ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান সাংবাদিক আবুল কাশেমের বাসায় চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট! যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৭০ আসন ও ১২ বিলিয়ন ডলারের লড়াই কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ, এম এ রশীদ হাসপাতালের দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেরপুরে এবার ধুম কাছিম উদ্ধার ও অবমুক্ত জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে সিডসের শিখন বিনিময় সফরে এসে সন্তুষ্ট কারিতাস দল

পুড়িয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ : আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জামালপুর : মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি রাজিব হোসেন জেলা হাজতে নিয়ে যায় জামালপুর কোর্ট পুলিশ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে আসামি স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার রায়ে একজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৭ জুন, বুধবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম দুটি মামলার রায় দেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলাল সেক (৫৩) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে। অপর মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাজীব হোসেন (৩৮) একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে ২০০৮ সালের ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে সকালের মধ্যে কোন এক সময় আলাল সেক তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে যৌতুকের জন্য মারধর করে গুরুত্র আহত করেন। পরে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ৫ জুন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় নয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। আসামি আলাল সেক পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয়। রায়ে আলাল সেককে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মামলায় আসামি পক্ষে কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

অপরদিকে দশম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় রাজীব হোসেন নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন একই আদালত।

এই মামলা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামে ঘরের জানালা খুলে এক মাদরাসাছাত্রীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন প্রতিবেশী রাজীব হোসেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোর করে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর চিৎকারে পরিবার ও স্বজনেরা সেখানে গিয়ে রাজীব হোসেনকে হাতেনাতে আটক করেন। কিন্তু এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে রাজিব হোসেন পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জুন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আসামি রাজীব হোসেনের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি

পুড়িয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ : আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১০:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জামালপুরে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে আসামি স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার রায়ে একজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৭ জুন, বুধবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম দুটি মামলার রায় দেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলাল সেক (৫৩) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে। অপর মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাজীব হোসেন (৩৮) একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে ২০০৮ সালের ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে সকালের মধ্যে কোন এক সময় আলাল সেক তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে যৌতুকের জন্য মারধর করে গুরুত্র আহত করেন। পরে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ৫ জুন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় নয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। আসামি আলাল সেক পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয়। রায়ে আলাল সেককে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মামলায় আসামি পক্ষে কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

অপরদিকে দশম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় রাজীব হোসেন নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন একই আদালত।

এই মামলা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামে ঘরের জানালা খুলে এক মাদরাসাছাত্রীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন প্রতিবেশী রাজীব হোসেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোর করে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর চিৎকারে পরিবার ও স্বজনেরা সেখানে গিয়ে রাজীব হোসেনকে হাতেনাতে আটক করেন। কিন্তু এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে রাজিব হোসেন পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জুন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আসামি রাজীব হোসেনের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।