জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় একই নামে পাশাপাশি দুটি কলেজ হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজকে “সরিষাবাড়ী সরকারি কলেজ” নতুন নামকরণের প্রতিবাদ ও পুরনো সরিষাবাড়ী কলেজকে নতুন করে জাতীয়করণের দাবি উঠেছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে সদ্য পরিবর্তিত সরিষাবাড়ী সরকারি কলেজ তালাবদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন ছাত্র-শিক্ষকেরা।
জানা যায়, ১৯৬৭ সালে প্রায় ১১ একর জমির ওপর পৌর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় সরিষাবাড়ী কলেজ। যেখানে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও কারিগরিসহ স্নাতক বিএ, বিএসসি, বিএসএস, বিবিএস (অনার্স) পর্যায়ে বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কোর্সে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজে আধুনিক ভবন, সুবিশাল ক্যাম্পাস, বাংলো, ছাত্রাবাস, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধাসহ ক্রীড়া, সংস্কৃতি, স্কাউট ও ছাত্রসংসদ কার্যক্রম প্রশংসনীয়। কলেজটি জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় সবদিক থেকে এগিয়ে থাকলেও বৈষম্যের শিকার হয়।
এদিকে সরিষাবাড়ী কলেজের মাত্র ৪০০ গজের মধ্যেই রাজনৈতিক বিবেচনায় “বঙ্গবন্ধু কলেজ” নামে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত আরেকটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। যা ২০১০ সালে এমপিভুক্ত হলেও মাত্র ছয় বছরের মাথায় ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সুপারিশে জাতীয়করণ করে সরকার। শুধু “বঙ্গবন্ধু” শব্দ বাদ দিয়ে নামসর্বস্ব কলেজটি সরকারি করা হয়। সে সময় জাতীয়করণের শর্তানুযায়ী কলেজের নামে পর্যাপ্ত জমি না থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চর পোগলদিঘা এলাকায় জমি দেখানো হয়। কলেজটির মূল ভবন এবং ক্যাম্পাসও ৩৪ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তির উপর। যা নীতিমালার বিরুদ্ধে। কলেজে শিক্ষার্থী সংখ্যাও অনধিক ২০০ জন।
এদিকে সারাদেশে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পরিবর্তনের তালিকায় এ কলেজের নাম উঠে আসে। ২৮ মে, বুধবার ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু কলেজের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেওয়া হয় “সরিষাবাড়ী সরকারি কলেজ”। যা সরিষাবাড়ী কলেজের নামের সঙ্গে মিল থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার ও প্রাচীন সরিষাবাড়ী কলেজকে জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় প্রাক্তন “বঙ্গবন্ধু কলেজ” তালাবদ্ধসহ বৃহত্তর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এর আগে ২৯ মে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক স্মারকলিপি প্রদান ও ৩১ মে, শনিবার সাবেক-বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল ও সরিষাবাড়ী কলেজ জাতীয়করণে জোর দাবিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
কলেজে গভর্নিং বডির সদস্য প্রভাষক খায়রুল আলম শ্যামলের পরিচালনায় ও অধ্যক্ষ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আমিমুল এহছান শাহীনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমেদ।
সময় বক্তব্য রাখেন মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আব্দুল বারী, সরিষাবাড়ী কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য লাবিব উদ্দিন তালুকদার লিটন, জেলা বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল, সহ-দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পিন্টু, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম সাইদুল হাসান শিপন, অধ্যাপক শেখ হোসেন জামান জুয়েল, সাবেক ভিপি বিকাশ চন্দ্র সাহা লিটন, সাবেক জিএস রবিউল ইসলাম, সাবেক এ জি এস জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ছাত্রনেতা হাফিজুর রহমান মিলন।
মমিনুল ইসলাম কিসমত : নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম 



















