ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত সাবেক সচিব ইহসানুল হকের সভায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর উপস্থিতি, অত:পর… যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হিট স্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যুু সরিষাবাড়ীতে আব্দুল জলিল চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ভিউ প্রতিযোগিতার নামে অপসাংবাদিকতা বন্ধের আহ্বান আতিকুর রহমান রুমনের মূলধারার গণমাধ্যমের পেশা চর্চায় অনৈতিক বাধা মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ : তথ্যমন্ত্রী মাদারগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী : জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যােগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জামালপুর পৌরসভায় জলাবদ্ধতা, মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়তে হয় অন্য এলাকায়

জামালপুর পৌরসভার পূর্ব হাটচন্দ্রায় জলাবদ্ধতা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হওয়ায় জামালপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাটচন্দ্রা, পলাশতলা, বগলাবাড়ি ও কাজিরআখ এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সারা এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়তে হয় অন্য এলাকা মিয়াবাড়ি মাদরাসা মাঠে। তাই এলাকাবাসী ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসকসহ পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক দুইটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন।

এলাকাবাসীরা জানায়, জামালপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাটচন্দ্রা, পলাশতলা, বগলাবাড়ি ও কাজিরআখ এলাকার প্রায় ছয়শতাধিক পরিবারের অন্তত ৩ হাজার মানুষকে বর্ষা এলেই জমে থাকা কোমর পানিতে বসবাস করতে হয়। বসতভিটা ও রাস্তাঘাট জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত পানির নীচে তলিয়ে থাকে। পৌর বাসী পানিতে বসবাস করাসহ চলাফেরায় নাকানিচুবানি খেতে হয়। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু বয়বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী ও মুমুর্ষূ রোগীদের চিকিৎসায় যাতাযাতে ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাছাড়া জলাবদ্ধ পানিতে ভেসে আসা ময়লা, আর্বজনার দুর্গন্ধ পরিবেশ মানব শরীরের জন্য কতটা যে ক্ষতিকর, তা আধুনিক যুগে অজানা কারোর নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এ নিয়ে যেন পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিগত সরকারের মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা পানির গতিপথ রুদ্ধ করে হাঁস-মুরগি, গরুর খামার এমনকি মাছ চাষ করতে গিয়ে পানির গতিপথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সরকারি রাস্তায় ব্রিজ কালভাট থাকলেও ত অকেজু হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে জলাব্ধতা দেখা দিয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে জমে থাকা পানি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসির দাবী,এই মুহুর্তে পাকা ড্রেন করা সম্ভব না হলেও কাঁচা ড্রেন করে অথবা পানি প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

জামালপুর পৌরসভার পূর্ব হাটচন্দ্রায় জলাবদ্ধতা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

এ ব্যাপারে পৌরসভার পূর্ব হাটচন্দ্রার হারেজ আলী বলেন, বৃষ্টির ৬ মাস জলাবদ্ধতায় এলাকার কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজা নামাজ পড়ার কোন জায়গা নেই। তাই মৃতদেহ অন্যত্র (মিয়া বাড়ি মসজিদ মাদরাসা মাঠে) নিয়ে জানাজা পড়তে হয়। পলাশতলা সাবেক মহিলা কাউন্সিলর মোছা. জয়বানু, মোহসিন আলী, বগলাবাড়ি বাদশা মিয়া, কাজিরআখ এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান আলী, জয়নাল আবেদিন, ময়নাল হোসেন বলেন, বর্ষাকাল এলেই বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিগত সরকারের সমর্থিত প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি গরুর খামার, মুরগির খামার ও মৎস্য প্রকপ্লের নামে পানি নিষ্কাশনের গতিপথ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে প্রায় ৬ মাস এলাকার বাড়ি-ঘরসহ হাজার একর কৃষিজমি পানির নীচে তলিয়ে থাকে।

অপরদিকে অন্য কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি ঘরে ঘরে পানি থাকায় আমাদের এলাকার শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। এছাড়া জলাবদ্ধতার সময় কেউ মৃত্যুবরণ করলে জানাজা নামাজ পড়ার কোন শুকনো জায়গা নেই। তাই মৃতদেহ অন্যত্র নিয়ে জানাজার নামাজ পড়তে হয়। বয়োবৃদ্ধ গর্ভবতীনারীসহ অসুস্থ্ রোগীদের চিকিৎসায় যাতায়াত করতে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে আমাদের।

তারা আরো বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে হাস, মুরগি, গরুবাছুর পালন করাসহ প্রায় হাজার একর ফসলি কৃষি জমিতে কৃষিকার্য্য চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে বিগত দিনে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বহু বার আবেদন নিবেদন আকুতি মিনতি করে সুফল পাননি তারা। পৌর কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বস্ত করে থাকেন। কিন্তু জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোন প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে এলাকাবাসী পরিবার পরিজন নিয়ে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছি আমরা।

