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 