এ ব্যাপারে জামালপুর পৌরসভার বর্তমান পৌর প্রশাসক ও ডিডিএলজি মৌসুমী খানমের সাথে স্মারকলিপি পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো আমি হাতে পাইনি, তবে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী হাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন স্মারকলিপি পেয়েছি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

জামালপুর পৌরসভায় জলাবদ্ধতা, মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়তে হয় অন্য এলাকায়

আপডেট সময় ০৯:৪৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪

টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হওয়ায় জামালপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাটচন্দ্রা, পলাশতলা, বগলাবাড়ি ও কাজিরআখ এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সারা এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়তে হয় অন্য এলাকা মিয়াবাড়ি মাদরাসা মাঠে। তাই এলাকাবাসী ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসকসহ পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক দুইটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন।

এলাকাবাসীরা জানায়, জামালপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাটচন্দ্রা, পলাশতলা, বগলাবাড়ি ও কাজিরআখ এলাকার প্রায় ছয়শতাধিক পরিবারের অন্তত ৩ হাজার মানুষকে বর্ষা এলেই জমে থাকা কোমর পানিতে বসবাস করতে হয়। বসতভিটা ও রাস্তাঘাট জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত পানির নীচে তলিয়ে থাকে। পৌর বাসী পানিতে বসবাস করাসহ চলাফেরায় নাকানিচুবানি খেতে হয়। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু বয়বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী ও মুমুর্ষূ রোগীদের চিকিৎসায় যাতাযাতে ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাছাড়া জলাবদ্ধ পানিতে ভেসে আসা ময়লা, আর্বজনার দুর্গন্ধ পরিবেশ মানব শরীরের জন্য কতটা যে ক্ষতিকর, তা আধুনিক যুগে অজানা কারোর নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এ নিয়ে যেন পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিগত সরকারের মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা পানির গতিপথ রুদ্ধ করে হাঁস-মুরগি, গরুর খামার এমনকি মাছ চাষ করতে গিয়ে পানির গতিপথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সরকারি রাস্তায় ব্রিজ কালভাট থাকলেও ত অকেজু হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে জলাব্ধতা দেখা দিয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে জমে থাকা পানি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসির দাবী,এই মুহুর্তে পাকা ড্রেন করা সম্ভব না হলেও কাঁচা ড্রেন করে অথবা পানি প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

জামালপুর পৌরসভার পূর্ব হাটচন্দ্রায় জলাবদ্ধতা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

এ ব্যাপারে পৌরসভার পূর্ব হাটচন্দ্রার হারেজ আলী বলেন, বৃষ্টির ৬ মাস জলাবদ্ধতায় এলাকার কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজা নামাজ পড়ার কোন জায়গা নেই। তাই মৃতদেহ অন্যত্র (মিয়া বাড়ি মসজিদ মাদরাসা মাঠে) নিয়ে জানাজা পড়তে হয়। পলাশতলা সাবেক মহিলা কাউন্সিলর মোছা. জয়বানু, মোহসিন আলী, বগলাবাড়ি বাদশা মিয়া, কাজিরআখ এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান আলী, জয়নাল আবেদিন, ময়নাল হোসেন বলেন, বর্ষাকাল এলেই বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিগত সরকারের সমর্থিত প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি গরুর খামার, মুরগির খামার ও মৎস্য প্রকপ্লের নামে পানি নিষ্কাশনের গতিপথ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে প্রায় ৬ মাস এলাকার বাড়ি-ঘরসহ হাজার একর কৃষিজমি পানির নীচে তলিয়ে থাকে।

অপরদিকে অন্য কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি ঘরে ঘরে পানি থাকায় আমাদের এলাকার শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। এছাড়া জলাবদ্ধতার সময় কেউ মৃত্যুবরণ করলে জানাজা নামাজ পড়ার কোন শুকনো জায়গা নেই। তাই মৃতদেহ অন্যত্র নিয়ে জানাজার নামাজ পড়তে হয়। বয়োবৃদ্ধ গর্ভবতীনারীসহ অসুস্থ্ রোগীদের চিকিৎসায় যাতায়াত করতে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে আমাদের।

তারা আরো বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে হাস, মুরগি, গরুবাছুর পালন করাসহ প্রায় হাজার একর ফসলি কৃষি জমিতে কৃষিকার্য্য চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে বিগত দিনে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বহু বার আবেদন নিবেদন আকুতি মিনতি করে সুফল পাননি তারা। পৌর কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বস্ত করে থাকেন। কিন্তু জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোন প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে এলাকাবাসী পরিবার পরিজন নিয়ে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছি আমরা।

এ ব্যাপারে জামালপুর পৌরসভার বর্তমান পৌর প্রশাসক ও ডিডিএলজি মৌসুমী খানমের সাথে স্মারকলিপি পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো আমি হাতে পাইনি, তবে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী হাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন স্মারকলিপি পেয়েছি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান।